
মুম্বই : বহু লড়াই পেরিয়ে অবশেষে ক্রিকেট খেলার ছাড়পত্র পেলেন সঞ্জয় বাঙ্গারের কন্যা অনয়া বাঙ্গার। ২০২১ সালে লিঙ্গ পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এর ফলেই ১০ মাসের কঠিন প্রক্রিয়ার শেষে আরিয়ান থেকে অনয়া হয়েছেন সঞ্জয়-তনয়। নানা ইন্টারভিউতে তিনি জানিয়েছিলেন, ক্রিকেটে আর তাঁর কোনও জায়গা হবে না। কিন্তু আবার পেশাদার ক্রিকেটে ফিরতে চলেছেন তিনি। অতীতে সরফরাজ খান, মুশির খানদের সঙ্গে মুম্বইয়ে নানা বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে খেলেছিলেন তিনি। তবে সেসবই হরমোনাল রিপ্লেসমেন্টের আগে। তবে এবার আবার ক্রিকেটে ফিরছেন তিনি।
অনয়া নিজে জানিয়েছেন, “আমাকে আবার ক্রিকেট খেলতে অনুমতি দেওয়ার জন্য ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমার কাছে এই লড়াই অনেক কঠিন। একটা সময় মনে হয়েছিল, আর ক্রিকেট কোনওদিন খেলতে পারব না। তবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া সেই সুযোগ করে দেওয়ায় তাদের ধন্যবাদ।” আইসিসি-র নিয়ম অনুযায়ী, কোনও ক্রিকেটার যদি পুরুষ হিসেবে বয়ঃসন্ধি কাটান, তাহলে পরে আর তিনি মহিলা হিসেবে খেলতে পারবেন না। একই নিয়ম প্রযোজ্য ভারতীয় ক্রিকেটেও। কিন্তু ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নিয়ম আলাদা। তাদের নিয়মে ট্রান্সজেন্ডার ক্রিকেটারদের টেস্টোস্টেরন লেভেল 10 nmol/L (ন্যানোমোলস পার লিটার) থাকলে তবেই তিনি খেলতে পারবেন।
২০২৭ সালের মার্চ থেকে তাঁর মহিলা দলের ক্রিকেটে খেলার যোগ্যতা নির্ভর করবে তাঁর রক্ত পরীক্ষার ফলের উপরে। যদি এই যোগ্যতা তিনি পূরণ করেন, তাহলেই তাঁর খেলার যোগ্যতা দেওয়া হবে। তবে তিনি শুধুমাত্র বিগ ব্যাশ লিগেই আপাতত খেলতে পারবেন। বেশ কয়েক মাস আগে অনয়া বিসিসিআইকে অনুরোধ করেছিলেন, ভারতীয় বোর্ড যেন ট্রান্সজেন্ডার ক্রিকেটারদের খেলার সুযোগ দেয়। কিন্তু এই নিয়মের ফলে ভারতে তাঁর খেলা হবে না। তবে তাঁর ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার কমিউনিটি ক্রিকেটে খেলতে কোনও বাধা নেই। কারণ, অস্ট্রেলিয়ার নিয়মে প্রিমিয়ার ক্রিকেটকে কমিউনিটি ক্রিকেট হিসেবে ধরা হয়, ‘এলিট ক্রিকেট’ হিসেবে নয়। ফলে, আপাতত এই প্রতিযোগিতাগুলিতে অনয়া খেলতে পারবেন।