
কলকাতা : ১৫ নভেম্বর ১৯৮৯, করাচির ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে একসঙ্গে অভিষেক হয়েছিল ৪ জনের। সচিন তেন্ডুলকর, ওয়াকার ইউনিস ছাড়াও সেই মঞ্চে ছিলেন আরও ২ জন। একজন, শাহিদ সঈদ – যিনি ওই টেস্টের পর আর কোনও টেস্ট খেলার সুযোগ পাননি। আর ভাগ্যের সেই একই নির্মম পরিহাসের শিকার ভারতের এক তরুণ পেসার – সলিল অঙ্কোলা।
১৯৮৮-৮৯ সালে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক হয় তাঁর। গুজরাটের বিরুদ্ধে অভিষেক ম্যাচেই ব্যাট হাতে ৪৩ রান ও বল হাতে হ্যাটট্রিকসহ এক ইনিংসে ৬ উইকেট পেয়েছিলেন তিনি। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথম মরসুমেই ২৭ উইকেট পেয়ে নজর করেছিলেন নির্বাচকদের। করাচি টেস্টে অভিষেক ম্যাচেও তিনি পেয়েছিলেন ২ উইকেট। আর সেই টেস্টে পাওয়া উইকেটই তাঁর কেরিয়ার শেষ হয়ে দেয়।
টেস্টে ফিরতে না পারলেও একদিনের ক্রিকেটে অনিয়মিতভাবে দেখা গিয়েছে তাঁকে। ১৯৯৩ সালের হিরো কাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে মোহালিতে ৩৩ রানে ৩ উইকেট ছিল তাঁর কেরিয়ারের সেরা স্পেল। ১৯৯৬ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ভারতের দিল্লিতে হওয়া ম্যাচেও ছিলেন তিনি। তবে ৭ বছরের আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে খেলেছেন মাত্র ২০টি ওয়ান ডে খেলে ১৩টি উইকেটেই আটকে যায় তাঁর কেরিয়ার। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটেও ৫৪ ম্যাচে ১৮১ উইকেট পেয়েছিলেন সলিল। ক্রিকেট ছাড়ার পর অভিনয়কে পেশা করেছিলেন সলিল। একাধিক টিভি সিরিয়াল ও বলিউড সিনেমায় কাজ করেছেন তিনি। পরে ক্রিকেট প্রশাসনে ফিরে এসে মুম্বইয়ের প্রধান নির্বাচক ও ভারতীয় সিনিয়র জাতীয় দলের নির্বাচক কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
তবে এই চাকচিক্যের আড়ালে ব্যক্তিগত জীবনে কম লড়াই করেননি তিনি। সম্প্রতি পুণের এক মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে তীব্র ডিপ্রেশনের চিকিৎসা করিয়েছেন তিনি। মায়ের প্রয়াণ ও নানা ব্যক্তিগত সঙ্কটে ভেঙে পড়েছিলেন প্রাক্তন এই পেসার। তবে চিকিৎসার পর এখন অনেকটাই সুস্থ ও স্বাভাবিক তিনি। তবে ভাবতে হয়, যিনি সচিনের সঙ্গে অভিষেক করলেন, তবে একজনের কেরিয়ার পৌঁছে গেল ২৪ বছরের এক দীর্ঘ এভারেস্টে, আর একজন থেমে গেলেন মাত্র ১ টেস্টেই।