
আমেরিকা : বিশ্বকাপ (Fifa World Cup 2026) মানেই একের পর এক চমক, নতুন কিছু দর্শকদের উপহার। তবে এবার বিশ্বকাপে এক বড় পরিবর্তন এনেছে ফিফা (FIFA)। এই পরিবর্তন আসলে আনা হয়েছে ম্যান অফ দা ম্যাচ (Player of the match) পুরস্কার দেওয়ার সময়। এবারের বিশ্বকাপে অনলাইনে ভোট দিয়ে সমর্থকরাই প্লেয়ার অফ দা ম্যাচ নির্বাচন করছেন। এই পুরস্কার দেওয়াতে ফিফাকে সহায়তা করছে মাইকেলব আলট্রা (Michelob ULTRA) নামক একটি ব্র্যান্ড।
সাধারণত, ম্যাচ সেরার পুরস্কার নেওয়ার সময় পুরস্কারজয়ী ফুটবলার ট্রফি হাতে স্পন্সরের নামের ব্যাকড্রপের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন। তাঁদের ট্রফিতেও থাকে স্পন্সরের নাম। পরে সেই ছবিগুলি ফিফা নিজেদের সমাজমাধ্যমে আপলোড করে। এবার একটি ছোট্ট পরিবর্তন আনা হয়েছে এই পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান নিয়ে। এর পিছনে রয়েছে একটি ধর্মীয় কারণ। এই জন্যই ফিফা মূলত মুসলিম প্লেয়ারদের জন্য এই পরিবর্তন করেছে। যেহেতু এই ব্র্যান্ড একটি মাদক ব্র্যান্ড এবং ইসলাম ধর্মে মদ্যপান নিষিদ্ধ, তাই এই পরিবর্তন ফিফার। বিভিন্ন মুসলিম প্রধান দেশে মদ্যপান নিয়ে কড়া আইন রয়েছে। তাই কোনও মুসলিম ফুটবলার যদি ম্যাচের সেরা হন, তাঁর পুরস্কারের ব্যাকড্রপ থেকে ওই কোম্পানির নাম সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই এই নিয়ম প্রয়োগ হয়েছে কানাডার ইসমাইল কোনে, কাতারের মাহমুদ আবুনাদা, ইসমাইল সাইবাড়িদের উপর। মুসলিম ফুটবলরদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে এই Michelob ULTRA কোম্পানি-র নাম দেখানোর পরিবর্তে ব্যাকড্রপে শুধু লেখা Superior player of the match ও তার সঙ্গে ফিফা বিশ্বকাপের লোগো রাখা হচ্ছে। ট্রফির নকশা এক থাকলেও তা থেকে সরে যাচ্ছে Michelob ULTRA কোম্পানির নাম।
আগের দুটি বিশ্বকাপে প্লেয়ার অফ দা ম্যাচ পুরস্কার দেওয়ার ক্ষেত্রে সরাসরি যুক্ত ছিল Budweiser নামে একটি বিয়ার প্রস্তুতকারী সংস্থা। ২০১৮ বিশ্বকাপে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর মিশরের গোলকিপার মহম্মদ আল শেনাওই এই কারণেই এই পুরস্কার নিতে অস্বীকার করেছিলেন। ২০২২ সালে কিলিয়ান এমবাপেও ম্যাচের সেরা হওয়ার পর এই পুরস্কারে মদ প্রস্তুতকারক সংস্থার লোগোতে হাত দিয়ে ঢেকে রেখেছিলেন। কারণ, তিনি কোনও মদ বা জুয়া সংস্থার হয়ে কোনও বিজ্ঞাপনী প্রচার করবেন না। এমনকি ঘরোয়া ফুটবলেও এখন অনেক নিয়ম বদল হয়েছে। এখন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রেই শ্যাম্পেনের বদলে নন অ্যালকোহলিক শ্যাম্পেন ব্যবহার করা হয়। তবে ফিফার এই নিয়ম ইতিমধ্যেই প্রশংসা পাচ্ছে সমাজমাধ্যমে।