
নয়াদিল্লি: ফিফার বহু চর্চিত দুর্নীতিকান্ড নিয়ে বড়সড় স্বীকারোক্তি করলেন আর্জেন্টিনার দুই স্পোর্টস মার্কেটিং কর্তা। আন্তর্জাতিক ফুটবল আধিকারিকদের ঘুষ দেওয়ার ঘটনা স্বীকার করেছেন ওই কর্তা হুগো জিনকিস ও তাঁর ছেলে মারিয়ানো জিনকিস। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবল প্রতিযোগিতার মিডিয়া ও মার্কেটিং স্বত্ব পাওয়ার জন্য তাঁরা এই ঘুষ দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
২০১৫ সালে ফিফাকে ঘিরে শুরু হয়েছিল এক বিশাল দুর্নীতি। সেসময় ফিফা, কনকাকাফ ও কনমেবল – এই তিন সংস্থার ম্যাচ ঘিরে ওঠে বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ। ২০১৫ সালে একটি পাঁচতারা হোটেল থেকে ফিফার ৭জন আধিকারিককে গ্রেফতার করা হয়। এমনকি ফিফা সভাপতির পদ থেকে বিতাড়িত করা হয় শেপ ব্লাটারকে। সেই বিষয়েই এবার মুখ খুলে বাবা-ছেলে জানিয়েছেন, তাঁরা সেই সময় ফিফা আধিকারিকদের কোটি কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছিলেন। আদালতে দেওয়া নথি অনুযায়ী, হুগো ও মারিয়ানো মার্কিন প্রসিকিউটরদের সঙ্গে একটি Deferred Prosecution Agreement করেছেন। এর ফলে তাঁদের বিরুদ্ধে থাকা প্রতারণার অভিযোগ প্রত্যাহার করা হবে। তবে তার বিনিময়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ বাজেয়াপ্ত করবেন অফিসাররা। শোনা গিয়েছে, মোট ৫ কোটি মার্কিন ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪২০ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করা হবে।
আর্জেন্টিনার স্পোর্টস মার্কেটিং সংস্থা Full Play-এর সহ মালিক হুগো ও মারিয়ানো। আদালতে জমা দেওয়া নথিতে বলা হয়েছে, তাঁরা আন্তর্জাতিক ফুটবল আধিকারিকদের ১০ কোটি ডলারের বেশি বাণিজ্যিক ঘুষ দিয়েছিলেন। এর বিনিময়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার লাভজনক মিডিয়া ও মার্কেটিং স্বত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে আধিকারিকদের সমর্থন আদায় করতেন তাঁরা। এমনকি ঘুষ দিয়ে বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বের ম্যাচ ও কোপা আমেরিকা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফুটবল প্রতিযোগিতার সম্প্রচার ও বানিজ্যিক স্বত্ব পাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে তদন্তে জানা গিয়েছে। ২০১৫ সালে এই তদন্ত গোটা ফুটবল বিশ্বকাপে তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল। ফিফার একাধিক শীর্ষকর্তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠে আসে। তবে এবার এই দুই আর্জেন্টাইনের অভিযোগে এই তদন্ত এবার অন্য দিকে মোড় নেয় কিনা, এটাই দেখার।