
সর্বভারতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে শিলিগুড়ি থেকে উঠে এসেছেন অনেক অনেক টিটি প্লেয়ার। আর তার অন্যতম কারিগর ভারতী ঘোষ। টিটির কোর্টে বারবার জিতে আসা ভারতী ঘোষ জীবনের লড়াইয়ে আর পেরে উঠলেন না। খেলাধুলোর জগতে ‘বাঈ’ নামেই পরিচিত ছিলেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। বেশ কয়েক মাস ধরেই বার্ধ্যক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। এ দিন বার্ধ্যকজনিক কারণে প্রয়াত কিংবদন্তি টেবিল টেনিস কোচ ভারতী ঘোষ।
শিলিগুড়ির টেবিল টেনিস এবং ভারতী ঘোষ যেন সমার্থক। কোচিংয়ের ক্ষেত্রে অবশ্য বয়সকে বাধা হতে দেননি। নিজের দায়িত্ব পালন করে গিয়েছেন। অনেক দুস্থ এবং বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের কোচিং করিয়েছেন। জীবনটাকেই উৎসর্গ করে দিয়েছিলেন টেবিল টেনিসকে। হাতে ধরে গড়ে তুলেছেন টিটি প্লেয়ারদের। তাঁর ছাত্র-ছাত্রীরা সর্বভারতীয় স্তরে যেমন প্রতিনিধিত্ব করেছেন, তেমনই আন্তর্জাতিক মঞ্চেও।
ভাইয়ের বন্ধুর সহযোগিতায় টিটির দুনিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন। ছিলেন না কোনও কোচ। হাতে গোনা কয়েকজন মেয়ের সঙ্গে টিটি খেলা শুরু করেন। সিনিয়রদের দেখে খেলা শিখেছিলেন। খুব অল্প বয়সেই এই খেলার সঙ্গে পরিচয়। ধীরে ধীরে তাঁর ভাবনায় আসে, খেলোয়াড় তৈরিতে গুরুত্ব দেবেন। ভারতী ঘোষের হাত ধরে অন্তত ৩ হাজার টিটি প্লেয়ার উঠে এসেছে। জিতেছেন অনেক সম্মান। তবে কচিকাঁচাদের ভালোবাসা, অভিভাবকদের ভরসা ছিল তাঁর কাছে সম্পদ। শিলিগুড়িই নয়, বাংলা হারাল এমনই একজন ক্রীড়াগুরুকে।
ক্রীড়াজগত থেকে রাজনৈতিক জনপ্রতিনিধিরা তাঁর চিকিৎসায় সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছিলেন। সম্প্রতি ২০ ফেব্রুয়ারি তাঁর অসুস্থতার খবর শুনে তাঁর বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থা করেন মেয়র গৌতম দেব। তাঁর হস্তক্ষেপেই ভারতী ঘোষকে শিলিগুড়ির মাটিগাড়ার এক নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সোমবার সকালে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ক্রীড়ামহলে।
রাজ্য সরকারের তরফে ২০১৯ সালে বঙ্গরত্ন এবং ২০২১ সালে ক্রীড়া দপ্তরের তরফে ‘ক্রীড়া গুরু’ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছিল তাঁকে। প্রশিক্ষকের ডিগ্রি না থাকলেও ভারতী ঘোষ শুধু উত্তরের নন, রাজ্যের অন্যতম সেরা টেবিল টেনিস কোচ ছিলেন । অর্জুন মান্তু ঘোষ বলেন, “ভারতী দির প্রয়ান ক্রীড়াজগতের এক অপূরনীয় ক্ষতি। তার প্রশিক্ষণে অনেক তারকা টেবিল টেনিস খেলোয়াড় উঠে এসেছিল।
মেয়র গৌতম দেব বলেন, “খুব খারাপ লাগছে। তাকে সুস্থ করার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু বার্ধক্যজনিত অনেক সমস্যা ছিল। ক্রীড়াগুরু ও বঙ্গরত্ন সম্মান পেয়েছিলেন তিনি। খুব খারাপ লাগছে।”
বিধায়ক শংকর ঘোষ বলেন, খেলার জগতে অপুরনীয় ক্ষতি হয়ে গেল।