Mohunbagan, Tutu Bose News : প্রয়াত টুটু বসু, অভিভাবকহীন মোহনবাগান!

Mohunbagan Supergiant : ১৯৯১ সালে প্রথমবার বাগানের সচিব হন টুটু বসু। ধীরেন দে-র বদলে তাঁর উঠে আসা যেন ধূমকেতুর মতো। এরপরেই বাগানে শুরু হয় টুটু-অঞ্জন যুগ। দুজনে একের পর এক কীর্তি ঘটিয়েছেন ক্লাবের জন্য। গতবছরের ৩০ জুলাই মোহনবাগান দিবসে 'মোহনবাগান রত্ন' উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল তাঁকে।

Mohunbagan, Tutu Bose News : প্রয়াত টুটু বসু, অভিভাবকহীন মোহনবাগান!
Mohun Bagan Icon Tutu Bose No More, Bengal Mourns the Loss of Its Most Beloved Football Patron.Image Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: Moumita Das

May 13, 2026 | 1:37 AM

কলকাতা : এ যেন এক যুগের অবসান। দীর্ঘ রোগভোগের পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন মোহনবাগানের (Mohunbagan Supergiant) প্রাণপুরুষ স্বপনসাধন (টুটু) বসু (Tutu Bose)। সোমবারই হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় তাঁকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার রাত ১১ টা ৫৫ মিনিটে সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন তিনি। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তাঁর মৃত্যুর ফলে ইতিমধ্যেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে ভারতীয় ফুটবলে (Indian Football)।

মঙ্গলবারই তাঁকে দেখতে হাসপাতালে যান বর্তমান ফুটবল প্রেসিডেন্ট কল্যাণ চৌবে (Kalyan Chaubey) ও বর্তমান ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক (Nishith Pramanik)। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Shubhendu Adhikari) ইতিমধ্যেই তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন মোহনবাগান ক্লাবের এই প্রাণকর্তা। হুইলচেয়ার ছাড়া চলাফেরা করাও সম্ভব ছিল না তাঁর জন্য। সোমবার রাতে ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক হয় তাঁর। সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। ভেন্টিলেশনেই রাখা হয়েছিল তাঁকে। বেশ কয়েক বছর ধরেই ফুটবলের সঙ্গে নিজের দূরত্ব বাড়িয়ে নিয়েছিলেন টুটু বসু। তাঁর অসুস্থতার খবরে উদ্বিগ্ন ছিলেন রাজ্যের হাজার হাজার ক্রীড়াপ্রেমী। রসগোল্লা মানে যেমন কলকাতা, তেমনই মোহনবাগানের অর্থ টুটু বসু – এমনই বুঝতেন মোহন সমর্থকেরা। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে দ্বিতীয়বার হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। এরপরেই যেন তাঁর সাজানো বাগানে নেমে আসে এক অপার নিস্তব্ধতা। ১২ মে ২০২৬, রাত ১১ টা ৫৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন মোহনবাগানের এই প্রবাদপ্রতিম কর্তা। রেখে গেলেন তাঁর ‘সাজানো বাগান’কে।

গতবছরের ৩০ জুলাই মোহনবাগান দিবসে ‘মোহনবাগান রত্ন’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল তাঁকে। পুরস্কার পেয়ে আবেগে কেঁদে ফেলেছিলেন এই বর্ষীয়ান কর্তা।বলেছিলেন,“আগামী জন্মেও মোহনবাগান সমর্থক হয়েই জন্মাতে চাই।” সঙ্গে ক্লাবকে ৫ লক্ষ টাকা দিয়ে বলেছিলেন,“এই টাকাটা দিয়ে আমাকে একটা লাইফ মেম্বারের পদ দিও। পরজন্মেও যাতে এই কার্ডটা নিয়ে মাঠে ঢুকতে পারি।” একই সঙ্গে মোহনবাগানের ক্যান্টিন যেন তাঁর নামে করা হয়, এমন আবদার করেছিলেন টুটু বসু। আজকের পর সবই স্মৃতি।

১৯৯১ সালে প্রথমবার বাগানের সচিব হন টুটু বসু। ধীরেন দে-র বদলে তাঁর উঠে আসা যেন ধূমকেতুর মতো। এরপরেই বাগানে শুরু হয় টুটু-অঞ্জন যুগ। দুজনে একের পর এক কীর্তি ঘটিয়েছেন ক্লাবের জন্য। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দিয়েছিলেন অঞ্জন মিত্র। এরপরে ক্লাবের সভাপতি হয়েছিলেন তিনি। মোহনবাগানের বহু খারাপ সময়ে দলকে একা উৎরে দিয়েছেন তিনি। স্পনসরহীন বাগান দলকে বহুদিন একার কাঁধে বসিয়ে টেনে নিয়ে গিয়েছেন টুটু বসু। চিমা ওকোরি হোক বা ওডাফা ওকোলি বা সাম্প্রতিক সময়ের সনি নর্ডি – সবাই তাঁর জাদুবলেই দলে এসে দলকে নিয়ে গিয়েছিলেন এক অন্য উচ্চতায়। তবে আজ তাঁর চলে যাওয়াতে যেন অভিভাবক হারাল মোহনবাগান। নামে ‘সুপারজায়ান্ট’ থাকলেও, কলকাতা ময়দানের ‘জায়ান্ট’ কর্তা আজ সত্যিই চলে গেলেন অসীমে।

Follow Us