
জার্মানি – ২ (উন্দাভ ২) : আইভরি কোস্ট – ১ (কেসি)
অন্টারিও : এক যুগ। এক যুগ লেগে গেল জার্মানির (Germany Football Team) বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) গ্ৰুপ পর্ব টপকে যেতে। ২০১৪ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর ‘১৮, ‘২২ – দুই বারেই গ্ৰুপ লিগ টপকাতে পারেনি জার্মানি। দুই বারই বিদায় ঘটে গিয়েছে তুলনায় কম শক্তিশালী দলের কাছে হেরে। ২০১৮ সালে দক্ষিণ কোরিয়া (South Korea), চার বছর পর জাপান (Japan)। তবে এবার যেন শুরু থেকেই নয়া উদ্যমে নেমেছিলেন জার্মানরা। প্রথম ম্যাচে কুরাসাওকে (Curacao) ৭-১ উড়িয়ে দেওয়ার পর এবার আইভরি কোস্টকেও (Ivory Coast) ২-১ হারাল নাগেলসম্যানের (Julien Nagelsman) ছেলেরা।
যদিও শুরুটা এমন কিন্তু ছিল না। চার বারের বিশ্বজয়ীরা প্রথমে সময় নিলেও ধীরে ধীরে খেলায় ফেরা শুরু করে। এই বিশ্বকাপে আমরা শুরু থেকেই দেখছি তুলনামূলক ছোট দলগুলির পারফরম্যান্স। সেই তালিকায় যোগ হল আরও একটা নাম। আইভরি কোস্ট। প্রথমার্ধে দুরন্ত ফুটবল উপহার দিয়েছে তারা। ইয়ান দিওমান্দের কথা বলতেই হয়। ১৯ বছরের এই কিশোর এই বছর ইউরোপের সেরা কিশোর ফুটবলার হয়েছেন। কেন হয়েছেন, তা তাঁর খেলা দেখেই বোঝা যায়। বারবার আক্রমণের ফসল ফলাচ্ছিলেন তিনি। যদিও আইভরি কোস্টের দুর্দশা, সফল হচ্ছিল না তাঁদের আক্রমণ। তবে ৩০ মিনিটের মাথায় ফ্র্যাঙ্ক কেসি গোল করতেই যেন তেড়েফুঁড়ে ওঠে জার্মানি। একের পর এক আক্রমণে ঝাঁঝরা করে দিতে শুরু করে আইভরি কোস্টকে কিন্তু আইভরি কোস্টের ডিফেন্সের কাছে বারবার পরাস্ত হতে হচ্ছিল মুসিয়ালা, হ্যাভার্ৎজদের।
৬০ মিনিটে মাঠে নামেন ডেনিস উন্দাভ, নাদিম আমিরি। স্টুটগার্টের হয়ে ২৫ গোল ও ১৪টি অ্যাসিস্ট করেছেন উন্দাভ। কুরাসাওয়ের বিরুদ্ধেও গোল করেছিলেন উন্দাভ। এবার তিনি আসার পরেই ফারাক গড়ল জার্মানি। তবে ৯০ মিনিটের মাথায় সহজ সুযোগ মিস করলেন আইভরি কোস্টের আদিংরা। তারই প্রতি আক্রমণে ৯০+৪ মিনিটের মাথায় গোল করে জার্মানিকে ২-১ এগিয়ে দেন উন্দাভ। ম্যাচ শেষে এটাই স্কোর থাকে। ফলে, ১-০ পিছিয়ে থেকেও ২-১ ফলে কামব্যাক করল জার্মানি।
এই জয়ের ফলে তৃতীয় দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের রাউন্ড অফ ৩২-এ খেলা নিশ্চিত করল জার্মানরা। ইতিমধ্যেই নক আউট নিশ্চিত করে ফেলেছে দুই আয়োজক দেশ আমেরিকা ও মেক্সিকো। এবার নক আউট নিশ্চিত করল জার্মানি। তবে এখনও অনেক ফেভারিট দেশ নক আউট খেলার সুযোগ পায়নি। যেমন, পর্তুগাল কঙ্গোর বিরুদ্ধে ড্র করেছে। তাদের লড়াইতে টিকে থাকতে গেলে আগামী ম্যাচে জিততেই হবে। দুই ম্যাচ খেলে এক ম্যাচ জিতে ইতিমধ্যে রাস্তা মসৃন ব্রাজিলের। আর একটা ম্যাচ জিতলে কোয়ালিফাই করে যাবে মেসিদের আর্জেন্টিনাও। তবে স্পেন, বেলজিয়ামকেও ভাল খেলতে হবে কিন্তু একটা জিনিস মানতেই হবে, এই জার্মানি কিন্তু স্বপ্ন দেখাচ্ছে।