
কলকাতা: কয়েক দিন আগে থেকেই শোনা গিয়েছিল খুব সম্ভবত মেসি অবসর নেবেন। বাবার মৃত্যুর পর এতটা ভেঙে পড়েছিলেন, ফুটবল থেকেও মন তুলে নিয়েছিলেন। অনেকেই আশঙ্কা করেছিল, এবার মেসি অবসর না নিয়ে নেন। কিন্তু, সেটাই সত্যি হল। দেশের জার্সিকে চিরবিদায় জানালেন ফুটবলের রাজপুত্র লিওনেল মেসি। এর সঙ্গেই শেষ হল ২০ বছরের একটি মহাকাব্য। যার পরতে পরতে ছিল হাসি, কান্না, জয়, গ্লানির নানা অধ্যায়। পরপর দুইবার বিশ্বকাপ পেতে পেতেও পাওয়া হয়নি মেসির। কিন্তু যে সিদ্ধান্ত আজ তিনি নিলেন, তা দেখে মনে হয়, বাবার মৃত্যুতে একপ্রকার মুহ্যমান হয়ে গিয়েই প্রহেলিকা রেখে বিদায় জানালেন মেসি।
দিন দুয়েক আগেই তাঁর ক্লাব ইন্টার মায়ামির জার্সিতে করেছেন ৪ গোল। দল জিতেছে ৭-১ ফলে। তবুও, কোত্থাও কোনও রকম আন্দাজ দেননি যে ছাড়তে পারেন। তবুও, মেসির চলে যাওয়ার অর্থ আর্জেন্টিনা দলের মাথা থেকে সেই মহীরুহের পতন, যা বহুদিন বহু ঝড়-ঝাপটা থেকে বাঁচিয়ে রেখেছিল আর্জেন্টিনাকে। কিছুক্ষণ আগে সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করে মেসি জানান, “ফাইনালের পর থেকে আমি অনেক চিন্তাভাবনা করেছি এবং অবশেষে আমি জানাচ্ছি, যে আমি জাতীয় দল থেকে অবসর নিচ্ছি। এটি এমন একটি সিদ্ধান্ত যা কষ্টকর, কিন্তু আমি জানি এটাই সঠিক সময়। আমি নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি। ফুটবল খেলে আপনাদের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছি।”
এমনকি ভবিষ্যৎ নিয়েও সাফ বার্তা দিয়ে দিয়েছেন মেসি। বলেছেন, “আমার আর বিশেষ কিছু বাকি নেই। জীবনের নানা অধ্যায় ধীরে ধীরে শেষ হয়ে আসছে। জাতীয় দলে খেলাকে আমি ভালোবেসেছি, ভালোবাসি এবং চিরকাল ভালবাসব। নতুন করে দেওয়ার মতো আমার আর কিছুই নেই। বিগত ২০ বছর ধরে এই অকৃত্রিম ভালবাসার জন্য আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, আমাকে আর্জেন্টাইন বানানোর জন্য।”
এই কথাগুলো মেসি লিখেছিলেন বিশ্বকাপের পরদিন, অর্থাৎ ২১ জুলাই। কিন্তু বাবার চলে যাওয়ার পর তিনি যে এই বিষয়ে আরও নিশ্চিত, তাই জানালেন ফুটবলের রাজপুত্র। ২০০৫-২০২৬, দীর্ঘ ২১ বছরে দেশের জার্সি গায়ে ১২৫টি গোল করেছেন তিনি। ৬টি বিশ্বকাপ খেলে জিতেছেন একবার, ২০২২ সালে। এই বারেও দলকে ফাইনালে তুলেছিলেন লিও কিন্তু তাঁর দল আর্জেন্টিনা ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে। ফলে পরপর বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল তাঁর। এমনকি, এই জার্সিতেই ১৬ বছর আগে কলকাতায় খেলে গিয়েছিলেন রোসারিওর রাজপুত্র। আজ বিদায় জানাতে হল এই জার্সিকেও।
একনজরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে লিওনেল মেসি-