
কলকাতা: সেই একই রকম হাসি। যেন ফিরে এসেছেন ১১ বছর পর! সেই চেনা সোনালি চুল। চলনে-বলনে কোথাও যেন রয়েছে মিল। ১১ বছর আগের সেই মেয়ের সঙ্গে এই মেয়ের মিল অনেক। এমনকি প্রেমিকও এক! আর তাতেই যত আশঙ্কা, উৎকন্ঠা, উদ্বেগ। আবার কোনও ভয়ঙ্কর প্রেমের গল্প লিখতে চলেছেন ঈশ্বর? প্রেমিকের নাম শুনলে যে কেউ কেঁপে যেতে পারেন! কী নাম তাঁর? অস্কার পিস্টোরিয়াস! ১১ বছর আগে ভ্যালেন্টাইন্স ডে-তে যাঁর গুলিতে মারা গিয়েছিলেন সুন্দরী মডেল রিভা স্টিনক্যাম্প। বাকিটুকু প্রেমের দুনিয়া থেকে ক্রীড়ামহল, সবাই জানে।
অলিম্পিকের দুনিয়ায় অস্কার পিস্টোরিয়াস এক ঐতিহাসিক নাম। দুটো পা না থাকা সত্ত্বেও আদালতে গিয়েছিলেন অধিকার ছিনিয়ে আনতে। ব্লেড রানার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন নিজেকে। লন্ডন অলিম্পিকে সাধারণদের সঙ্গেই নেমেছিলেন সেই অসাধারণ অ্যাথলিট। পদক পাননি। কিন্তু ওই যাত্রাটুকু বিস্ময় আর প্রশংসা কুড়িয়েছিল সবার। অস্কারের জীবনে উত্থান আর পতনের। বান্ধবীকে খুন করার দায়ে জেলে যেতে হয়েছিল। ৯টা বছর কালকুঠুরিতে কাটিয়েছেন। সেই দায় থেকে মুক্ত হয়ে আবার ফিরেছেন চেনা পৃথিবীতে। কিন্তু অস্কারের অতীত যে কেউ ভোলেননি।
এই অস্কার এখন প্রেম করছেন রিটা গ্রেলিংয়ের সঙ্গে। ৩৩ বছরের ওই মেয়ে কি করে অস্কারের প্রেমে পড়ল, হতবাক হয়ে গিয়েছেন রিভার মা জুন কিন্তু সাবধান করেছেন রিটাকে। বলেছেন, ‘আমি অবাক হয়ে যাচ্ছি, মেয়েটা লাল পতাকাটা দেখতে পাচ্ছে না কেন? ওর পাশবিক রাগটা দেখতে পায়নি বলে? জেলে থাকার সময় অনিয়ন্ত্রিত রাগের কারণে কাউন্সিলিং করাত। একটা সময় আমি চাইনি ও জেল থেকে বেরোক। ভয় পেয়েছিলাম, ও আদৌ চিকিৎসা করাচ্ছে কিনা। ও বদরাগী। এখনও সেই সমস্যাটা আছে। ওই মেয়েটার জন্য ভয়ানক লোক। রিভা ওকে মাত্র ৩ মাস চিনত। আর মারা গেল। লোকটা কোনওদিন কবুল করল না।’
২০১৩ সালের ওই ঘটনার পর দক্ষিণ আফ্রিকা অনেক পাল্টে গিয়েছে। মেয়ে রিভার নামে একটি সংস্থাও তৈরি করেছেন জুন। মেয়েদের উপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে কাজ করে সেই সংস্থা। জুন বলছেন, ‘অল্প বয়সী একটি মেয়ের সঙ্গে ঘুরছে আমি আরও বেশি চিন্তিত। আমাদের দেশে মেয়েদের অবস্থা ভালো নয়।’
প্যারোলে ছাড়া পাওয়া অস্কার এখন তাঁর ধনী কাকা আর্নল্ডের সঙ্গে প্রিটোরিয়ার ম্যানসনে থাকেন। রিটাকে দেখেই প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন অস্কার, এমনই শোনা যাচ্ছে। রিটার পরিবার পিস্টোরিয়াসদের ঘনিষ্ঠও। রিটার সঙ্গে প্রেম করলেও তা অবশ্য গোপনই রেখেছে অস্কারের পরিবার। ২০২৯ পর্যন্ত প্যারোলে রয়েছেন অস্কার। কিন্তু তা নির্ভর করবে প্রাক্তন অ্যাথলিটের আচরণের উপর। সেই কারণেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখেন অস্কার।