
আর্জেন্টিনা – ৩ (সেলসো, লাউতারো মার্টিনেজ, মেসি) : জর্ডন – ১ (আল তামারি)
ডালাস : ভাবুন তো, আর্জেন্টিনা (Argentina) বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) খেলছে আর মেসি বেঞ্চে বসে। এই দৃশ্য কবে দেখেছে নব্য ফুটবল ফ্যান? আজ দেখল। যদিও, তাতে খুব একটা যে অসুবিধে হল, তা নয়। বরং জর্ডনের (Jordan) বিরুদ্ধে আজ মাঠে নামার আগে মেসিকে নিয়ে ভাবনাই ছিল না আর্জেন্টিনা কোচ স্কালোনির (Lionel Scaloni)। তবু তিনি মাঠে নামলেন, গোল করলেন, রেকর্ড গড়লেন, রেকর্ড ভাঙলেন। রেকর্ড আর মেসি – দুটোই কি একে অন্যের সমার্থক শব্দ?
অতীতেই স্কালোনি বলেছিলেন, গ্ৰুপ পর্বে কোনও দলকেই হালকা ভাবে নিতে চায় না আর্জেন্টিনা। কিন্তু আজ কি হয়েছিল মার্টিনেজদের? কেন এরকম গা ছাড়া মনোভাব দেখছিলেন তাঁরা? কেন মেসিকে নিয়মরক্ষার ম্যাচেও নামাতে হল? স্রেফ গোলের জন্যই কি? মনে হয় না। নাকি একটা বার্তা দিতে, যে কোনও ম্যাচেই গা ছাড়া মনোভাব দেখানো যাবে না? জর্ডন আজ নিজের ভুলেই পরাস্ত হল। ১৯ মিনিটে প্রথম গোল খেল জর্ডন। বক্সের বাইরে পাওয়া ফ্রি কিক থেকে দুর্দান্ত গোল করলেন সেলসো। ৩১ মিনিটে পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনার মতোm পেনাল্টি থেকে গোল করেন লাউতারো মার্টিনেজ। মার্টিনেজের শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে হেড করেন সেনসি, যা বাঁচিয়ে দেন জর্ডনের গোলকিপার। কিন্তু, দুর্ভাগ্যবশত , সেনসির মাথায় পা লাগে জর্ডনের খেলোয়াড়ের ফলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। গোল করতে ভুল করেননি ইন্টার মিলানের এই স্ট্রাইকার।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের গা ছাড়া মনোভাবের চক্করেই গোল খেয়ে গেলেন এমিলিয়ানোরা। ৫৫ মিনিটের মাথায় জর্ডন গোল করতেই ৬০ মিনিটের মাথায় লাউতারোকে তুলে মেসিকে নামালেন স্কালোনি। ৬৪ মিনিটে ফ্রিকিক বাইরে মারলেও ৮০ মিনিটে আবার ফ্রি কিক পেল আর্জেন্টিনা এবং এবার আর ভুল করেননি মেসি। ফ্রি কিক থেকে গোল করে একদিকে তিনি যেমন বিশ্বকাপে ১৯ খানা গোল করে ফেললেন, তেমনই বিশ্বকাপ ২০২৬ এ তাঁর পা থেকে এল ৬ গোল, যা এখনও সর্বোচ্চ। ফলে জর্ডনের পরাক্রম সত্ত্বেও ৩-১ গোলে জিতে অপরাজিত হয়ে গ্ৰুপ টপ করল আর্জেন্টিনা। রাউন্ড অফ ৩২ এ তাদের প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে। তবে, যেভাবে আজকে ডিফেন্স মাঝে বাজে খেলা শুরু করেছিল, তা চিন্তায় রাখবে স্কালোনিকে।