
আমেরিকা: সব খেলার সেরা বাঙালির তুমি ফুটবল – এই বহু পরিচিত শব্দকে বারবার শুনেছে বাঙালিরা। বিশ্বকাপে ভারত খেলুক বা না খেলুক, বাঙালির আগ্রহ, রাত জাগার অভ্যাস – সবকিছুই বাড়িয়ে দিয়ে যায় এই দেড় মাসের ফুটবল উৎসব। দেড় লক্ষের কুরাসাও হোক বা সাড়ে ৫ লক্ষের কেপ ভার্দে – সবাই বিশ্বকাপে সুযোগ পায় কিন্তু ভারত যেন দিনের পর দিন পিছিয়েই পড়ে। কিন্তু তবুও ভারত স্বপ্ন দেখে একদিন বিশ্বকাপ খেলার। যিনি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ গোল করলেন, সেই ফেরান তোরেসকে দেখে আনন্দে উদ্বেলিত অনেক কলকাতাবাসীই। কারণ, এই ফেরানের ছোটবেলাতে যে এঁরাও শামিল ছিলেন।
ঠিক ৯ বছর আগে, ২০১৭ সাল। ভারতে বসেছে অনুর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপের আসর। তারই ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে কলকাতার যুবভারতী স্টেডিয়ামে। মুখোমুখি স্পেন ও ইংল্যান্ড। সেই স্পেনের হয়েই মাঠে নেমেছিলেন ফেরান তোরেস। প্রথমে ২-০ এগিয়ে গেলেও ২-৫ হারতে হয় স্পেনকে। জোড়া গোল করেছিলেন ফিল ফডেন। তবে ম্যাচ হারলেও ভাল পারফরম্যান্স করেছিলেন তোরেস। ম্যানচেষ্টার সিটি-র হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। এমনকি ২০২২ সালে বার্সেলোনায় যোগ দিয়েছিলেন তোরেস। ২০২০ সালে জাতীয় দলে অভিষেক ঘটান ফেরান। খেলেছেন ২০২২ বিশ্বকাপ ও ২০২৪ ইউরো কাপেও। এই বিশ্বকাপে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন অতীতে। কিন্তু, ২০২৬ ফাইনালে তাঁর গোলেই স্পেন হারাল আর্জেন্টিনাকে। যে ফেরান তোরেসকে এতো ট্রোল, সমালোচনা করা হয়েছিল, সেই তোরেসের গোলেই ১৬ বছর পর বিশ্বকাপ জিতলেন দে লা ফুয়েন্তে।
সেদিনকার ১৭ বছরের ফেরান খেলে গিয়েছিলেন কলকাতায়। সেই ম্যাচে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলা ফিল ফডেনকে পুরস্কার দিয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ ফডেন না থাকলেও ছিলেন ফেরান। তাঁর গোলেই খালি হাতে ফিরতে হল আর্জেন্টিনাকে। টানা দুইবার মেসিকে বিশ্বকাপ তুলতে দেখা থেকে বিরত রইলেন দর্শকরা। তবু বলতেই হয়, বিশ্বকাপার ফেরান তোরেস যেবার কাঁদতে কাঁদতে ফিরেছিলেন, সেই বছর তাঁকে চাক্ষুষ দেখার সুযোগ পেয়েছিল কলকাতা। সেই বছর বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েছিল ভারতও। সেই ভারত দলের সবথেকে উদীয়মান তারকা কোমল থাটালরা আজ কোথায়? আনোয়ার আলীকে তাও ইস্টবেঙ্গলে খেলার সুবাদে চেনে জনগণ, কিন্তু বাকি কটা নাম জনমানসে পরিচিত? সেদিকে আজ বিশ্ব ফুটবল মাতাচ্ছেন ফডেন, ফেরান তোরেসরা। তবুও, এই পোড়া কপালে এটাই আশার দিক, আগামী বিশ্বকাপে ৪৮ এর বদলে ৬৪টি দেশ খেলতে পারে। তবুও, ভারত কি সেই বিশ্বকাপে সুযোগ পাবে? উত্তর বহু বছর ধরেই যে অজানা।