
ব্রাজিল – ১ (ভিনি) : মরক্কো – ১ (সাইবারি)
আমেরিকা : এ কোন ব্রাজিল (Brazil)? এই ব্রাজিলের জন্যই রাত জেগে খেলা দেখলেন বহু সমর্থক? এই খেলা দেখার জন্যই ব্রাজিলের খেলা দেখা নিয়ে উন্মাদ হয়ে যাওয়া? না, এই ব্রাজিল আর যাই হোক, কখনওই সেই প্রাক-নেইমার (Neymar) যুগের ব্রাজিল নয়। অসংখ্য গোল মিসের প্রদর্শনী, দুর্বল মাঝমাঠ – ফল? মরোক্কোর (Morocco) বিরুদ্ধে ড্র। নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে (Metlife Stadium) আজ ভোর রাতে মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল ও মরক্কো। এই সেই মরক্কো, যারা চার বছর আগের কাতারে বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনাল খেলেছিল, নক আউট পর্বে হারিয়েছিল রোনাল্ডোর (Cristiano Ronaldo) পর্তুগালকে (Portugal)। তবে এই মরক্কোর কাছেই ১-১ ড্র করে আটকে গেলেন রাফিনহারা (Raphinha)।
ম্যাচ শুরুর প্রথম ২০ মিনিটেই আধিপত্য মরক্কোর। বারংবার হাকিমিদের আক্রমণে উঠে আসা আটকাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছিলেন গ্যাব্রিয়েলরা। ২১ মিনিটের মাথায় ব্রাহিম ডিয়াজের বাড়ানো বল পেয়ে অ্যালিসনের মাথার ওপর দিয়ে ছোট্ট চিপে যে গোল করে গেলেন ইসমাইল সাইবারি, তা দেখে ব্রাজিলের ডিফেন্ডারদের লজ্জা লাগাটা অস্বাভাবিক নয়। তবে এরপর থেকেই যেন ম্যাচে ফেরে সেলেকাওরা। ৩২ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে কাট করে ভেতরে ঢুকে গোলমুখী শট নেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনু বল প্রতিরোধ করতে ব্যাহত হন ফলে সমতা ফেরায় ব্রাজিল। অতীতে রিয়ালের সাদা জার্সিতে এভাবে বাহিনীকে কাট ইন করে ঢুকতে দেখেছেন বহু ক্রীড়াপ্রেমী, সেই একই গতিতে এবার ব্রাজিলকেও সমতায় ফেরালেন এই মাদ্রিদ তারকা। তবে তারপর থেকে শুধুই নিরাশা। অসংখ্য সুযোগ পেয়েছেন ভিনি, রাফিনহারা কিন্তু গোল মিস করার কোনও অদৃশ্য প্রদর্শনী চলাকালীন তাঁরা কেউই আর বল জালে ঢোকাতে পারেননি। কোন যুক্তিতে ইগোর থিয়াগো প্রায় ৭০ মিনিট খেলে গেলেন জানা নেই। যে ব্রাজিলের স্ট্রাইকার হিসেবে অতীতে আমরা দেখেছি রোনাল্ডোকে, সেই ব্রাজিলের দুর্দশা এতটাই যে ইগোর থিয়াগোর মতো মধ্যমানের স্ট্রাইকার সুযোগ পান দলে এবং ৭০ মিনিট মাঠে থাকেন।
আজ ব্রাজিলের জন্য ডিফেন্স যেন ছিল ভয়ঙ্কর দুর্বল। মার্কুইনহোস ও গ্যাব্রিয়েল মার্গেলহাস দিন কয়েক আগেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেললেন একে অপরের বিরুদ্ধে। আজ খেললেন একসঙ্গে। তবুও, বিশেষ কোনও লাভ হয়নি তাতে। সাইবারির গোলের সময় ভুল তাঁদেরই। তার সঙ্গে আজ ব্যর্থ ক্যাসেমিরোও। তাঁকে তুলে বিরতিতে ফ্যাবিনহোকে নামালেন ব্রাজিলের ইতালিয়ান কোচ, কিন্তু তাতেও বিশেষ লাভ হল না। বরং,ম্যাচের শেষ দিকে একটি দুর্দান্ত সেভ দিলেন ব্রাজিল কিপার অ্যালিসন। সেটি গোল হলে ভরাডুবি দিয়ে শুরু হত ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযান।
তবে এটাও মানতে হবে, আজ ব্রাজিল কোচ আন্সেলোত্তি নিজের দলে পাননি নেইমারকে। তিনি থাকলে হয়ত এতটা শোচনীয় হত না ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড লাইন। তবে আজকের ম্যাচে একটা জিনিস বোঝা গেল। এই ব্রাজিলকে উন্নতি করতে হবে অনেক। ডিফেন্স, মাঝমাঠ, আক্রমণ – তিন বিভাগেই আরও ক্ষুরধার হওয়া প্রয়োজন। না হলে বিশ্বকাপের ট্রফি ছোঁয়ার অপেক্ষা আরও বাড়বে। যতই হোক, নাম ভাঙিয়ে আর কত দিন?