
নয়াদিল্লি: ২০১৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত দক্ষিণী সিনেমা জার্সি হয়ত অনেকেই দেখেছেন। গল্পের প্রধান চরিত্র অর্জুন (অভিনয়ে নানী) বহুদিন পরে কিভাবে নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ক্রিকেটে ফেরে, এই ছিল সিনেমার প্রধান মশলা। এই সিনেমার প্রতিটি লড়াইয়ের গল্প যেন মিলে যায় সরফরাজ খানের সঙ্গে। বারবার ভাল পারফরম্যান্স করেও তাঁকে দলে নেওয়া হয়না যে। কিন্তু, অন্ধকার তো একসময় কাটে। একসময় খারাপ চলে গিয়ে ভালর আগমন হয়। সেভাবেই হল অপেক্ষার অবসান। অবশেষে ভারতীয় দলের দরজা খুলল সরফরাজ খানের সামনে। দিন দুয়েক আগেই তাঁর একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ভাইরাল হয়। কেন ভাল পারফর্ম করেও তাঁকে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না, এই নিয়ে সরব হয়েছিলেন সরফরাজ। কিন্তু এবার তাঁকে ফেরানো হল ভারতীয় দলে। প্রায় ২ বছর পর ভারতীয় দলে ফিরলেন এই মুম্বইকর।
গতকালই জানা গিয়েছিল, আঙুলের চোটের জন্য ভারতীয় দল থেকে ছিটকে গিয়েছেন ওপেনার সাই সুদর্শন। তাঁর জায়গাতেই নেওয়া হয়েছে সরফরাজকে। গত মাসে শ্রীলঙ্কা সফরে ইন্ডিয়া ‘এ’-র হয়ে খেলতে নেমে দ্বিতীয় ম্যাচে চোট লাগে সুদর্শনের। সেই চোট এখনও পুরোপুরি সেরে ওঠেনি। এতদিন বেঙ্গালুরুর সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে রিহ্যাবে ছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানকার ডাক্তাররাই জানিয়েছেন, এখনও কোনও ম্যাচ খেলার উপযুক্ত নন তিনি। ফলে শ্রীলঙ্কা সফরে তাঁকে ছাড়াই নামতে হবে ভারতকে। রবিবার সন্ধ্যায় একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে এই খবর প্রকাশ্যে আনে বিসিসিআই। বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিসিসিআইয়ের মেডিক্যাল টিম তাঁর শারীরিক অবস্থার উপর নজর রাখছে। নির্বাচক কমিটি তাই সরফরাজকে নিয়েছে। নির্বাচকরা সরফরাজ ও শাইক রশিদ – এই দুজনের কথা ভাবলেও ক্রমাগত ঘরোয়া ক্রিকেটে ভাল পারফরম্যান্স করছেন সরফরাজ। এমনকি তারপরেও দলে সুযোগ না পাওয়াতে বারবার নির্বাচকদের উপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি।
২০২৪ সালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলার পর আর দেশের হয়ে কোনও টেস্ট খেলতে দেখা যায়নি সরফরাজকে। দেশের হয়ে ৬টি টেস্ট খেলেছেন সরফরাজ। করেছেন ৩৭১ রান, যার মধ্যে রয়েছে একটি ১৫০ রানের ইনিংসও (বনাম নিউজিল্যান্ড, ২০২৪)। তাই সরফরাজ খানের দলে ফেরা শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ সিরিজে ভারতের বিকল্পের সংখ্যা বাড়াল, যার ফলে আখেরে উপকৃত হতে পারে টিম ইন্ডিয়া।