
ডারউইন : অস্ট্রেলিয়ার কাছে আজকের দিন যতটা অপ্রত্যাশিত, দলের অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের কাছে বোধহয় আরও। কারণ, তিনি হয়ত স্বপ্নেও ভাবেননি বাংলাদেশ তাঁর দল অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে দেবে। একইসঙ্গে, চার দিন ধরে সবকিছুতে তাঁর দলকে নাস্তানাবুদ করে ছাড়বে। এই বিষয়েই মুখ খুলেছেন অজি ক্যাপ্টেন কামিন্স। একদিকে তিনি যেমন বাংলাদেশকে কৃতিত্ব দিয়েছেন, তেমনই নিজের দলের ভুলও মেনে নিয়েছেন তিনি।
অতীতে কামিন্স জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়রা কতটা ত্যাগ স্বীকার করেছেন। কামিন্স বলেছিলেন, অনেক ক্রিকেটাররা দ্য হান্ড্রেডে খেলে প্রায় ৫ লক্ষ পাউন্ড (ভারতীয় মুদ্রায় ₹৬.৪৭ কোটি টাকা) উপার্জন করার সুযোগ ছেড়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে খেলা বেছে নিয়েছিলেন। তবে তাতে যে বিশেষ লাভ হয়নি, তা বোঝা গেল প্রথম টেস্টেই। প্রথম ৪ দিনেই অজি দলকে বারবার নাস্তানাবুদ করেছে বাংলাদেশ। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং – দুই বিভাগেই বাজিমাত করেছেন নাজমুল হাসান শান্তরা। ম্যাচ শেষে অজি অধিনায়ক বলেন, “সম্ভবত প্রথম দিনেই আমরা ম্যাচটি হেরে গিয়েছিলাম। কিন্তু যেহেতু আমাদের প্রস্তুতি ভাল হয়েছে, তাই বিশেষ অজুহাত নেই। আমাদের আরও অনেক্ষন ব্যাট করা উচিত ছিল কিন্তু আমরা পারিনি। সেই তুলনায় বাংলাদেশ অনেক ভাল খেলেছে।”
প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত একটি ১০১ রানের ইনিংস খেলেছেন তানজিদ হাসান। আবার দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট নিয়েছেন হাসান মাহমুদ। ২০১৭ সালে যে টেস্টে বাংলাদেশ প্রথমবার অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম হারিয়েছিল, সেই টেস্টে ১০ উইকেট নিয়েছিলেন শাকিব আল হাসান। এবার ৯ উইকেট পেলেন হাসান। দ্বিতীয় টেস্টের আগে কি অজি দলের বিশেষ পরিবর্তন হবে? কামিন্সের কথায়, “ম্যাচটা সবে শেষ হয়েছে। এখনই পরের ম্যাচ নিয়ে ভাবতে চাই না। আমাদের গোটা দল এই ম্যাচ নিয়ে আলোচনা করবে ও কোথায় উন্নতি করা যায়, সেটা দেখবে। আমরা প্রথম থেকেই ম্যাচে পিছিয়ে পড়েছিলাম। বাংলাদেশ সব দিক থেকেই আমাদের হারিয়েছে। ওরা সত্যিই ভাল খেলেছে। আমরা একবার পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচে ফেরাটা খুব কঠিন হয়ে গিয়েছিল।”
ডারউইনে এই ঐতিহাসিক জয়ের ফলে ২ টেস্টের সিরিজে ১-০ এগিয়ে গিয়েছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এই প্রথম কোনও টেস্ট জিতল বাংলাদেশ। এর ফলে আর যাই হোক, সিরিজ অন্তত হেরে ফিরতে হবে না তাসকিন, মেহেদিদের। এখন অস্ট্রেলিয়ার সামনে চ্যালেঞ্জ, সিরিজে সমতা ফেরানোরই নয় বরং বাংলাদেশের এই কড়া প্রশ্নের জবাব দেওয়ারও।