
স্পেন – ২ (ওয়েরজাবাল পেনাল্টি, পোরো) : ফ্রান্স – ০
ডালাস : যখন বিশ্বকাপের গ্ৰুপ পর্বের ফ্রান্স আর এই ফ্রান্সের মধ্যে যে আকাশ-পাতাল তফাৎ, তা কে বলবে? কে বলবে যে এই ফ্রান্স স্পেনের বিরুদ্ধে দাঁড়াতেই পারেনি? কে বলবে এই ফ্রান্সের আক্রমণ বিভাগ, যা সবথেকে চর্চিত ছিল শেষ চারের আগে, তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হল? স্পেন বনাম ফ্রান্স ম্যাচের রেজাল্ট সাম্প্রতিক সময়ে যা হয়েছে, আজকেও একই হল। বলা ভাল, ফ্রান্সের আক্রমণের একটাই অ্যান্টিডোট – স্পেনের ডিফেন্স ও মাঝমাঠ। এই দুইয়ের উপর ভর করেই জিতলেন ইয়ামালরা।
ম্যাচের আগেই ইয়ামাল হুমকি দিয়েছিলেন, তাঁরা ফ্রান্সকে আটকে দেবেন। দিলেনও। তবে তার কৃতিত্ব দিতেই হয় স্পেনের মাঝমাঠকে। বেশ কিছু অ্যাটাক করলেও বারবার সেই ফাইনাল থার্ডে আটকে যাচ্ছিলেন এমবাপেরা। ২০ মিনিটের মাথায় দুর্ভাগ্য। বক্সের মধ্যে ইয়ামালকে ফাউল করলেন দিগনে। পেনাল্টি থেকে গোল করতে ভুল করেননি মিকেল ওয়েরজাবাল। এর কিছুক্ষনের মধ্যেই উইলিয়াম সালিবা চোট পেয়ে বেরিয়ে গেলেন, ফলে আরও বিপদ বাড়ল ফ্রান্সের।
প্রথমার্ধেই বারবার ফরাসি বক্সে স্পেন ঢুকলেও প্রতিহত হচ্ছিল তাদের আক্রমণ, তার জন্য ঝুল কুন্ডে ও উপমেকানোকে কৃতিত্ব দিতেই হয়। কিন্তু ফ্রান্সের আক্রমণের ত্রয়ী – এমবাপে, বার্কোলা, ওলিসে, তাঁরা না ঠিক বল পেলেন, না এমবাপেকে ঠিক বল বাড়াতে পারলেন। ফলে, বারবার খেই হারাল ফরাসি আক্রমণ। দ্বিতীয়ার্ধে ৫৮ মিনিটের মাথায় গোল করলেন পেদ্রো পোরো। এবং দুই গোল খেয়ে যেন কিছুটা ম্রিয়মান হয়ে গেল ফ্রান্স। ফরাসি ব্রিগেড বারবার ব্যর্থ হল মাঝমাঠের কাছে। যাও বা দু-একটা আক্রমণ করার সুযোগ পেয়েছিল ফ্রান্স, তাও আটকে দিলেন স্পেনের গোলকিপার উনেই সিমন। তেকাঠির নিচে তাঁর বিস্বস্ত হাত বারবার বাঁচাল স্পেনকে। চূড়ান্ত অঘটন না হলে, এই বিশ্বকাপের গোল্ডেন গ্লাভস পেতেই পারেন সিমন। বারবার আক্রমণে উঠলেও সেই চেনা-পরিচিত ফ্রান্সকে যেন আজ খুঁজেই পাওয়া গেল না, যার ফলে বিপদ বাড়ল দুয়েদের।
এই জয়ের ফলে ২০২৪ ইউরো কাপ, ২০২৫ নেশন্স লিগের পর ২০২৬ বিশ্বকাপেও স্পেনই বধ করল ফ্রান্সকে। বারবার কেন স্পেনের কাছেই আটকে যায় ফ্রান্স? কেন তিন বছরেও দে লা ফুয়েন্তের স্ট্র্যাটেজির কোনও অ্যান্টিডোট পেল না দেশঁর দেশ? ফলত, ১৬ বছর পর আবার বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন। এবার বিশ্বকাপ জয় কি করতে পারবেন ইয়ামাল-রদ্রিরা? উত্তর দেবে সময়।