DR Congo Yoane Wissa: অ্যাসিডে আক্রান্ত থেকে পর্তুগালের বিরুদ্ধে গোল, উইসার কাহিনী শুনে চোখে জল আসবে আপনারও!

Yoane Wissa: ২০২১ সালে ফরাসি ক্লাব লরিয়েন্ট থেকে ব্রেন্টফোর্ডে সই করেছিলেন উইসা। সেটা তাঁর জীবনের স্বপ্নপূরণের বছর কারণ প্রথমবার ইপিএলের ক্লাবে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন উইসা। এবছরেই ঘটল দুর্ঘটনা। স্বপ্নপূরণের বছরেই কোনওরকমে মৃত্যুমুখ থেকে ফিরে এলেন তিনি।

DR Congo Yoane Wissa: অ্যাসিডে আক্রান্ত থেকে পর্তুগালের বিরুদ্ধে গোল, উইসার কাহিনী শুনে চোখে জল আসবে আপনারও!
যোহান উইসাImage Credit source: Getty Images

| Edited By: Moumita Das

Jun 18, 2026 | 4:22 PM

হিউস্টন: বিশ্বকাপ মানেই রূপকথা। বিশ্বকাপ মানেই এমন কিছু কাহিনী, যা গায়ে কাঁটা দেবে শুনলেই। অতীতে বিশ্বকাপের মঞ্চ এমন অনেক নায়কের জন্ম দিয়েছে, যাঁরা নিজেদের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে গোটা বিশ্বের সামনে নায়ক হয়ে গিয়েছেন। তেমনই একজন যোয়ান উইসা। এই উইসার করা গোলেই বিশ্বকাপের মঞ্চে পর্তুগালকে আটকে দিল কঙ্গো। সেই কঙ্গো, যারা ৫২ বছর পর আবার বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল। এই কঙ্গো, যারা অতীতে একটাও গোল করতে পারেনি বিশ্বকাপের মঞ্চে। এই কঙ্গোর নায়ক হয়ে গেলেন উইসা। কিন্তু তাঁর নিজের জীবনে ঘটেছিল এক ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা। জানেন, কী হয়েছিল?

যোয়ান উইসা। এক অ্যাসিড আক্রান্তের বেঁচে থেকে লড়াই করার অনন্য এক রূপকথা। ২০২১ সালে ফরাসি ক্লাব লরিয়েন্ট থেকে ব্রেন্টফোর্ডে সই করেছিলেন উইসা। সেটা তাঁর জীবনের স্বপ্নপূরণের বছর কারণ প্রথমবার ইপিএলের ক্লাবে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন উইসা। এবছরেই ঘটল দুর্ঘটনা। স্বপ্নপূরণের বছরেই কোনওরকমে মৃত্যুমুখ থেকে ফিরে এলেন তিনি।

একদিন ঘরের দরজা খুলতেই উইসাকে লক্ষ্য করে অ্যাসিড হামলা করেন এক মহিলা। উদ্দেশ্য ছিল উইসার মেয়েকে অপহরণ। তাঁর তৎপরতায় সম্ভব হয়নি কিন্তু উইসার জীবন অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে গিয়েছিল। সাহস করে কোর্টরুমে দাঁড়িয়ে ডিআর কঙ্গোর ফুটবলার যা বলেছিলেন, শুনলে রীতিমতো শিহরিত হতে হয়।

উইসার কথায়,“দরজা খুলতেই আমার উপর তরল জাতীয় কিছু ছোড়া হয়। যন্ত্রনায় আমি চিৎকার করে উঠি। কিচ্ছু দেখতে পারছিলাম না। আমার স্ত্রী তড়িঘড়ি এসে কোনওমতে ব্যবস্থা নেয়। চোখ জ্বলে যাচ্ছিল। জলের ঝাপটা দেওয়াতে আরও চিড়বিড় করছিল। হাসপাতাল থেকে বলল,আমার নাকি দুটো চোখই পুড়ে গিয়েছে। কেউ একজন এসে প্রতি ঘণ্টা অন্তর আমার চোখে ভেজা কাপড় দিয়ে মুছিয়ে দিত।
সেদিনের পর থেকে একটু জোরে আওয়াজ কানে এলেই চমকে উঠি। ভয় পাই। শুধু একটাই চিন্তা মাথায় ঘোরে, আমার বাচ্চারা ঠিক আছে তো? প্রতি রাতে দুঃস্বপ্ন তাড়া করে। আমার দুটো চোখেই অস্ত্রোপচার হয়। সারা মুখে ব্যান্ডেজ বাধা থাকত। বাচ্চারা কারণ জানতে চাইত। কিন্তু ওরা এতটাই ছোট যে, ওদের বলার মতো অবকাশ ছিল না। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বাকি জীবনটা আমাকে আই ড্রপ ব্যবহার করতে হবে।
৬ মাস পর ধীরে ধীরে আমার ভিশন ক্লিয়ার হতে থাকে। দ্রুত চিকিৎসা না করলে বিপদ আরও বাড়তে পারত। এরপর থেকেই ভিড়ভাট্টা খুব একটা সহ্য করতে পারি না। এখন হাঁটলেও পিছনের দিকে বারবার ফিরে তাকাই। কেউ আমাকে ফলো করছে নাতো? এমনকি আমি আর আমার স্ত্রী সাইকোলজিস্টের কাছেও ছুটে যাই। স্ত্রী অবসাদগ্রস্ত হয়ে গিয়েছে।”

আদালতে সেদিন চোয়াল চাপা কণ্ঠে নিজের বিভীষিকাময় কাহিনী তুলে ধরেছিলেন উইসা। অভিযুক্ত হামলাকারী মহিল দোষী সাব্যস্ত হন। তাঁকে ১৮ বছরের সাজা ঘোষণা করে আদালত। তবে তাঁর স্ত্রী ও তাঁর ক্লাব ব্রেন্টফোর্ড তাঁকে এই কঠিন লড়াইয়ে লড়তে সাহায্য করে। হাসপাতালের থেকে বেড থেকে বিশ্বকাপের মঞ্চে দুরন্ত কামব্যাক করলেন। এবং একই সঙ্গে একজন অ্যাসিড আক্রান্ত লড়াকু মেজাজের খেলোয়াড়ের সাহায্যে বিশ্বকাপ ইতিহাসে ১ গোল ও ১ পয়েন্ট একদিনেই পেল কঙ্গো। কামব্যাকের গল্প তো সবসময় স্পেশাল হয়।

Follow Us