
আমেরিকা : নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনাল শুরুর ঠিক আগে আর্জেন্টিনা দলের ড্রেসিংরুমে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে এখনও জল্পনা তুঙ্গে। ফাইনাল শুরুর কয়েক মিনিট আগে লিওনেল মেসিকে সতীর্থদের শান্ত থাকতে, সবকিছু ভুলে একাগ্র থাকার কথা বলতে দেখা গিয়েছিল। এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে কিক-অফের আগে কী ঘটেছিল, তা জানা গিয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, মেসি ড্রেসিংরুম থেকে নিজের সতীর্থদের নেতৃত্ব দিয়ে মিক্সড জোনে নিয়ে যাচ্ছেন।
মেসিকে তাঁর ম্যাচের সাদা জার্সির উপর জ্যাকেট পরে ড্রেসিংরুম থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। সেই সময় চারদিকে শোনা যাচ্ছিল, ভামোস মুচাচোস” স্লোগান। দলের সাপোর্ট স্টাফরাও করতালি ও উল্লাস করে ফুটবলারদের উৎসাহ দিচ্ছিলেন। ভিডিওতে দেখা যায়, মেসির পিছনেই হাঁটছেন তাঁর সতীর্থরা। ক্যামেরাও তাঁকেই অনুসরণ করতে থাকে। মাঠে প্রবেশের আগে দুই দলের ফুটবলাররা যেখানে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন, সেই মিক্সড জোনে পৌঁছে ইচ্ছাকৃতভাবেই স্পেন দলের ফুটবলারদের সঙ্গে একে একে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। মেসিও বেশ কয়েকজন স্পেন ফুটবলারদের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করেন, কাঁধে হাত রাখেন ও কাউকে আলিঙ্গনও করেন। বিশেষ কর, যাঁদের সঙ্গে মেসি একদা বার্সেলোনায় খেলেছেন বা যাঁদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, তাঁদের প্রতি আলাদা করে সৌহার্দ্য প্রকাশ করতে দেখা যায়।
যদিও, অনেক নেটিজেনের কথায়, ম্যাচের আগে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে নাকি উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয় কিন্তু তার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যদিও, বিরতির পরেও গোটা দলকে চাঙ্গা করতে দেখা যায় মেসিকে। ম্যাচের প্রথমার্ধেই লিসান্দ্রো মার্টিনেজ চোট পেয়ে বেরিয়ে যান ফলে একটু হলেও ব্যাকফুটে চলে যায় আর্জেন্টিনা। তারপরেই গোটা দলকে উদ্বুদ্ধ করার দায়িত্ব নেন মেসি। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে লাল কার্ড খেলেন এনজো ফার্নান্দেজ। যদিও আর্জেন্টিনা ফাইনালে একটুও সুযোগ পায়নি আক্রমণ করার। ১২০ মিনিট অবধি একটাও আক্রমণ করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। তবুও, মেসি এবং গোলকিপার এমি মার্টিনেজ – তাঁদের ছাড়া আর কাউকে আক্রমণাত্মক মনেও হয়নি। গতকাল দলের সঙ্গে না ফিরে আলাদা ভাবে নিজের শহর রোজারিওতে ফিরেছেন মেসি। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী ও তিন সন্তান। কিন্তু এর মধ্যেই টানেল বিতর্ক যেন আগুনে ঘৃতাহুতি দিচ্ছে প্রতিনিয়ত।