
ব্রাজিল – ৩ (কুনহা ২, ভিনি) : হাইতি – ০
আমেরিকা : ব্রাজিল (Brazil) মানেই ফুটবল, ব্রাজিল মানেই সাম্বার (Samba) ঝলক, ব্রাজিল মানেই অসম্ভবকে সম্ভব করার আপ্রাণ চেষ্টা, ব্রাজিল মানেই শিল্পের সঙ্গে যেখানে মিশে যায় খেলা। তাই এই ব্রাজিলকে দেখে বারবার মুগ্ধ হতে হয়, আর বুঝতে হয়, বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) মঞ্চে যতই গত ২২ বছরে কোনও ট্রফি নাই আসতে পারে, আজও বিশ্বকাপে ব্রাজিল সেরা। তেমনই সেরার ঝলক দেখা গেল আজ হাইতির বিরুদ্ধে। ব্রাজিলের জয়ের নায়ক? কে আবার, রিয়াল মাদ্রিদের তারকা ভিনি জুনিয়র (Vinicius Jr.)। যেমন নিজে গোল করলেন, তেমন গোল করালেন। তাঁকে নিয়ে অনেক কথা ওঠে, অনেক সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়, মিম-বর্ণবিদ্বেষী ট্রোলে বিদ্ধ করা হয় ভিনিকে। কিন্তু ব্রাজিলের পরপর দুই ম্যাচে ম্যাচের সেরার পুরস্কার নিয়ে ভিনি বুঝিয়ে দিলেন, বিশ্বমঞ্চে এখনও তাঁকে দরকার ব্রাজিলের। এখনও তিনি ফুরিয়ে যাননি।
ম্যাচের প্রথম থেকেই রাশ ছিল ব্রাজিলের হাতে। ১২ মিনিটের মাথায় রাফিনহার গোল অফসাইডের কারণে বাতিল করা হয়। তবে ২৩ মিনিটে ভিনির শট হাইতির গোলরক্ষক জনি প্লাসিড আটকে দিলেও বল প্রতিহত হয়ে ফিরে আসে। তখনই সামনে ছিলেন ম্যাথিউজ কুনহা। তাঁর পায়ে ছোঁয়া লেগে বল ঢুকে যায় গোলে। ৩৪ মিনিটে আবার ভিনির পাসে বল পেয়ে বাঁ পায়ের শটে বল জালে ঢোকান কুনহা। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে গোল করে ব্রাজিলকে ৩-০ এগিয়ে দেন ভিনি জুনিয়র নিজেই।
তবে দ্বিতীয়ার্ধেও ব্রাজিল একাধিক সুযোগ পেয়েছিল। ৭৭ মিনিটের মাথায় বল বারে মারেন ডগলাস স্যান্টোস। এর কিছুক্ষণ পরে অফসাইডের জন্য বাতিল করা হয় রিয়ালের প্রাক্তন তারকা এন্ড্রিকের গোলও। তবে হাইতির অফসাইড ট্র্যাপে বারবার জড়িয়ে পড়েন ব্রাজিল খেলোয়াড়রা। তবে আজকের ম্যাচে সমর্থকদের চিন্তা বাড়ালেন রাফিনহা। ৪১ মিনিটের মাথায় চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন বার্সা তারকা। এছাড়াও প্রথমার্ধে গোলের বন্যা বইয়ে দেওয়া ব্রাজিল কেন পরের ৪৫ মিনিট একটিও গোল করতে পারল না, সেই বিষয়ে ভাবতে হবে ব্রাজিল কোচ আন্সেলোত্তিকে। বল ক্রসবারে লাগে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলিরও। তবে আজও খেলেননি নেইমার জুনিয়র। চোটের কারণে সম্ভবত আগামী ম্যাচেও তাঁকে ছাড়াই নামতে হবে ব্রাজিলকে। বরং, ব্রাজিল কিপার এদারসনের দক্ষতায় গোল পেল না হাইতি। ফলে ৩-০ হেরেই মাঠ ছাড়তে হল এই দেশকে। একই সঙ্গে, বিশ্বকাপের প্রথম দল হিসেবে বিদায় ঘটে গেল তাদের। ব্রাজিলের আগামী ম্যাচে প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড। সেই ম্যাচেও চেনা ভুল করলে নক আউটে কিন্তু ভুগতে হতে পারে ব্রাজিলকে।