
কলকাতা : চলছে বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026)। তবে ইতিমধ্যেই বিদায় ঘটে গিয়েছে ব্রাজিলের (Brazil)। কিন্তু, এবার সাম্বা চমক দেখা যাবে মোহনবাগানে। এখনও মরশুম শুরু হয়নি। ২৫ জুলাই থেকে শুরু হতে চলেছে ডুরান্ড কাপ (Durand Cup)। তবে এবার, মরশুম শুরুর আগেই ব্রাজিলের দাপুটে মিডফিল্ডার ও ইস্টবেঙ্গলের (East Bengal FC) প্রাক্তন ফুটবলার মিগুয়েল ফিগুয়েরাকে (Miguel Figuera) দলে নিল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। গত আইএসএল সিজনে সোনার বল জিতেছিলেন মিগুয়েল। গত সিজনে ইস্টবেঙ্গলকে আইএসএলে (Indian Super League) চ্যাম্পিয়ন করার পিছনে একটা বড় ভূমিকা ছিল এই মিগুয়েল ফিগুয়েরার। এবার তাঁর সঙ্গেই ২ বছরের চুক্তি সারল মোহনবাগান (Mohunbagan Supergiant)।
গত মরশুমে আইএসএলে ১২ ম্যাচ খেলে ২ গোল করার পাশাপাশি ৫ খানা অ্যাসিস্ট করেছেন মিগুয়েল। তাঁর ডিফেন্সচেরা পাসের মাধ্যমে বরাবর গোলের দেখা পেয়েছে তাঁর ক্লাব। এবার সেই পাস তিনি বাড়াবেন সবুজ-মেরুন জার্সি পরে। চুক্তির পর ব্রাজিল থেকে এমবিএসজি মিডিয়াকে মিগুয়েল জানালেন,“মোহনবাগান ও ব্রাজিলের সমর্থকদের মধ্যে একটা মিল আছে। এঁরা দুজনেই খুব আবেগপ্রবণ। ওঁরা গ্যালারি ভরিয়ে তোলেন প্রতি ম্যাচেই। সবুজ-মেরুন জার্সি পরার জন্য আমি মুখিয়ে রয়েছি।”
একই সঙ্গে ডার্বি নিয়েও হুঙ্কার দিয়ে রাখলেন মিগুয়েল। আসন্ন ডুরান্ড কাপ শুরু হচ্ছে ডার্বি দিয়েই। ফলে মরশুমের শুরুতেই মোহন-ইস্ট দ্বৈরথ দেখতে পাবেন দুই দলের সমর্থকরা। সেই কলকাতা ডার্বি নিয়েই মিগুয়েল মত,“কলকাতা ডার্বি সবসময় একটা বিশেষ ম্যাচের গুরুত্ব পেয়েছে। মোহনবাগানকে ডার্বি জেতানোর জন্য নিজের ১০০ শতাংশ দিতে রাজি আছি আমি। ডার্বি জিতলে সারা সপ্তাহ ভাল যায় আর হারলে এক সপ্তাহ কষ্ট হয়। সমর্থকদের সেই কষ্ট আমি দিতে চাই না।”
অতীতে ইতালির ফুটবল লিগ সিরি এ-তে খেলেছেন মিগুয়েল। তবে এশীয় উপমহাদেশে তিনি প্রথম নজর কাড়েন বাংলাদেশের ক্লাব বসুন্ধরা কিংসে খেলার সময়। সেখানেই তিন বছর খেলেছেন তিনি। প্রসঙ্গত, এই ক্লাবেই ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন কোচ অস্কার ব্রুজোর তত্ত্বাবধানে খেলেছেন মিগুয়েল। আবার তাঁদের সাক্ষাৎ হয়েছে লাল-হলুদেও। ইতিমধ্যেই দুই প্রধানেই নিযুক্ত হয়েছেন দুই নতুন কোচ। ইস্টবেঙ্গল সই করিয়েছে কলকাতা ময়দান ও ভারতীয় ফুটবলের অভিজ্ঞ কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাসকে এবং মোহনবাগানে এসেছেন গ্রিক কোচ প্যানজিওটিস দিলমপেরিস। আবার মোহনবাগান গতকাল আনুষ্ঠানিক বিদায় জানিয়েছে দিমিত্রি পেত্রাতোসকে। ফলে, মিগুয়েল আসার পর মোহনবাগানের আক্রমণ বিভাগ যে শক্তিবৃদ্ধি করল, তা বলাই বাহুল্য।