
আমেরিকা : বিতর্ক কি থামবে না বিশ্বকাপ (FIFA World Cup) নিয়ে? কখনও মাঠে বা কখনও মাঠের বাইরে – নানা বিষয় নিয়ে বিতর্ক লেগেই রয়েছে। তবে এবার যা ঘটেছে, তা আরও অবমাননাসূচক, আরও ভয়ঙ্কর। বিশ্বকাপের ম্যাচ চলাকালীন বর্ণবৈষম্যমূলক কমেন্টের শিকার হয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ও গেমার আইশোস্পিড (Ishowspeed)। গত সপ্তাহে তিনি গিয়েছিলেন আর্জেন্টিনা (Argentina) বনাম কেপ ভার্দের (Cabo Verde) ম্যাচ দেখতে। সেখানেই তাঁর সঙ্গে এরকম বর্ণবিদ্বেষমূলক কমেন্ট করেন এক আর্জেন্টিনা সমর্থক। এই বিষয়েই এবার তদন্ত শুরু করেছে ফিফা (FIFA)।
কে এই আইশোস্পিড?
আসল নাম ড্যারেন জেসন ওয়াটকিন্স জুনিয়র (Darren Jason Watkins Jr.)। ২১ বছর বয়সী এই আমেরিকান যুবক পরিচিত এই নামেই। তিনি ইউটিউবে বিভিন্ন গেম ও ভিডিও লাইভ স্ট্রিম করেন এই আইশোস্পিড নামেই। ইউটিউবে তাঁর সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা ৫ কোটিরও বেশি। ইনস্টাগ্রামে তাঁর ফলোয়ার প্রায় ৪.৫ কোটির কাছাকাছি। তিনি মূলত পরিচিত তাঁর অতিরঞ্জিত প্রতিক্রিয়া ও হাস্যরসাত্মক আচরণের জন্য। গত বছর তিনি এসেছিলেন ভারতেও। তিনি মূলত ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর (Cristiano Ronaldo) ভক্ত হিসেবে তবে এই বিশ্বকাপে তিনি ফিফা, ইউটিউব ও ফক্স স্পোর্টস-এর সহযোগিতায় অফিশিয়াল কন্ট্র্যাক্টের মাধ্যমে মাঠে গিয়ে ভিআইপি দর্শকের মতো খেলা দেখছেন।
FIFA strongly condemns racism, hate and discrimination in all forms. These actions have no place in football, at the FIFA World Cup, or anywhere in society.
FIFA was made aware of an incident involving a supporter and #IShowSpeed at Miami Stadium during the Argentina vs Cabo… pic.twitter.com/iUUJ1kRZev
— FIFA Media (@fifamedia) July 7, 2026
আর্জেন্টিনার ম্যাচ চলাকালীন আইশোস্পিড নিজের কাজ করছিলেন। তখনই একজন আর্জেন্টিনা সমর্থক তাঁকে উদ্দেশ্য করে বাঁদরের অঙ্গভঙ্গি করেন ও বলেন,”যাও, চিড়িয়াখানায় গিয়ে কাঁদো।” এরপরেই ফিফা বিবৃতি দিয়ে জানায়, “ফিফা সব ধরণের বর্ণবিদ্বেষ, ঘৃণা ও বৈষম্যের তীব্র নিন্দা জানায়। ফুটবল, ফিফা বিশ্বকাপ বা সমাজের কোথাও এই ধরণের আচরণের কোনও জায়গা নেই। বিশ্বকাপ মানেই বিশ্বের নানা দেশ, সমাজ, সংস্কৃতির সঙ্গমস্থল। যারা এই মঞ্চকে কলুষিত করতে চায়, তাদের বিশ্বকাপের মঞ্চে কোনও স্থান নেই।”
এই বিষয়েই ফিফা তদন্ত শুরু করলেও এখনও বিশেষ কিছু বলেনি। এই বিষয়ে স্পিড ও তাঁর টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁদের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কিন্তু এই বর্ণবৈষম্যমূলক প্রতিক্রিয়া আবার বিশ্বকাপের সাফল্যের দুধে একটু হলেও চোনা ফেলে দিল।