FIFA World Cup 2026: ফুটবলারদের সঙ্গে ‘অপরাধীসুলভ’ আচরণ আমেরিকার, মুখে কুলুপ দিয়ে কাঠগড়ায় ফিফা!

Senegal Footballers: অনেকেই আবার সোজাসুজি কাঠগড়ায় তুলছেন ফিফাকে। তাঁদের প্রশ্ন, কেন ফিফা এই অসভ্যতার বিরুদ্ধে কোনও কথা বলছে না? তাহলে কি আমেরিকার এই ব্যবহারকে সমর্থন করছেন ফিফা প্রেসিডেন্ট ইনফান্তিনো? নাকি আমেরিকার বিরুদ্ধে 'ভয়ে' মুখ খুলছেন না তিনি?

FIFA World Cup 2026: ফুটবলারদের সঙ্গে অপরাধীসুলভ আচরণ আমেরিকার, মুখে কুলুপ দিয়ে কাঠগড়ায় ফিফা!
Image Credit source: Getty Images

| Edited By: Moumita Das

Jun 10, 2026 | 12:43 PM

কলকাতা : ‘ক্রিমিনাল ট্রিটমেন্ট’ বোঝেন? যেভাবে অপরাধীদের সঙ্গে ব্যবহার করা হয়? প্রতিনিয়ত জেরা, সন্ধান করে যেভাবে অপরাধীদের থেকে নানাভাবে তথ্য আদায় করেন পুলিশ, গোয়েন্দারা? ঠিক তেমনই ব্যবহার এবার ফুটবলারদের সঙ্গেও। না না, কোনও ক্লাব পর্যায়ের ‘ছোট’ টুর্নামেন্টে এই ঘটনা ঘটেনি। ঘটেছে বিশ্বকাপের মঞ্চে, বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার ঠিক একদিন আগে। যে বিশ্বকাপ আয়োজন করে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ‘ফিফা’। তাদের সামনেই এই ঘটনা। শুধু এই ঘটনাই তো নয়, একের পর এক ‘অসভ্যতা’ করে চলেছে আমেরিকা, বদলে মুখে রা কাড়ছে না ফিফা।

কী নিয়ে বিতর্ক ঘটেছে?

বিশ্বকাপ খেলার জন্য গতকাল আমেরিকায় নেমেছে সেনেগাল দল। এবং নামার পরেই তাদের অপরাধীদের মতো করে তল্লাশি করেছে মার্কিন নিরাপত্তাকর্মীরা। স্যান অ্যান্টোনিও বিমানবন্দরের টারম্যাকে নামার সঙ্গেসঙ্গেই ফুটবলারদের নানা ভাবে তল্লাশি করা হয়। এমনকি মাদক সন্দেহে তাঁদের ব্যাগ, ট্রলি সব খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হয় নিরাপত্তাকর্মীদের তরফে। শুধু তাইই নয়, উজবেকিস্তানের সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে তা যেন আরও একধাপ এগিয়ে। নিউ ইয়র্কের ট্রেনিং ভেন্যুতে উজবেকিস্তান দল নামার পর তল্লাশির পাশাপাশি মাদক সন্ধানী কুকুর এনেও তল্লাশি করা হয়েছে উজবেক ফুটবলারদের। বাদ যায়নি মেটাল ডিটেক্টরও।

 

এই ভিডিও ও ছবি প্রকাশ্যে আসতেই গোটা বিশ্বের ফুটবল ভক্তরা। অনেকেই বলছেন, ফুটবলারদের সঙ্গে অপরাধীসুলভ ব্যবহার করা হচ্ছে। তাও আবার বিশ্বমঞ্চে, যা একেবারেই অনৈতিক। একজন সমর্থক প্রশ্ন করেছেন,”কোনও সাদা চামড়ার ফুটবলারদের সঙ্গে এই ব্যবহার করা হয়েছে? নাকি এটা শুধু কৃষ্ণবর্ণের জন্যই প্রযোজ্য? সেনেগালের জন্য এই সার্ভিস কি ‘রিজার্ভ’ করা ছিল? অমানবিক !” অনেকেই আবার সোজাসুজি কাঠগড়ায় তুলছেন ফিফাকে। তাঁদের প্রশ্ন, কেন ফিফা এই অসভ্যতার বিরুদ্ধে কোনও কথা বলছে না? তাহলে কি আমেরিকার এই ব্যবহারকে সমর্থন করছেন ফিফা প্রেসিডেন্ট ইনফান্তিনো? নাকি আমেরিকার বিরুদ্ধে ‘ভয়ে’ মুখ খুলছেন না তিনি?

যদিও এর আগে একের পর এক আচরণে হতবাক হয়েছেন ফুটবল ভক্তরা। যেমন, ইরানকে ম্যাচ খেলার ২৪ ঘন্টা মধ্যেই দেশ ছেড়ে মেক্সিকোতে ফেরত যেতে হবে। ইরাকের ক্যাপ্টেনকে জঙ্গি সন্দেহে ৭ ঘন্টা আটক করে রেখেছিল মার্কিন পুলিশ। সোমালিয়ার রেফারিকে স্রেফ অভিবাসন নীতির নাটক করে বাদ দিয়ে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ফুটবলের মঞ্চ কোনোদিনই রাজনীতির লড়াই ছিল না। কিন্তু, ট্রাম্পের একের পর এক কড়া নিয়মে একপ্রকার চমকে যাচ্ছেন সমর্থকরা। বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই যদি এই অবস্থা হয়, বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর কী হবে, সেই নিয়েই শঙ্কিত বিশ্ব ব্যাপী ফুটবল ভক্তরা।

Follow Us