
নরওয়ে – ২ (হাল্যান্ড ২) : ব্রাজিল – ১ (নেইমার পেনাল্টি)
নিউ জার্সি : ম্যাচ শেষ হওয়ার পরেও কেটে গিয়েছে প্রায় এক ঘন্টা। একটু আগেই নরওয়ের কাছে ২-১ হেরে বিশ্বকাপের শেষ ১৬ থেকে বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। সোশ্যাল মিডিয়াতে তখনও, সেই ভোর রাতেও কথা উঠছে ব্রাজিলের হার নিয়ে। কেন হারল ব্রাজিল, কেন পেনাল্টি মারলেন না ভিনিসিয়াস নিজে – সেই নিয়ে রক্তাক্ত হচ্ছে ব্রাজিলের সমর্থকদের মন। ৭৯ মিনিট অবধি ০-০ থাকার পরেও কিভাবে শেষ ১২ মিনিটে ২ গোল খায় ব্রাজিলের ডিফেন্স – এই নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন সেলেকাও ফ্যানরা।
ম্যাচের আগেই চর্চা ছিল, হাল্যান্ড না ভিনি – আজ শেষ হাসি হাসবেন কে? হাসলেন প্রথমজন। জোড়া গোলও করলেন তিনি। একটা দুরন্ত হেডার ও আরেকটা দূরপাল্লার দুরন্ত শটে একাই শেষ করে দিলেন ব্রাজিলের মিশন হেক্সার স্বপ্ন। ১৯৯০ সালের পর আবার শেষ ১৬ থেকে বিদায় নিল সেলেকাওরা। ৭ গোল করে চলতি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় মেসি ও এমবাপের সঙ্গে একাসনে বসে পড়লেন এই ম্যান সিটি তারকা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ করা শুরু করে দুই দল। ৩ মিনিটের মাথায় প্যাট্রিক বার্গের গোল অফসাইডের কারণে বাতিল করা হয়। ১০ মিনিটের মাথায় ব্রাজিল সুযোগ পেয়েছিল ১-০ এগিয়ে যাওয়ার। ম্যাথিউজ কুনহাকে বক্সের মধ্যেই ফাউল করেন নরওয়ের ডিফেন্ডার। প্রথমে না দিলেও পর ভার চেক করে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত জানান রেফারি। কিন্তু পেনাল্টি মিস করে বসেন ব্রুনো গুইমারায়েস। তাঁর দুর্বল শট বাঁচিয়ে দেন নরওয়ের গোলকিপার নেল্যান্ড। এরপর থেকে একের পর এক ব্রাজিলের গোলমুখী শট প্রতিহত করেন নেল্যান্ড। আবার ব্রাজিলের বক্সেও আক্রমণ শুরু করেন মার্টিন ওডেগার্ডরা। প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে একটি নিশ্চিত গোল বাঁচান ব্রাজিলের গোলকিপার অ্যালিসন বেকার।
দ্বিতীয়াধে ৫৯ মিনিটের মাথায় নেল্যান্ডকে একা পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন পরিবর্ত হিসেবে নামা এন্ড্রিক। ৭৯ মিনিটের মাথায় অবশেষে ডেডলক ভাঙে নরওয়ে। আন্দ্রে শেলডেরাপের ক্রস থেকে দুরন্ত হেডে বল ব্রাজিলের জালে জড়িয়ে দেন আর্লিং হাল্যান্ড। এরপরেও ব্রাজিল চেষ্টা করতে থাকে কিন্তু পারেনি। যদিও ৯০ মিনিটের মাথায় আবার গোল করেন হাল্যান্ড। তাঁকে বল বাড়ান সেই শেলডেরাপ। বলতে নিজের নিয়ন্ত্রণে এনে দুরন্ত শটে জাল কাঁপিয়ে বল গোলে ঢুকিয়ে দেন তিনি। এই গোল করার সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বকাপে ৭ গোল হয়ে গেল তাঁর। ছুঁয়ে ফেললেন মেসি ও কিলিয়ান এমবাপেকে।
৯০ মিনিটের পর ৭ মিনিটের অতিরিক্ত সময় দেন রেফারি। যদিও ১০ মিনিটের পরেও খেলা চালিয়ে যান তিনি। শেষ বাঁশি বাজার কিছুক্ষন আগে বক্সের মধ্যে ব্রাজিলের প্লেয়ারকে ফাউল করেন ওডেগার্ড। পেনাল্টি থেকে গোল করেন নেইমার। এই বিশ্বকাপে এই একটিই গোল করলেন তিনি। একই সঙ্গে ম্যাচ শেষের বাঁশিও বাজিয়ে দেন রেফারি। ফলে রাউন্ড অফ ১৬ থেকেই বিদায় নিল ব্রাজিল। ম্যাচ শেষের পরেই অবসর নিলেন নেইমার জুনিয়র। আর বিশ্বকাপ জেতা হল না তাঁর। উল্টো দিকে, আবার ‘ভাইকিং’ সেলিব্রেশন করতে দেখা গেল হাল্যান্ডদে। আগামী ১২ জুলাই ভারতীয় সময় রাত আড়াইটে নাগাদ ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে নামবে নরওয়ে। সেই ম্যাচে জিতলেই আবার প্রথমবার বিশ্বকাপের শেষ চারে যাওয়ার ইতিহাস গড়বেন হাল্যান্ড, ওডেগার্ডরা।