
রোসারিও : সদ্যই পিতৃবিয়োগ ঘটেছে লিওনেল মেসির। ৬৮ বছর বয়সে মেসিকে ফেলে চলে গিয়েছেন তাঁর বাবা হোর্হে মেসি। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর রোজারিওর একটি ক্লিনিকে তাঁর মৃত্যু ঘটেছে। বাবার মৃত্যুতে স্বাভাবিকভাবেই গভীর শোকে ভেঙে পড়েছেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি। তবে এর মধ্যেই নিজের কেরিয়ার নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ফুটবলের রাজপুত্র মেসি।
ফরাসি ওয়েবসাইট ‘ফুট মেরকাতো’-র রিপোর্ট অনুযায়ী, আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম থেকে জানা গিয়েছে, মেসি আপাতত নিজের পেশাদার ফুটবলজীবন থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরিবারের সঙ্গে এই কঠিন জন্যই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আটবারের ব্যালন ডি অর জয়ী ফুটবলার। কবে তিনি আবার ইন্টার মায়ামি দলের সঙ্গে যুক্ত হবেন, সেই বিষয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট তারিখ জানা যায়নি। হোর্হে মেসি শুধুই মেসির বাবা ছিলেন না। ছোট থেকেই তিনি ছিলেন মেসির প্রথম পরামর্শদাতা, এজেন্ট ও সবচেয়ে বড় সমর্থক। নিউওয়েল্স ওল্ড বয়েজ থেকে শুরু করে স্পেনে মেসির যাওয়ার সময় পর্যন্ত তাঁর পাশে ছিলেন হোর্হে। ছেলের ফুটবলার হওয়ার স্বপ্নপূরণ করতে তিনি নিজের কাজ ছেড়ে সব সময় ছেলেকে নিয়েই থাকতেন। তিনি না থাকলে মেসির মেসি হওয়া সম্ভব ছিল না। মেসির ফুটবল কেরিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন হোর্হে।
২০২৬ বিশ্বকাপের সময়েই হোর্হে মেসির শারীরিক অবস্থা নিয়ে পরিবার উদ্বেগে ভুগছিল। বিশ্বকাপের চাপের মধ্যেও বাবার অসুস্থতার বিষয়টি মেসিকে গভীরভাবে ব্যস্ত করেছিল বলে জানা গিয়েছিল। এমনকি একটি ম্যাচে পরিবারের কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেছিলেন মেসি। এই কঠিন সময়ে মেসির পাশে রয়েছেন তাঁর মা, স্ত্রী, সন্তানেরা। জাতীয় দলের বেশ কিছু সতীর্থও তাঁকে দেখতে যেতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে। তাঁরা হলেন লিয়ান্দ্রো পারাদেস, আনহেল দি মারিয়ারা। এমনকি তাঁর ফুটবল ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কেরিয়ারে এই কঠিন সময়ে সংবাদমাধ্যমে জল্পনা ভাসছে, খুব সম্ভবত তিনি কেরিয়ার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিরতি নিতে পারেন মেসি। তবে এখনও মেসি নিজে থেকে কিছু জানাননি। ৩৯ বছরের মেসির কাছে এখন ফুটবলের থেকেও পরিবার বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই তিনি কবে মায়ামির জার্সিতে ফিরবেন, তা বলা সম্ভব নয়।