
কলকাতা : টানা তিনটি বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলতে ব্যর্থ হয়েছে ইতালির ফুটবল টিম। ২০১৮, ২০২২, ২০২৬ – তিন বিশ্বকাপের জন্যই যোগ্যতাঅর্জন করতে পারেনি ইতালিয়ানরা। ২০২০ সালে ইউরো কাপ জয়ের পর আর সেই অর্থে কোনও সাফল্যও নেই ইতালির। তবে এই ব্যর্থতার পরেই এবার ইতালির জাতীয় ফুটবলে বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন। সেই লক্ষ্যেই জাতীয় দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে প্রাক্তন ম্যানচেস্টার সিটি ম্যানেজার পেপ গুয়ার্দিওলাকে আনার চেষ্টা শুরু হয়েছে। ইতালির সংবাদমাধ্যাম স্কাই ইতালিয়া-র প্রতিবেদনে এই দাবি করা হয়েছে।
চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালির সাম্প্রতিক ব্যর্থতা দেশটির ফুটবল প্রশাসনকে বড় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। তবে শুধু নতুন কোচই নয়, পুরো জাতীয় দলের কাঠামো পরিবর্তন করতে চায় ইতালির বোর্ড। সেই প্রকল্পের নেতৃত্বে আনা হয়েছে ইতালির কিংবদন্তি অধিনায়ক পাওলো মালদিনিকে। সম্প্রতি তাঁকে জাতীয় দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। দেশের হয়ে ১২৬টি ম্যাচ খেলা মালদিনি আগে এসি মিলানের ফুটবল পরিচালনার দায়িত্বও সামলেছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মালদিনি তাঁর প্রাক্তন সতীর্থ লিওনার্দোকে সঙ্গে নিয়ে বার্সেলোনায় যান এবং সেখানে দিন কয়েক ধরে পেপ গুয়ার্দিওলার সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে ইতালির জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও পুনর্গঠনের প্ল্যান তুলে ধরা হয়। ইতালিয়ান বোর্ড আশা করছে, গুয়ার্দিওলার মতো অভিজ্ঞ কোচের নেতৃত্বে আজ্জুরিরা আবারও বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দলে পরিণত হবে। ২০২৬ বিশ্বকাপে জায়গা না করতে পারার পরেই জাতীয় দলের কোচের পদ ছেড়ে দেন জেন্নারো গাত্তুসো। এরপর থেকেই নতুন কোচের সন্ধান শুরু করে ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন। তবে গুয়ার্দিওলাকে দায়িত্ব দেওয়ার কাজটি বেশ কঠিন। সম্প্রতি এই ৫৫ বছর স্প্যানিশ কোচ ম্যানচেষ্টার সিটিতে সফল ১০ বছরের অধ্যায় শেষ করেছেন এবং আগেও জানিয়েছেন, তিনি বেশ কিছুদিন কোচিং থেকে বিরতি নিতে চান।
তবুও FIGC গুয়ার্দিওলাকে প্রথম পছন্দ হিসেবে দেখছে। যদি তাঁর সঙ্গে আলোচনা সফল না হয়, তাহলে বিকল্প হিসেবে প্রাক্তন ইতালি কোচ হিসেবে রবার্তো মানচিনি ও বিশ্বকাপজয়ী তারকা আন্দ্রে পির্লোর নামও বিবেচনা করছে FIGC। এখন দেখার, ইতালির ফুটবলের নতুন কোচের সিটে শেষ পর্ষন্ত কে আসেন।