
– প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রাক্তন ফুটবলার
মঙ্গলবার রাতে আর্জেন্টিনা যেভাবে জিতল, সেটা অভাবনীয়। ৭৯ মিনিট অবধি ২-০ পিছিয়ে থেকে ২-৩ জয়, দুর্দান্ত। মেসি বোঝালেন, কেন তিনি বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ফুটবলারদের মধ্যে একজন। তবে এই ম্যাচেও বেশ কিছু প্রশ্ন রয়ে গেল দলটাকে নিয়ে। প্রথম, আর্জেন্টিনা কাল ম্যান টু ম্যান মার্কিং করেনি। অর্থাৎ, ম্যান এগেইনস্ট ম্যান। এই একই কভার কিন্তু কাল মিশর করেছিল, যার ফল ওরা পেয়েছিল অনেকক্ষণ। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা অনেক মিস পাস করেছে। তার ফলও ভুগতে হয়েছে মেসিদের। দ্বিতীয়, আর্জেন্টিনার ডিফেন্স কাল খুব ল্যাক করেছে। এই ডিফেন্সের ল্যাকের জন্যই দু’খানা গোল করে গেল মিশর। দুটো গোলই ভাল গোল, কিন্তু দুটোই ডিফেন্সের ভুল। অফসাইড ধরলে তিনটে। আমি জানি না কেন কাল এত ল্যাক করছিল আর্জেন্টিনার ডিফেন্স।
তবে যাকে নিয়ে বলার, সে লিও মেসি। মেসি কাল গোল করেছে, পেনাল্টি মিস করেছে কিন্তু কাল মেসিকে অন্যদিনের তুলনায় অনেক কমজোরি লেগেছে। অর্থাৎ, ওকে যেভাবে মিশরের ফুটবলাররা মার্কিং করে রেখেছিল, এটাই একটা ভয়াবহ ব্যাপার। কিন্তু মেসি তো মেসিই। যে প্রথম গোলটা ও করাল, সেটা শুধু দেখুন। বাঁ পায়ে চিপ করে কী দারুণভাবে ক্রস তুলেছিল, যার ফসল পেল ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো। এখানে মেসিকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। তার পাশাপাশি, ওর নিজের গোলটাও দুর্দান্ত। এখানেই প্রমাণ হয়, মেসি সবার উর্ধ্বে। কিন্তু যেভাবে মেসিকে বারবার মার্ক করা হচ্ছিল, সত্যিই আমি ভয় পেয়েছি। তবে একটা কথা বলতেই হয়, আর্জেন্টিনার ডিফেন্সের ভুলটা বারবার চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে গেল মিশর।
এর পাশাপাশি আমি সত্যিই বুঝতে পারছি না কেন রেফারিং নিয়ে এত কথা হচ্ছে। তৃতীয় গোল নিয়ে এত কথা কেন? ওখানে সত্যিই তো ওটা ফাউল হয় না। এখন প্রযুক্তি এত এগিয়ে গিয়েছে, এখন আর ভুল ধরার কোনও জায়গাই নেই। রেফারি যদি মনে করতেন, তাহলে তো অবশ্যই গোল বাতিল করতেই পারতেন। ওটা কোনও ব্যাপার না। আসলে, হেরে গেলে অনেকে অনেক কথা বলে কিন্তু গোলটা জেনুইন গোল ছিল।
আসলে একটা জিনিস বুঝতে হবে, ডিফেন্সের ভুলটা খুব বড় ভুল। এই ভুল না শোধরালে দল ভুগবেই। রোজ রোজ কখনোই একটা দল ২-০ পিছিয়ে থেকে ২-৩ জিতবে না। তার জন্য দরকার পরিকল্পনার। আর্জেন্টিনার দুই সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারের মধ্যে অনেকটা গ্যাপ হয়ে যাচ্ছে ফলে যে মিডফিল্ডাররা আগে সাপোর্ট দিত, এখন সেটা দিতে পারছে না। আগে সবাই ডিফেন্সে নামতে পারত, এখন আর পারছে না ফলে যা ভোগালো কেপ ভার্দে ও মিশর – দুই ম্যাচেই।
একটা জিনিস মানতেই হবে, এবার মেসি দলকে একা টানছে। যেটা পর্তুগাল ও ব্রাজিলের থেকে আলাদা করছে আর্জেন্টিনাকে। রোনাল্ডোর এখন ৪১ বছর বয়স, ও এখন অস্তমিত সূর্য। রোনাল্ডোকে দেখে মনেই হয়নি এই লোকটা কিছু করতে পারবে। গোটা মাঠে স্রেফ দাঁড়িয়ে রইল। আর নেইমার তো এই বিশ্বকাপে নিজেকে প্রমাণ করার জায়গাই পেল না। চোটে চোটে ওর বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেল। একটা গোল যদিও বা পেয়েছে, কিন্তু তাও ওটা সান্ত্বনা পুরস্কার। কিন্তু এই সবকিছু ছাপিয়ে মেসি উঠে আসছে এই বয়সেও। এখনই ৮ খানা গোল করল। এই বয়সে গোল্ডেন বুটের দাবিদার হওয়া মুখের কথা নয়।
তবে আর্জেন্টিনা ছাড়াও আরও তিনটে দল আমার কাছে বিশ্বকাপ জয়ের দাবিদার হবে। তারা হল স্পেন, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড। ফ্রান্স খুব ভাল জায়গায় রয়েছে, এমবাপে ভাল খেলছে, ৭ খানা গোল করে ফেলল। এছাড়াও স্পেন একজন দাবিদার যদিও, ওদের ফিনিশিংটা একটি সমস্যা, যা ওদের শুধরোতে হবে। তবে ইংল্যান্ডের স্ট্রাইকার অনেকে। ওদের ফরোয়ার্ডরা ফর্মে আছে ফলে ইংল্যান্ড আমার কাছে একটু হলেও এগিয়ে থাকবে। কিন্তু আর্জেন্টিনার এবার বিশ্বকাপ জেতার একটা সুযোগ রয়েছে। প্রধান কারণ? অবশ্যই মেসির বাঁ পা।