
মোহনবাগান – ৬ : সিআইএসএফ প্রোটেক্টরস – ০
কলকাতা: বিগত একমাস ধরে রাজ্য়-দেশে যদি কোনকিছু সবচেয়ে চর্চায় থাকে, তা হল ছাত্র বিক্ষোভ ও পেপার লিক। সোনম ওয়াংচুকের অনশন, যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ, পুলিশের ধরপাকড়, বিক্ষোভকারীদের উপর লাঠিচার্জ – বাদ যায়নি কিছুই। এমনকি এই বিপ্লবের আঁচ পড়েছিল কলকাতায়ও। সেখানেও দেখা গিয়েছিল তীব্র বিপর্যয়। কারণ, নিট পেপার লিক ও ছাত্রদের আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি ছিল, প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। অবশেষে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ দিলেও বিক্ষোভের আঁচ যে এখনও কমেনি, তা ঝাড়খণ্ডে এসএসসি পেপার লিকের বিক্ষোভ দেখলেই বোঝা যায়। এর মধ্যেই এক অভিনব ভাবনা ভেবেছে মোহনবাগান সমর্থকরা।
কিশোরভারতী স্টেডিয়ামে ম্যাচ ছিল মোহনবাগান সুপারজয়েন্ট ও সিআইএসএফ প্রোটেক্টরস-দের। ডুরান্ড কাপের এই ম্যাচে প্রতিপক্ষকে গোলের মালা পড়াল মোহনবাগান। জিতল ৬-০ গোলে। হ্যাটট্রিক করলেন সাহাল আব্দুল সামাদ। কিন্তু আজকের ম্যাচ কম করেও ১০ গোলে জিততে পারত মোহনবাগান। বাজে মিসের প্রদর্শনী করার ফলে গোলসংখ্যা বাড়ল না বাগানের। এই ম্যাচে ফেস্টুন টাঙায় মোহনবাগান সমর্থকরা। আজকের ফেস্টুনে লেখা হয়, No More Leaks, No More Lies. Let Merit Win, Let Dreams Rise. অর্থাৎ আর কোনও প্রশ্নপত্র লিক নয়, আর কোনও মিথ্যা নয়। মেধার জয় হোক, হোক স্বপ্নের উড়ান। গ্যালারিতে প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধের দাবিতে সরব সবুজ-মেরুন সমর্থকরা আজকে যে ফেস্টুন টাঙালেন, তাতে বার্তা দেওয়া হল যেভাবে গোটা দেশে উত্তাল হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি, তাতে ছাত্রদের পাশে আছেন সমর্থকরা।
ম্যাচে প্রথমার্ধেই ৪-০ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল মোহনবাগান। ১৭ মিনিট, ১৯ মিনিট, ২৪ মিনিটে গোল পেয়ে যায় মোহনবাগান। ৩৬ মিনিটের মাথায় আসে আবার গোল। এবার গোল দিয়েই নিজের হ্যাটট্রিক করেন সাহাল আব্দুল সামাদ। দ্বিতীয়ার্ধে আবার গোল পায় বাগান। ৬৫ মিনিটের মাথায় গোল করলেন জেমি ম্যাকলারেন। ৭২ মিনিটে গোল করেন অভিষেক টেকচ্যাম সিং। কিন্তু যেভাবে আজ বাজে খেললেন লিস্টন, তাতে আগামী ম্যাচে তাঁকে নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। ভুল শট থেকে ভুল পাস – কিছুই যেন ঠিক হয়নি লিস্টনের। আজকেও মাঠে নামলেন না মিগুয়েল। কবে নামবেন, এই প্রশ্নের মাঝেই ছাত্র আন্দোলন নিয়ে বড় বার্তা দিল বাগানের সমর্থকরা।