
ব্রাজিল – ৩ (ভিনি ২, কুনহা) : স্কটল্যান্ড – ০
মায়ামি : ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ যখন ব্রাজিল বনাম স্কটল্যান্ড (Brazil vs Scotland) ম্যাচটা শেষ হল, নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করলাম, এই ম্যাচটা দেখার কি খুব প্রয়োজন ছিল? রাতের ঘুম কাবার করে কেন এই একপেশে খেলা দেখা? স্কটল্যান্ডের (Scotland) এরকম অসহায় আত্মসমর্পণ দেখে তো উচিত ছিল হাফ টাইমেই টিভি বন্ধ করে চোখ বোজা। কিন্তু না, এই ম্যাচ যে দেখার উপাদান ছিল অনেক। প্রথম উপাদান যদি ভিনিসিয়াস জুনিয়রের (Vini Jr.) স্বপ্নের ফর্ম হয়, দ্বিতীয়টা অবশ্যই নেইমার জুনিয়র (Neymar Jr.)। ৯৮২ দিন পর ব্রাজিলের (Brazil) জার্সিতে মাঠে নামলেন নেইমার। তিনি নামার পরেই মেসির (Lionel Messi) ঘরের স্টেডিয়ামের দর্শক যে উন্মাদনাটা দেখালেন, বোঝাই গিয়েছিল, তাঁকে মাঠে দেখতে কতটা উদগ্রীব ছিলেন বিশ্বের ফুটবল সমর্থকরা।
নাহলে এই খেলায় কিছুই ছিল না। অবশ্য, অতীতেও ব্রাজিলের বিরুদ্ধে মুখোমুখি হয়েছিল স্কটল্যান্ড। ১৯৭৪, ১৯৮২, ১৯৯০, ১৯৯৮ – এই চারবারই পরাস্ত হয়েছে স্কটিশরা। তবে একটি ম্যাচই ড্র (১৯৭৪) হয়েছে। কিন্তু আজকের ম্যাচে কোনও প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেনি স্কটল্যান্ড। শুরু থেকেই ম্যাচ চলে যায় ব্রাজিলের দখলে। ৭ মিনিটে স্কট ম্যাককেনার ভুলে ব্রাজিলকে ১-০ এগিয়ে দেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। ২১ মিনিটে আবার ভিনি গোল করলেও ভার দেখে রেফারি ফাউলের সিদ্ধান্ত দেন ও গোল বাতিল করেন। জলপানের বিরতির পর স্কটল্যান্ড আক্রমণ করার চেষ্টা করে কিন্তু সম্ভব হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধে একটি সহজ সুযোগ মিস করেন ভিনি, নাহলে আজ তাঁর হ্যাটট্রিকও চলে আসত।
৬০ মিনিটের মাথায় ব্রুনো গুইমারেসের পাস থেকে বল পেয়ে ভুল করেননি ম্যাথিউজ কুনহা। গোটা ম্যাচে মাত্র একবারই ভুল করে ব্রাজিল। ফ্রি কিক পেলেও সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি স্কটিশরা। তবে শেষ ১৫ মিনিটেও একাধিক গোলের সুযোগ পেলেও তা হেলায় নষ্ট করেছেন ভিনি, এন্ড্রিকরা। নাহলে গোলের ব্যবধান আরও বাড়ত। আজ রাফিনহার বদলে দলে ছিলেন ১৯ বছর বয়সী রায়ান। তিনিও বেশ ভাল খেলেছেন। তবে ভিনিসিয়াসকে নিয়ে কথা বলতেই হয়। বিশ্বকাপের টানা ৩ ম্যাচে গোল, টানা ৩ ম্যাচেই ম্যান অফ দা ম্যাচ। বিশ্বকাপে ৪ গোল করে ফেললেন তিনি। আর দুই গোল করলেই টপকে যাবেন মেসিকে।
তবে আজ যাবতীয় চর্চার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন নেইমার জুনিয়র। ৯৮২ দিন পর ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে নামলেন নেইমার। আজ তাঁকে দেখে একটা অংশের সমর্থকরা খুশি হবেন। মেসি-রোনাল্ডো গোল করছেন, এমবাপে চড়চড় করে উঠে আসছেন, কিন্তু নেইমার? তাঁরও তো একটা দুরন্ত কেরিয়ার হতে পারত। কিন্তু, চোটই খেয়ে নিল তাঁর কেরিয়ার। নেইমারের স্কিল দেখা থেকে বঞ্চিত হল একটা গোটা গোলার্ধের মানুষ।
গ্ৰুপ সি-তে ৩ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে এক ও দুই নম্বরে রয়েছে ব্রাজিল ও মরক্কো। গোল পার্থক্যের কারণেই ফার্স্ট বয় ব্রাজিল। এর ফলে রাউন্ড অফ ৩২ এ তাদের ম্যাচ পড়বে গ্ৰুপ এফ-এর রানার্সের সঙ্গে। সেই গ্ৰুপে রয়েছে নেদারল্যান্ডস, জাপান ও সুইডেন। ফলে আজকে গ্ৰুপ সি -র ম্যাচে কী হয়, সেদিকেই নজর থাকবে সেলেকাও সমর্থকদের।