Argentina & Left Front Controversy: মেসিদের কেরল সফরে আর্থিক অনিয়ম বামের? ED তদন্তের সুপারিশ ক্রীড়ামন্ত্রকের!

Argentina Tour 2025: তৎকালীন বাম সরকার ঘোষণা করে, নভেম্বর ২০২৫-এ কেরলমে একটি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। সেই মতো প্রচার শুরু করে দেওয়া হয়। সেই রাজ্যের একটা বড় অংশ মেসি ও আর্জেন্টিনার সমর্থন করেন। এই ঘোষণার পর স্বাভাবিকভাবেই হইচই পড়ে যায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, মেসি আসেননি। এরপর প্রতারণার অভিযোগ তোলা হয়।

Argentina & Left Front Controversy: মেসিদের কেরল সফরে আর্থিক অনিয়ম বামের? ED তদন্তের সুপারিশ ক্রীড়ামন্ত্রকের!
বিপাকে কেরলমের প্রাক্তন সরকার। Image Credit source: Getty Images

| Edited By: Moumita Das

Aug 12, 2026 | 11:40 AM

তিরুবনন্তপুরম: গত বছরের শেষার্ধে কলকাতায় ঘটে যাওয়া মেসি কেলেঙ্কারির স্মৃতি এখনও টাটকা। এর মধ্যেই আবার চর্চায় এই কেলেঙ্কারি। এবার কেরলম। গত বছর তৎকালীন রাজ্য সরকার ছিল বামেদের। কেরলম সরকার ঘোষণা করে, সেখানে খেলতে আসছে মেসি-সহ আর্জেন্টিনা দল। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আসেনি নীল-সাদা দল। কিন্তু সরকার বদলের পর বর্তমান সরকার দাবি করেছে এই সফর নাকি ভুয়ো। আর্জেন্টিনা দল নাকি নিজেরাও জানত না যে তারা কেরলমে খেলতে আসবে। এর ফলে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ইডির তদন্তের অনুরোধ করেছে বর্তমান সরকারের ক্রীড়া বিভাগ।

কী ঘটেছে?

তৎকালীন সরকার ঘোষণা করে, নভেম্বর ২০২৫-এ কেরলমে একটি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। সেই মতো প্রচার শুরু করে দেওয়া হয়। কলকাতার পর কেরলের ফুটবল সমর্থকদের উন্মাদনা নিয়েও চর্চা হয় গোটা দেশে। এর পাশাপাশি, সেই রাজ্যের একটা বড় অংশ মেসি ও আর্জেন্টিনার সমর্থন করেন। এই ঘোষণার পর স্বাভাবিকভাবেই হইচই পড়ে যায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, মেসি আসেননি। এরপর তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী বলেছিলেন,“এটা প্রতারণার সামিল। আমরা জানি, ২৫০ কোটি টাকা জোগাড় করা মুখের কথা নয়। কিন্তু, তাও আমরা জোগাড় করি কিন্তু শেষ মুহূর্তে আর্জেন্টিনা দল সফর বাতিল করল। আমরা প্রতারিত হয়েছি। সেই সময়েই বিরোধী দল কংগ্রেস পুরো ঘটনার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। কিন্তু এবার মেসিদের পুরো সফরের আয়োজন নিয়ে আর্থিক অনিয়ম ও অর্থপাচারের সম্ভাবনার অভিযোগে ইডি-কে তদন্তের সুপারিশ করা হয়েছে।

রাজ্যের স্পেশাল স্পোর্টস সেক্রেটারি এন প্রশান্ত এই বিষয়ে একটি রিপোর্ট মুখ্যমন্ত্রী ভি সতীশনের কাছে জমা দিয়েছেন। সেই রিপোর্টে বিদেশে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে Foreign Exchange Management Act লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে কংগ্রেস সরকার। রিপোর্টে বলা হয়েছে, মেসিদের কেরল সফরের জন্য একটি বেসরকারি সংস্থাকে বিদেশে প্রায় ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাঠানোর কথা জানিয়ে কেন্দ্রকে চিঠি পাঠিয়েছিল বাম সরকার। এই লেনদেনে আদৌ অর্থপাচার হচ্ছিল কিনা, তা জানানোর কথা বলা হয়েছে। রিপোর্টে এও বলা হয়েছে, এই অনুষ্ঠানের আনুমানিক খরচ ছিল ২১০ কোটি টাকা। সেখানে সম্ভাব্য আয় ধরা হয়েছিল ৮২ কোটি টাকা। অর্থাৎ খরচ ও সম্ভাব্য আয়ের মধ্যে ফারাক প্রায় ১২৮ কোটি টাকা। এই অসঙ্গতিকে হালকা ভাবে দেখতে নারাজ সরকার। এর পাশাপাশি বলা হয়েছে, তৎকালীন সরকার কোনো ওপেন টেন্ডার না ডেকেই রিপোর্টার ব্রডকাস্টিং কোম্পানিকে (Reporter Broadcasting Company) স্পনসর হিসেবে বেছে নিয়েছিল। সংস্থাটির কোনো আর্থিক ক্ষমতা বা উৎস নিয়েও কথা বলা হয়নি।

তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী ভি আব্দুররহিম। তাঁর দাবি, AFA ও স্পন্সরের মধ্যে কথা বলেই ম্যাচ আয়োজন করা হয়েছিল। রাজ্য সরকারের কোনও আর্থিক দায় ছিল না। ক্রীড়া ও অর্থ দপ্তরের অনুমতি মেনেই নাকি আর্জেন্টিনা দলকে কেরলমে আনতে চেয়েছিল পূর্বতন রাজ্য সরকার। এমনকি সব অভিযোগই মিথ্যে বলে উড়িয়ে দেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী। রিপোর্টে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ খতিয়ে দেখে ভিজিল্যান্স বা সিট গঠন করে তদন্তের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের বাইরে অর্থ পাঠানো, অর্থপাচারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে ইডিকে দিয়ে তদন্ত করতেও বলা হয়েছে। এবং যদি ইডি তদন্তে নামে, তবে বামেদের ঘোলা জল যে আরও ঘোলা হবে, তা বলাই বাহুল্য।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us