
কলকাতা : বেশি নয়, এই দুই সপ্তাহ আগেও ছিল বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) আমেজ। শহরের প্রতিটা রাস্তা, পাড়া ভরে উঠেছিল ব্রাজিল (Brazil), আর্জেন্টিনা (Argentina), পর্তুগালের (Portugal) পতাকায়। প্রায় সবার গায়েই নেইমার, মেসি, রোনাল্ডোদের জার্সি। কেন মেসি (Lionel Messi) গোল মিস করল বা কেন নেইমার (Neymar Jr.) খেলছে না – এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছিল আপামর শহরবাসী। কিন্তু বিশ্বকাপ শেষের পর আবার সেই পুরোনো রুটিন। আর সেই নিত্যনৈমিত্যিক রুটিনে ভাগ বসাতে চলে এসেছে মরসুমের প্রথম ডার্বি (Kolkata Derby)। আজ থেকে শুরু ডুরান্ড কাপ। আজ কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মুখোমুখি হবে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান।
এই প্রথমবার মনে হয় খেলোয়াড়দের থেকে বেশি চর্চায় রয়েছেন দুই দলের কোচরা। মোহনবাগানের প্যানাজিওটিস দিলমপেরিস এবং ইস্টবেঙ্গলের আন্তোনিও লোপেজ হাবাস – যিনি কলকাতা ময়দানে বেশ পরিচিত একটি মুখ। হাবাসের ডার্বি রেকর্ড খুব ভাল হলেও সেই নিয়ে ভাবতে চান না দিলমপেরিস। বাগান কোচের কথায়, “ফুটবল ম্যাচটা এগারো বনাম এগারো হয়। আমি আমার ফুটবলারদের উপর ভরসা রাখছি। ২,৩ দিনের মধ্যেই ডার্বি খেলা কঠিন কিন্তু আমরা চেষ্টা করেছি। আমরা জানি এটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ খেলা। আমি খুব খুশি যে প্লেয়াররা পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছে। ভালো ম্যাচ হবে। আশা করছি আমরা জিতে মাঠ ছাড়ব।” তবে বাগান কোচ খুশি যে দলের কোনও চোট-আঘাতের সমস্যা নেই। দুই বিদেশী ডেজান ড্রাজিচ ও আলবার্তো রয়েছেন দলে। কিন্তু বাগান কোচ ভরসা রাখছেন ভারতীয় ফুটবলারদের উপর। তাঁর কথায়,“আমাদের প্রস্তুতি ভাল হয়েছে কারণ কোনও চোট নেই। আমার দলে সেরা ভারতীয় ফুটবলার আছে। তাই আমি দল নিয়ে আত্মবিশ্বাসী।”
হাবাসও ভরসা রাখছেন তাঁর দেশীয় শক্তির দিকেই। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বললেন,“আমার ফুটবলাররা চেষ্টা করছে সব ঠিক করতে। এটা আইএসএল নয়, সম্পূর্ণ আলাদা একটা টুর্নামেন্ট। এর দুটো দিক আছে – ট্যাকটিকাল ও মেন্টাল। আমরা দুটো দিক নিয়েই কাজ করছি।” অতীতে বাগান সামলেও এবার মশাল বাহক হতে হয়েছে তাঁকে। মোহনবাগান ও দেশীয় স্কোয়াড নিয়েও আত্মবিশ্বাসী প্রথম আইএসএল চ্যাম্পিয়ন কোচ, “আমি অতীত নিয়ে ভাবি না। আমি সামনে তাকাই। আমাকে মোহনবাগান ফ্যানরা যা ভালবাসা দিয়েছেন, তা এখন অতীত। আমার মধ্যে কোন আবেগ নেই কারণ এটা পেশাদার দুনিয়া। আমরা তিন দিন অনুশীলন করেছি। আমি এই স্কোয়াড নিয়ে খুব খুশি। দলে অনেক তরুণ ফুটবলার আছে। অনুশীলনে ফুটবলাররা প্রতিদিন উন্নতি করছে। আমাদের দলে জাতীয় দলের যে ফুটবলাররা আছেন তাদের ভবিষ্যত খুব উজ্জ্বল।” ইস্টবেঙ্গলের দুই বিদেশী, রশিদ ও রামিরেজ রয়েছেন আজ। কিন্তু তাঁরা কি খেলবেন? যদি না খেলেন তাহলে দলের পুরো ব্যাটন থাকবে ভারতীয় খেলোয়াড়দের হাতেই। লাল-হলুদ কোচের ভরসা যদি হন জিকসন-এডমুন্ড-আনোয়াররা, তেমনই বাগানে রয়েছেন গোলকিপার বিশাল কাইথ। শুভাশীষ, মণবীর, লিস্টনরাও রয়েছেন। তাই বাগান কোচের ভরসাতেও রয়েছেন দেশীয় শক্তিরা।
একসময় সবুজ-মেরুন জনতার ভালবাসার মানুষ ছিলেন হাবাস, আজ তিনি প্রতিপক্ষ ক্লাবে। আবার, বাগানের দায়িত্ব সামলাবেন সম্পূর্ণ নতুন একজন। ডার্বি নিয়ে উত্তেজক দুই প্রধানই। তবে আজ যেহেতু একপ্রকার বিনা প্রস্তুতিতে দুই প্রধান নামছে, তাই কে এগিয়ে, কে পিছিয়ে – বলা মুশকিল। যিনি স্ট্র্যাটেজিতে এগিয়ে থাকবেন, ডুরান্ড ডার্বি তাঁর – এমনটাই মনে করছে বঙ্গ ক্রীড়ামহল।