
কলকাতা : ভাল শুরু করেও হঠাৎ খেই হারিয়েছে মোহনবাগান। ৩ ম্যাচে হারিয়েছে ৭ পয়েন্ট। সিঙ্গল লেগের প্রতিযোগিতায় ৭ পয়েন্ট হারানোয় অনেক ব্যাকফুটে মোহনবাগান। গত ম্যাচেই জামশেদপুরের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তে গোল খেয়ে জেতা ম্যাচ ড্র করেছেন লিস্টনরা। বাগান কোচ সের্জিও লোবেরা বলেছেন,”আমরা এখনো চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইতে প্রবলভাবে আছি।” এরপর থেকেই বাগানের ভুলত্রুটি গুলো প্রকট হচ্ছে।
বাগান কোচ সের্জিও লোবেরার দলের প্রধান প্রবণতা হল, দুই উইং দিয়ে উইঙ্গার উঠিয়ে গোলবক্সে বল রাখা। কিন্তু জামশেদপুরের বিরুদ্ধে স্টিফেন ইজে একাই প্রবলভাবে গতিরোধ করেছেন বাগানের এই গেমপ্ল্যানের। সাড়ে ৬ ফুটের লম্বা ডিফেন্ডার এই উঁচু বল উড়িয়েছেন একাই। তারপরেও কেন তাঁকে আটকানোর কথা ভাবল না বাগান ? প্রশ্ন উঠছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কেন দিমি ও কামিন্সকে বারবার পরের দিকে নামানো হচ্ছে ? রবসন নিজেও ফিট নয়। তাঁকে দেখে মনে হচ্ছে তিনি যেন নড়ার জায়গায় নেই। রবসনের ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন উঠছে আগেই। আগের ম্যাচে সম্পূর্ণ হতাশ করলেন ম্যাকলারেন। ৩টিও সুযোগ পেয়েও গোল আসেনি তাঁর পা থেকে। একমাত্র লিস্টন কোলাসোর বিশ্বমানের গোল ছাড়া কিছুই প্রাপ্তি নেই বাগানের। আগের ম্যাচে বাগানের ড্রয়ের জন্য ইতিমধ্যেই দায়ী করা হচ্ছে ম্যাকলারেনকে। মোহনবাগান অ্যাকাদেমির ছাত্র ঋত্বিক দাসের করা গোলে জেতা ম্যাচ ড্র করল মোহনবাগান। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, কেন ঋত্বিককে নিয়ে কোনও বাড়তি পরিকল্পনা করেনি বাগান?
এই আইএসএলে প্রত্যেকটি দল প্রত্যেক দলের বিরুদ্ধে একবার করেই খেলবে। ইতিমধ্যে ৭ পয়েন্ট নষ্ট করে প্রবল চাপে রয়েছে মোহনবাগান। মলিনাকে সরিয়ে আনা হয়েছিল সের্জিও লোবেরাকে। কিন্তু ধীরে ধীরে খেই হারাচ্ছে মোহনবাগান। এই মুহূর্তে ৭ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে এক নম্বরে মুম্বই সিটি। ৭ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে ২ নম্বরে বাগান। কিন্তু গোল পার্থক্যের বিচারে সমসংখ্যক ম্যাচ খেলে সমসংখ্যক পয়েন্ট নিয়ে ৩ ও ৪ নম্বরে জামশেদপুর ও বেঙ্গালুরু। ১১ এপ্রিল পরবর্তী ম্যাচ মোহনবাগানের। সেই ম্যাচেও জয় না এলে লোবেরার ভবিষ্যৎ অন্ধকার হতে পারে।