
স্পেন – ১ (ফেরান তোরেস) : আর্জেন্টিনা – ০
আমেরিকা : ১৬ বছর। ১৬ বছরে কত পরিবর্তন দেখেছে বিশ্ব। শেষ যেবার এই স্পেন দল বিশ্বকাপ জিতেছিল, তখনও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। আজকের তারকা লামিন ইয়ামাল তখন কিন্ডারগার্টেন স্কুলে ভর্তি হয়েছেন কিনা সন্দেহ। তখনও কর্পোরেট হয়নি ভারতীয় ফুটবল। ফোরজি, জোম্যাটো সব রূপকথা। কিন্তু ১৬ বছর আগের ইনিয়েস্তার সঙ্গে কোথাও যেন মিশে গেলেন ফেরান তোরেস। তাঁর গোলেই আজ, সোমবার ১৬ বছর পর বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হল স্পেন। আর্জেন্টিনার খেলা দেখে একবারও চ্যাম্পিয়নদের মতো মনেই হয়নি। আজ যিনি গোল করলেন, সেই ফেরান তোরেস বার্সেলোনার খেলোয়াড়। আবার মেসি বার্সেলোনার ঘরের ছেলে। কি আশ্চর্য সমাপতন!
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ শানিয়েছিল স্পেন। একের পর এক আক্রমণে প্রথম থেকেই দিশেহারা হয়ে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। প্রত্যুত্তরে ফাউল ছাড়া কোনও উপায় ছিল না আর্জেন্টিনার। বলের নাগাল না পেয়ে একাধিক বার ফাউল করতে দেখা গেল ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজোদের। এই ফাউলের ফলেই অক্সিজেন পেয়ে গেল স্পেন। তিকিতাকার ফাঁদে ফেলে বারবার আর্জেন্টিনাকে ভুল করতে বাধ্য করছিলেন ইয়ামাল, কুকুরেয়ারা। প্রথমার্ধেই চোট পেয়ে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ বেরিয়ে যাওয়ায় আরও চাপে পড়ে গেল আর্জেন্টিনা। সেটাই কি অশনি সঙ্কেত, বোঝেননি স্কালোনি?
বোঝেননি বলেই দ্বিতীয়ার্ধেও সুযোগ পেল স্পেন। একাধিকবার আক্রমণ শানিয়েছে স্পেনের আক্রমণ বিভাগ। বদলে বারবার শুধু ডিফেন্স করে গেছে আর্জেন্টিনার ডিফেন্স বিভাগ। ম্যাচের ৬৪ মিনিটে ড্যানি অলমো প্রায় এগিয়েই দিচ্ছিলেন স্পেনকে। কিন্তু আজ ত্রাতা হয়ে দাঁড়ালেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। তিনি গোটা তিনেক নিশ্চিত গোল না বাঁচালে আজ আরও লজ্জার মুখে পড়তে হত আর্জেন্টিনাকে। দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের পর আক্রমণ শানিয়ে গিয়েছে স্পেন এবং স্রেফ অসহায়ের মতো ডিফেন্স করে গিয়েছে আর্জেন্টিনা। এর মধ্যেই আবার ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড থেকে মাঠ ছাড়লেন এনজো ফার্নান্দেজ। ফলে বাকি সময় ১০ জনে খেলতে হল আর্জেন্টিনাকে।
৯০ মিনিট অবধি ম্যাচ ০-০ থাকায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ৯৬ মিনিটের মাথায় নিকো উইলিয়ামস গোল করলেও ফাউলের জন্য স্পেনের সেই গোল বাতিল করেন রেফারি। তবে আর বেশিক্ষন অপেক্ষা করতে হয়নি স্পেনকে। ১০৬ মিনিটের মাথায় গোল পেল স্পেন। পেদ্রো পোরোর বল পেলেন ফেরান তোরেস। তাঁর শট বক্সের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা তিনজন ডিফেন্ডার ও গোলকিপারকে হতবাক করে জড়িয়ে গেল জালে।
গোটা ম্যাচে একটাও অ্যাটাক না করা আর্জেন্টিনা আক্রমণ শুরু করল ১১০ মিনিটের পর। তখন আর কিছু হত না। হলও না। শেষ মুহূর্তে একমাত্র গোলের সুযোগ ছাড়া আর কোনও আক্রমণই করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। শেষ অবধি ১-০ ফল রেখেই জিতল স্পেন। ২০১০ এর পর ২০২৬ – স্প্যানিশ আর্মাডার আক্রমণে ধ্বংস আর্জেন্টিনা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই নেটিজেনরা বলছেন,”রোজ রোজ কোনও দল শেষ ১৫ মিনিটে কামব্যাক করবে, সেটা কল্পনা করাও অপরাধ।” আজ হলও তাই। বল পজেশনে স্পেন এগিয়ে ৬৫-৩৫, গোলমুখী শট? স্পেন ১২, আর্জেন্টিনা ০। পাস? স্পেন ৭৬২, আর্জেন্টিনা ৩৫৮। সেভ? স্পেন ০, আর্জেন্টিনা ১১। ম্যাচের প্রথম থেকেই এগিয়ে ছিলেন রদ্রিরা, এবং ম্যাচের শেষেও চ্যাম্পিয়ন হয়েই মাঠ ছাড়ল স্প্যানিশ ব্রিগেড।
১৯৯০তে মারাদোনা, ১৯৯৮তে দুঙ্গা, ২০২২-এর হুগো লরিসের সঙ্গে একই আসনে বসলেন লিও মেসি। যে দল যে বছর চ্যাম্পিয়ন হয়, সেই দল পরের বিশ্বকাপে আবার ফাইনাল খেললে রানার্স হয় – এই অভিশাপ ভোগ করেছেন এঁরাও। আজ সেই হারের স্বাদ পেলেন মেসি নিজেও। তাই কি কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়লেন? হতে পারে। ভগবানের চোখে জল, এও কি মেনে নেওয়া যায় নাকি?