FIFA World Cup, Argentina: ‘আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপটা দিয়ে দিলেই হয়…’ ম্যাচ হেরে রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মিশরের ফুটবলাররা!

Argentina vs Egypt Referee: কেন বারবার আর্জেন্টিনার ম্যাচেই রেফারিং এর গন্ডগোল হয়? অতীতেও ১৯৮৬ সালে মারাদোনার হাত দিয়ে গোলের কথা আজও টাটকা ক্রীড়াজগতে। কিন্তু তখন না হয় ভার ছিল না, এতো প্রযুক্তি ছিল না। এখন তো আছে, তাহলে সেই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে না কেন? এই বিষয়েই ক্ষুব্ধ নেটিজেনরা।

FIFA World Cup, Argentina: আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপটা দিয়ে দিলেই হয়... ম্যাচ হেরে রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মিশরের ফুটবলাররা!
আবার রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন উঠল।Image Credit source: Getty Images

| Edited By: Moumita Das

Jul 08, 2026 | 10:47 AM

আমেরিকা : আর্জেন্টিনার (Argentina) ম্যাচ মানেই পক্ষপাতিত্ব হবেই। এমনই গুরুতর অভিযোগ তুলে ম্যাচ হেরে রেফারিকে কাঠগড়ায় তুললেন মিশরের কোচ হোসেন হাসান (Hossain Hassan)। গতকাল ৭৯ মিনিট অবধি ২-০ এগিয়ে থেকেও পরের ১৩ মিনিটে ৩ গোল খেয়ে বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) থেকে ছিটকে গিয়েছে মিশর (Egypt) । এরপর থেকেই রেফারিং-এর মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। অনেকেই দাবি করছেন, আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলের সময় আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার ফাউল করেছিলেন সালাহকে (Mo Salah) । কিন্তু রেফারি (Francois Letexier) ভার (VAR) চেক না করেই খেলা চালিয়ে যান। সেখান থেকেই বল নিয়ে তৃতীয় গোল করে ম্যাচে জিতে যায় আর্জেন্টিনা। এবার সেই বিষয়েই প্রশ্ন তুলছেন মিশর কোচ ও দলের গোলদাতা জিকো (Mostafa Ziko)।

তখন ম্যাচে এগিয়ে ১-০ এগিয়ে মিশর। কিছুক্ষন আগেই মিশরের একটি গোল বাতিল করেছেন রেফারি। কারণ? লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে ফাউল করার পর কাউন্টার আক্রমণ করে গোল করে মিশর যা নাকি রেফারির মতে অবৈধ। আবার, এর কিছুক্ষন পরেই আবার গোল করেন জিকো। ২-০ এগিয়ে যায় মিশর। এরপর থেকেই শুরু হয় আর্জেন্টিনার ম্যাচে ফেরা। ৬ মিনিটের মধ্যে ২ গোল শোধ করে ২-২ করে ফেলেছেন মেসিরা। ৯০+৩ মিনিটের মাথায় আবার নাটক। আর্জেন্টিনার বক্সে মহম্মদ সালাহকে ফাউল করা হল কিন্তু রেফারি খেলা চালিয়ে যান। সেই আক্রমণ থেকেই গোল করে ৩-২ এগিয়ে যান মেসিরা। ম্যাচে আর ফেরা সম্ভব হয়নি মিশরের। এরপরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন মিশরের দলের খেলোয়াড়রা ও কোচ হাসান।

মিশরের প্রশ্ন কী?

তাঁরা রেফারির এই পক্ষপাতিত্বে ক্ষুব্ধ, হতাশ। তাঁদের কথায়,“এভাবে খেলানোর কোনও অর্থ নেই। আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে দিলেই হয়। ওদের ফাউল করলে সঙ্গে সঙ্গে কার্ড বের করা হয় কিন্তু ওরা পাল্টা ফাউল করলে না ম্যাচ থামানো হয়, না কার্ড দেখানো হয়। এটা চুরি নয় তো কী? শুরু থেকেই আমাদের হারানোর চেষ্টা করছিলেন রেফারি। আর্জেন্টিনাকে আবার চ্যাম্পিয়ন করতে চায় ফিফা। যাতে মেসি বিশ্বকাপ পান, সেই জন্যেই এতো নাটক করতে হচ্ছে। এর থেকে ভাল ওদের ট্রফি দিয়ে দিক।”

ম্যাচের গোলদাতা জিকোর গলাতেও ঝরে পড়ে হতাশা। তিনি ম্যাচ শেষের পর বলেন,“রেফারি কখনওই চাননি আমরা ম্যাচ জিতি। যদি বুঝতাম ওরা নিজেদের দমে জিতেছে, তাহলে কিছু বলার থাকত না তবে ওদের রেফারি জিততে সাহায্য করেছে। আর্জেন্টিনাকে টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের শুভেচ্ছা। আমরা এই সিদ্ধান্তে হতাশ। আমাদের হারানো হয়েছে।”

কিন্তু এখানেই উঠছে প্রশ্ন। কেন বারবার আর্জেন্টিনার ম্যাচেই রেফারিং এর গন্ডগোল হয়? প্রথম ম্যাচেও মেসির ন্যায্য ফাউল দেননি রেফারি। এবার আবার এই ভয়ঙ্কর ঘটনা। তবে নেটিজেনরা এখনও বুঝতে পারছেন না, কেন তৃতীয় গোলের পর ভার চেক করলেন না রেফারি? অতীতেও ১৯৮৬ সালে মারাদোনার হাত দিয়ে গোলের কথা আজও টাটকা ক্রীড়াজগতে। কিন্তু তখন না হয় ভার ছিল না, এতো প্রযুক্তি ছিল না। এখন তো আছে, তাহলে সেই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে না কেন? এই বিষয়েই ক্ষুব্ধ নেটিজেনরা। ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়াতে আর্জেন্টিনাকে ‘কমিটির টিম’ বলে কটাক্ষ করছেন তাঁরা। তবে রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও এটা মানতেই হবে, আর্জেন্টিনার এই কামব্যাক দুরন্ত, অভাবনীয়। এই জয়ের ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবেন মেসিরা। তবে সেই ম্যাচেও কি রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন উঠবে নাকি সুস্থ রেফারিং দেখবেন দর্শকরা? সেই বিষয়েই প্রশ্ন রয়ে গেল।

Follow Us