FIFA World Cup 2026, Portugal vs Croatia: চারখানা গোল বাতিল, টানটান থ্রিলারে ক্রোয়েশিয়াকে বধ পর্তুগালের!

POR vs CRO Highlights: সিনেমার দৃশ্যকেও হার মানাবে এই ম্যাচ। পর্তুগাল বনাম ক্রোয়েশিয়ার দ্বিতীয়ার্ধে যেন পুরো কোনও টানটান থ্রিলার। গোটা ম্যাচে ৪ খানা গোল বাতিল। শেষ মুহূর্তের ক্রোয়েশিয়ার গোলও বাতিল। ৮০ মিনিটের মাথায় রবার্তো মার্টিনেজ তুলে নিলেন রোনাল্ডোকে। দুর্বল মন আর কত চমক সহ্য করবে?

FIFA World Cup 2026, Portugal vs Croatia: চারখানা গোল বাতিল, টানটান থ্রিলারে ক্রোয়েশিয়াকে বধ পর্তুগালের!
ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোImage Credit source: Getty Images

| Edited By: Moumita Das

Jul 03, 2026 | 7:52 AM

পর্তুগাল – ২ (রোনাল্ডো, গঞ্জালো রামোস) : ক্রোয়েশিয়া – ১ (পেরিসিচ)

অন্টারিও : এও হয়? এও মানতে হবে? চার খানা গোল অফসাইডের জন্য বাতিল? তিনটে গোল বাতিল ক্রোয়েশিয়ার, একটা গোল বাতিল রোনাল্ডোর। এর মধ্যে ১১৩ মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার গোলও বাতিল। অবিশ্বাস্য! সত্যিই বিশ্বাস করা যায় না। ৯০+৩ মিনিটে গোল করে পর্তুগালকে ২-১ এগিয়ে দিলেন গঞ্জালো রামোস। ৯০+১৩ মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার গোল বাতিল অফসাইডের জন্য। ফলে এক উত্তেজক ম্যাচে ২-১ জিতে শেষ ১৬তে উঠে গেল পর্তুগাল।

আজকের ম্যাচ নিয়ে আগ্রহ ছিল অনেক ফুটবল সমর্থকের। হওয়ারই কথা। পর্তুগাল বনাম ক্রোয়েশিয়ার থেকেও বেশি চর্চা ছিল হয়ত ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো বনাম লুকা মড্রিচের দ্বৈরথ নিয়ে। দুই প্রাক্তন সতীর্থ, আজ একে অন্যের মুখোমুখি। একজন জিতবেন, অন্যজন হারবেন। যিনি হারবেন, তিনি আর নিজের দেশকে বিশ্বকাপ দেওয়ার অবস্থায় থাকবেন না। তাঁকে বিদায় নিতে হবে ফুটবল মঞ্চ ছেড়ে। সেটাই হল। দুরন্ত খেলেও স্রেফ ভাগ্যের ফেরে হারতে হল ক্রোয়েশিয়াকে। নেপথ্যে? তিনটে গোল অফসাইডের জন্য বাতিল। ফলে, ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের নক আউট মঞ্চে কামব্যাক করল পর্তুগাল।

এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই চর্চায় ছিলেন দুই তারকা। রোনাল্ডো ও মদ্রিচ। একজনের বয়স ৪১, অন্যজনের ৪০। কিন্তু পর্তুগালের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই কড়া টক্কর দিয়ে গেল ক্রোয়েশিয়া। প্রথমার্ধ থেকেই দুই দল আক্রমণ শুরু করে কিন্তু আজকের দিন অনেক কারণে স্মরণীয়। আজকের দিনেই এক বছর আগে গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন রোনাল্ডোদের সতীর্থ দিয়েগো জোটা। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীকে স্মরণীয় করে রাখল পর্তুগাল। প্রথমার্ধে রাফায়েল লিয়াওরা বেশ কিছু সহজ সুযোগ পেলেও তা রুখে দেন ক্রোয়েশিয়ার গোলকিপার ডমিনিক লিভাকোভিচ। শেষ ফাইনাল থার্ডে গিয়েও ব্যর্থ হয়েছে দুই দলের খেলোয়াড়রা। রোনাল্ডো ও মদ্রিচ – দুজনেই শুরুতে হতাশ করছিলেন। ০-০ শেষ হয় প্রথমার্ধ।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণ শুরু করে ক্রোয়েশিয়া। তাদের বারংবার আক্রমণে তখন দিশেহারা হয়ে পড়েছিল পর্তুগাল ডিফেন্স। সেই ভুল কাজে লাগিয়েই আসে প্রথম গোল। ৫৩ মিনিটের মাথায় বাঁ পায়ের শটে ক্রোয়েশিয়াকে ১-০ এগিয়ে দেন ইভান পেরিসিচ। এর ঠিক মিনিট তিনেকের মধ্যেই আবার গোল করে ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু অফসাইডে থাকায় ইগোর মাতানোভিচের গোল বাতিল করে দেন রেফারি। ৬০ মিনিটের মাথায় রোনাল্ডো একক দক্ষতায় গোল করলেও তা বাতিল হয় অফসাইডের কারণে। ভার রিপ্লেতে দেখা যায় রোনাল্ডোর বাঁ কাঁধ অফসাইডে ছিল।

এরপর থেকেই একের পর এক আক্রমণ শুরু করে পর্তুগাল। ৬৮ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। পর্তুগালের কর্নারের সময় রেনাতো ভেগাকে আটকে রেখে প্রায় দুই হাত দিয়েই ধাক্কা মেরে ফেলে দেন ক্রোয়েশিয়ার এক ডিফেন্ডার। ভার রিপ্লে দেখে পর্তুগালকে পেনাল্টি দেন রেফারি। গোল করতে ভুল করেননি ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। বিশ্বকাপে এই প্রথম নক আউট ম্যাচে গোল করলেন রোনাল্ডো।

দুই দলই চেষ্টা করলেও গোলমুখ খুলতে বারবার ব্যর্থ হয় দুজনেই। ৮০ মিনিটের মাথায় রোনাল্ডোকে তুলে রুবেন নেভেসকে নামান পর্তুগিজ কোচ লুকা মদ্রিচ। ৮৫ মিনিটে সুচিচের গোল বাতিল করেন রেফারি। গোলটি দিলে তখনই ২-১ এগিয়ে যেতে পারত ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু তাঁর শরীরের বেশিরভাগ অংশ বাইরে থাকায় অফসাইডের কবলে পড়েন তিনি। ৯০ মিনিটের পর অতিরিক্ত ১০ মিনিট দেন রেফারি। সেখানেই ৯০+৩ মিনিটের মাথায় হেডে গোল করে পর্তুগালকে এগিয়ে দেন গঞ্জালো রামোস। উল্লাসে ফেটে পড়ে পর্তুগাল শিবির। কিন্তু এই খুশির স্থায়িত্ব বেশিক্ষন হয়না কারণ ৯ মিনিটের মধ্যেই ৯০+১৩ মিনিটের মাথায় গোল করে দেয় ক্রোয়েশিয়া। আনন্দে ফেটে পড়ে ক্রোট শিবির কিন্তু এবারেও ভাগ্য। রেফারি ভার দেখে সিদ্ধান্ত দেন আক্রমণ করার সময় অফসাইডে ছিলেন ক্রোয়েশিয়ার মারিও পাসলিচ ফলে গোল বাতিল। মুহূর্তের আনন্দ হতাশায় বদলে যায় ক্রোয়েশিয়ার জন্য। ম্যাচ শেষ হয় ২-১ ফলে। এই হারের ফলে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল ক্রোয়েশিয়া। শেষ ১৬তে উঠে গেল পর্তুগাল।

ক্রোয়েশিয়ার জন্য খারাপ লাগে। যেখানে ২০১৮ সালে লুকা মদ্রিচরা ফাইনালে উঠেছিলেন, সেখানে এবার কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছনোর আগেই বিদায় নিতে হল। বিশ্বকাপের মঞ্চ ছেড়ে চললেন লুকা মদ্রিচ। কোনও এক শরণার্থী পরিবারের সদস্য হয়ে যে দৌড় তিনি শুরু করেছিলেন, আজ তা থামল বিশ্বকাপের রাউন্ড অফ ৩২-এর ম্যাচে। আর এই ১০ নম্বর জার্সিতে দেখা যাবে না তাঁকে। আজ তাই বারবার মনে হচ্ছে, কেন সেদিন ফাইনালে মস্কো নদীর তীরে ওভাবে ফ্রান্সের কাছে হেরেছিলেন মদ্রিচরা? ট্র্যাজিক নায়কের যাবতীয় সম্মান লুকা পাবেন বলে? নাকি, আজকের মতো সেদিনও ভাগ্যদেবতা তাঁর জন্য তুলে রেখেছিলেন কর্ণের দুর্ভাগা কপালকে? যে কপাল বারবার পরিশ্রমেও খণ্ডাবে না? যে কপাল শত চেষ্টা করলেও ট্রফি দেবে না? যে কপাল বারবার বলবে,“তুমি যত চেষ্টাই করো, তোমার ভাগ্যে প্রথম হওয়া নেই।” তাই লুকারা বরাবর দ্বিতীয় সারিতেই থাকবেন? আজকের পর আর তাঁকে পাবে না বিশ্ব। দ্বিতীয় হওয়ার দুর্ভাগ্য নিয়ে তিনি সরে গেলেন যে।

Follow Us