
কানসাস : ২০১৪ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর পুনরাবৃত্তির অর্থ যে ফলেরও পুনরাবৃত্তি হবে, এ বোধহয় অনেকেই আশা করেছিলেন। তাঁদের সেই আশা পূর্ণ হল। জয় পেল আর্জেন্টিনা। কিন্তু অনেক কাঠখড় পোড়াতে হল মেসিদের। ১১১ মিনিট অবধি শুধুই হতাশা। কেন সুইস ডিফেন্স ভাঙতে পারছেন না মেসিরা? কেন বারবার লক্ষ্যের সামনে গিয়েও ফিরে আসতে হচ্ছে লাউতারোদের? কিন্তু সব প্রশ্নের উত্তরেরই একটা সময় থাকে। তাই যে সুইজারল্যান্ড ৭২ মিনিটের মাথায় ১০ জন হওয়ার পরেও অসম লড়াই করল, তাদেরও ডিফেন্স হার মানে। বিশ্বাসভঙ্গ করে বিস্বস্ত কোবেলের হাত। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হলেও জয় পায় আর্জেন্টিনা।
শুরু থেকেই আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে শুরু করেছিল সুইজারল্যান্ড। দেড় মিনিটের মাথায় তাদের প্রথম গোলের সুযোগ এলেও তা ব্যর্থ হয়। তবে ১০ মিনিটের মাথায় প্রথম গোলের দেখা পেল মেসির দেশ। পরপর দুটো কর্নার পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয় কর্নারে এল গোল। লিও মেসির নেওয়া কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে মাথা ছুইঁয়ে গোল করে যান ম্যাক অ্যালিস্টার। এটাই এই বিশ্বকাপে মেসিদের দ্রুততম গোল। এরপর থেকেই দুই দলই আক্রমণ শানালেও খুব একটা লাভবান হয়নি কেউই। তবে ৬৭ মিনিটে সমতা ফেরাল সুইজারল্যান্ড। রিকার্ডো রদ্রিগেজের সঙ্গে দুর্দান্ত এক যুগলবন্দীতে গোল করে গেলেন এন্ডোয়ে।
তবে নাটক তখনও বাকি ছিল। ৭২ মিনিটের মাথায় মাঠে ছিটকে যাওয়ার অভিনয় করে পড়ে যান এমবোলো। ভার দেখে তাঁকে ম্যাচের দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। ফলে একই ম্যাচে দুই হলুদ কার্ড দেখার ফলে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে। ৭২ মিনিটে সেই যে ১০ জন হয়ে গেল সুইজারল্যান্ড, তারই ফল যেন ভুগল তারা। কিন্তু এখানেও সুইজারল্যান্ডের প্রশংসা করতেই হবে। যেভাবে বাকি সময়টা আর্জেন্টিনাকে আটকে রাখল সুইস ব্রিগেড, তাতে তাদের প্রশংসা প্রাপ্য।
আর্জেন্টিনার আক্রমণের সামনে তখন যেন ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল সুইসদের রক্ষণ। একের পর এক শট প্রতিহত হচ্ছিল ফাইনাল থার্ডে এসে। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে অবশেষে গোল পেল আর্জেন্টিনা। ব্যক্তিগত দক্ষতায় গোল করলেন হুলিয়ান আলভারেজ। ১১১ মিনিটের মাথায় ২-১ এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা। জানা কথা, তখন আর কোনও দলই ডিফেন্সের কথা মাথায় না এনে আক্রমণ করতে ছুটবে। হলও তাই, আক্রমণ করতে গিয়েই ডিফেন্স পুরো ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় তৃতীয় গোল হজম করতে হল সুইজারল্যান্ডকে। ১১১ মিনিট অবধি ১-১ রেখেও ১২০ মিনিটের ম্যাচের শেষে সুইজারল্যান্ড হারল ১-৩ গোলে।
তবুও, বলতে হবে, আজ একদমই ব্যর্থ মেসি। শুরুর কর্নারটুকু বাদ দিয়ে আর কোনও মেসি ম্যাজিক দেখা গেল না তাঁর। তবে এই জয়ের পর আবার বিশ্বকাপের শেষ চারে উঠে গেলেন মেসিরা। এবার তাঁদের বিরুদ্ধে হ্যারি কেন, বুকায়ো সাকাদের ইংল্যান্ড। তবে, ইংল্যান্ড আর যাই হোক , সুইজারল্যান্ডের মতো স্ট্রাইকারের অভাবে ভুগবে না। তা হয়ত খুব ভাল করেই জানেন আর্জেন্টাইন কোচ স্কালোনি।