TV9 বাংলা EXCLUSIVE: ‘নিতুদা বলেছিল, রেফারি আমাদের হয়ে খেলাবে…’, TV9 বাংলাকে বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার দিলেন অস্কার ব্রুজো!

East Bengal FC : তিনি, অস্কার ব্রুজো ইস্টবেঙ্গলের ভারতসেরা কোচ। তাঁর বদান্যতায় ২৩ বছর পর জাতীয় পর্যায়ে কোনও ট্রফি পেয়েছিল লাল-হলুদ ব্রিগেড। তবে তিনি ইস্টবেঙ্গলের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার পরেও বিতর্ক থামেনি। এবার তিনি এমন এক অভিযোগ এনেছেন, যা নিয়ে উত্তপ্ত কলকাতা ময়দান। রেফারি ম্যানেজ করে আইএসএল পেয়েছে ইস্টবেঙ্গল? TV9 বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কী জানালেন অস্কার?

TV9 বাংলা EXCLUSIVE: নিতুদা বলেছিল, রেফারি আমাদের হয়ে খেলাবে..., TV9 বাংলাকে বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার দিলেন অস্কার ব্রুজো!
অস্কার ব্রুজোImage Credit source: Indian Super League Official Website

| Edited By: Moumita Das

Sep 13, 2026 | 7:20 PM

কলকাতা : তিনি এই মুহূর্তে কলকাতা ফুটবলের সবথেকে কেন্দ্রীয় চরিত্র। দিন দুয়েক ধরেই ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের বিরুদ্ধে একাধিক কথা বলছেন তিনি, প্রাক্তন ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজো। এর ফলে তাঁকে খুনের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন কেন? কেন ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে গিয়ে এত অভিযোগ প্রাক্তন লাল-হলুদ হেডস্যারের? টিভি৯ বাংলাকে এক্সক্লুসিভ ইন্টারভিউ দিলেন অস্কার। 

– সোমনাথ ব্যানার্জী

প্রশ্ন : ২২ বছর পর ইস্টবেঙ্গলকে চ্যাম্পিয়ন করিয়েছেন আপনি। আমাদের মনে আছে, আপনার প্রথম ম্যাচই ছিল মোহনবাগানের বিরুদ্ধে, ডার্বি। সেই ম্যাচে হার থেকে দলকে আইএসএল চ্যাম্পিয়ন করা। যাত্রাটা কেমন ছিল? কতটা মসৃণ, কতটা কঠিন ছিল বলে আপনার মনে হয়?

অস্কার : এটা একদমই সহজ যাত্রা নয়। কারণ, আমি এক পরিস্থিতিতে এসেছিলাম, এবং এসেই আমার প্রথম ম্যাচ ছিল কলকাতা ডার্বি। সেই ম্যাচে হেরেছি, দলের খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে এনেছি, কিভাবে খেলতে হবে, তার একটি ধরণ তৈরী করেছি এবং আমার একটি কঠিন কাজ ছিল, ড্রেসিংরুমে জয়ের মানসিকতা গড়ে তোলা। সেটাও আমাকে করতে হয়েছে। তবে শেষে যে আমরা ২২ বছর পর জাতীয় লীগ পেয়েছি, এটা অনেক বড় প্রাপ্তি। তাই এই জার্নিটা আমার কাছে খুব স্পেশাল। কারণ আমাদের শুধু শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেই লড়তে হয়েছে তা নয়, তার পাশাপাশি চোট, খারাপ সময়, চাপ ও আমার মতে, ক্লাবের অন্তর্বর্তী কিছু সমস্যার সঙ্গেও মোকাবিলা করতে হয়েছে।

আমাদের প্রত্যেক খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা কৃতিত্বের দাবিদার। ক্লাবের সঙ্গে জড়িত কিছু ব্যক্তির সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত মতপার্থক্য থাকলেও, মাঠে ওই দল যা যা অর্জন করেছে, তার গুরুত্ব অপরিসীম।

প্রশ্ন : যে মুহূর্তে আপনি ঘোষণা করেছিলেন, “দলের সব তথ্য ফাঁস হয়ে যাচ্ছে,” দলের ভিতরের পরিস্থিতি কেমন ছিল? আপনাকে এসব নিয়ে কথা বলতে কেউ বারণ করেনি ?

অস্কার : দেখুন, ওই কথাটা তো আমি আর মন থেকে বানিয়ে বলিনি। সব খেলোয়াড়, কোচ এই সমস্যার কথা জানতেন, যে সমস্যার সঙ্গে ক্লাবটি বহু বছর ধরে লড়াই করছে। আমাদের বিশ্বাস করার মতো পর্যাপ্ত কারণ ছিল। কারণ, এমন কিছু তথ্য যা খেলাধুলোর পরিবেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কথা ছিল, সেগুলো বাইরের লোকে জেনে যাচ্ছিল।

আসল বিষয় হল, একজন কোচের জন্য গোপনীয়তা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচের আগে কখনও দলের প্ল্যানিং, নির্বাচিত খেলোয়াড়ের লিস্ট, কে চোট পেয়েছে – সব ভেতরের আলোচনা বাইরে ছড়িয়ে পড়া উচিত নয়। আমি আসলে কথাটা এমন সময় বলেছিলাম, যখন আমার মনে হয়েছে, এই সমস্যাটা আর উপেক্ষা করলে হবে না। দলের স্বার্থরক্ষা করতে আমি কারও থেকে অনুমতি নেব না। কোচ হিসেবে তো এটা আমার কর্তব্য।

প্রশ্ন : যে কদিন আপনি কাজ করেছেন, ইস্টবেঙ্গল ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কে আপনার কী মত? এঁরা কী ভাল নাকি ম্যানিপুলেটিভও কেউ কেউ আছেন?

অস্কার : দেখুন, আমি এমন কিছু মানুষের সঙ্গে কাজ করেছি, যাঁরা আসলেই পেশাদার ছিলেন ও সত্যিই দলকে সফল করতে আগ্রহী। তবে আমি আবার এমন পরিবেশও দেখেছি, যেখানে অনেকে প্রভাব খাটাত। আমার অসুবিধে এই হস্তক্ষেপ নিয়ে। একটি পেশাদার ফুটবল দলে সবার দায়িত্ব ভাগ করা থাকে। কোচ কোচিং করবেন, নিয়োগ বিভাগ খেলোয়াড় নিয়োগ করবে, মেডিক্যাল বিভাগ চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয় দেখবে ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগ সবদিক পরিচালনা করবে। কিন্তু যখন এসবের বাইরে থাকা কেউ খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলেন, ড্রেসিংরুমে নানা কথা ছড়ান, তখন দলের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে যায়। বেশ কিছু ব্যক্তি আছেন, যাঁদেরকে দেখে আমার মনে হয়েছে এঁরা বেশ ম্যানিপুলেটিভ।

প্রশ্ন : আপনি তাহলে আপনার চুক্তি রিনিউ করলেন না কেন?

অস্কার : কারণ শুধুমাত্র সাফল্য আমাকে এই ক্লাবের হয়ে কোচিং করানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। আমার দরকার সাফল্যের পাশাপাশি একটি পেশাদার প্ল্যানিংও – যা ক্লাবের পরবর্তী পলিকল্পনা সম্বন্ধে বার্তা দেবে। কিন্তু এই ক্লাবের পরবর্তী পরিকল্পনা দেখে আমার মনে হয়েছে এই অধ্যায় এখানেই শেষ করা ভাল। কারণ , আমার মনে হয়েছে ভবিষ্যতেও এই সমস্যা চলবে।

প্রশ্ন : আপনি তো ইস্টবেঙ্গল ক্লাব ছেড়ে দিয়েছেন প্রায় ৪ মাস আগে, এখন এই কথাগুলো বলছেন কেন ? আইএসএল জয়ের পর কাউকে জানাতে পারতেন তো।

অস্কার : কারণ, সময়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। একটা ঐতিহাসিক চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের সেই আনন্দের মুহূর্তকে ঝামেলা বা কোনও লড়াই করে বিষাদপূর্ণ করা আমার উদ্দেশ্য ছিল না। মরশুম চলাকালীন আমার একটি বড় দায়িত্ব ছিল ড্রেসিংরুমের পরিবেশ ঠিক রাখা। একজন কোচ যদি প্রতি সপ্তাহেই দলের অন্দরমহলের সমস্যা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেন, তাহলে খেলার প্রতি মনোযোগ থাকবে? ক্লাব ছাড়ার পর প্রথমে আমি সবকিছু ভুলে এগিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারপর যখন আমার কোচিং পদ্ধতি ও ক্লাব ছাড়ার বিষয়ে কথা শুরু হল, তখন আমার মনে হল, আমার দিকটাও সবার জানা উচিত। আমি সেই সময় বলিনি কারণ, তখন দলের স্বার্থকে আমি অগ্রাধিকার দিয়েছি।

প্রশ্ন : নিতুদা বলেছেন, “অস্কার চ্যাম্পিয়ন কোচ। অস্কারকে আমরা হৃদয়ে রাখব। অস্কার ব্রুজো জিন্দাবাদ।” এটা নিয়ে আপনার কী মত? মানুষ হিসেবে নিতুদা কেমন?

অস্কার : সত্যি বলতে, আমি কাউকে ভাল বা খারাপ দিয়ে বিচার করতে ইচ্ছুক নই। প্রকাশ্যে তো তিনি আমার ব্যাপারে খুব ভাল ভাল কথা বলেছেন। আসলে, তিনি দুই রকম কথা খুব ভাল করেই বলতে পারেন। তাঁর কথা শুনলে মনে হবে, আমাদের সম্পর্ক হয়ত খুব ভাল ছিল। কিন্তু আমি অনেক জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলাম। নিতুদার সঙ্গে আমার মতবিরোধ ছিল ক্লাব পরিচালনা ও ফুটবলের বিষয়ে প্রভাব বিস্তার করা নিয়ে। তাঁর ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে বহুদিনের সম্পর্ককে আমি সম্মান করছি কিন্ত তাঁর কিছু নিয়ম ও ফুটবল পরিচালনা করার বর্তমান কাঠামো নিয়ে আমি সন্তুষ্টও নই।

আরও পড়ুন – ‘ও আমাদের নয়ণের মণি…’, অস্কারকে জবাব দেবব্রত সরকারের। 

প্রশ্ন : আপনি বারবার বলছেন একজন মাস্টারের কথা। কে এই মাস্টার? ইনি আপনাকে সরাসরি কোনও নির্দেশ দিতেন?

অস্কার : মাস্টার কথাটা আসলে আমরা মজা করে ব্যবহার করতাম। যিনি সব বিষয়েই মতামত দিতেন, তাঁকে বোঝাতেই এটা ব্যবহার করা হত। ইস্টবেঙ্গল ও ময়দানের পরিবেশ সম্পর্কে যাঁরা অবগত, তাঁরা বুঝতেই পারবেন আমি কার কথা বলছি। তবে আসল বিষয় কোনও নাম নয়, এই ব্যবস্থাটা।

কেউ নিজের মত জানাতেই পারে, তা নিয়ে আমার কোনও অসুবিধে নেই। কিন্তু অফিশিয়াল দায়িত্ব না থাকা কোনও ব্যক্তি যখন সব কিছুতে নাক গলিয়ে সব বিষয়ে মাথা খাটায়, তখন সেটা অস্বস্তিকর হয়। ক্লাবের কিছু ‘ক্লাব লেজেন্ড’ আছেন, যাঁরা একদিকে যেমন খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলতেন, খেলোয়াড়দের সমালোচনা করতেন, নতুন কাকে নেওয়া হবে – এসব বিষয়ে কথা বলতেন, আবার একই সঙ্গে সোশাল মিডিয়াতে ফেক প্রোফাইল বানিয়ে মিডিয়াকে প্রভাবিত করতেন। আমি এগুলোর বিরোধিতাই করেছি।

প্রশ্ন : আপনি অভিযোগ করেছেন, মাস্টার বলেছেন যে আইএসএলে নাকি রেফারি ম্যানেজ করা ছিল। আপনাকে কেউ এই বিষয়ে কোনও কথা বলেছে? রেফারি ম্যানেজের বিষয়ে আপনি কিছু জানতেন?

অস্কার : দাঁড়ান, একটু পরিষ্কার করে কিছু বলে দিই। আমি একবারও বলিনি যে কোনও রেফারিকে টাকা দেওয়া হয়েছিল বা তাকে প্রভাবিত করা হয়েছিল, কারণ এর কোনও প্রমাণ আমার কাছে নেই। আমি আইএসএল বা এআইএফএফ-এর সততা নিয়ে একটা প্রশ্নও তুলছি না।

আমি খালি একটা কথা বলে দিই, আমাকে নিতুদা নিজে বলেছেন যে ম্যাচের রেফারি আমাদের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেবেন। এই একই কথা আমাদের স্টাফদের আরও অনেকের কাছেই বলা হয়েছিল। এবার এটা সত্যি নাকি বানিয়ে বলা, সেটা দেখা আমার কাজ নয়। আমার একটাই প্রশ্ন, কেন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগেই এগুলো বলতে হয়েছে? এর ফলে খেলোয়াড়রা মানসিক দিক থেকে ভুগলে কী হত? ইস্টবেঙ্গলের ২ জন প্রাক্তন কোচও আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে একই অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। কোনও সময়েই এসব কথা বলা উচিত না যে রেফারি আমাদের হয়ে খেলাবেন। এতে খেলোয়াড়দের মনঃসংযোগ নষ্ট হয়।

প্রশ্ন : যে সমর্থকরা আপনাকে একসময় সেরার আসনে বসিয়েছিল, তারাই এখন আপনাকে খুনের হুমকি দিচ্ছে, গালাগাল করছে। এটা কি সমর্থকদের দ্বিচারিতা নাকি আপনি যেহেতু ক্লাবের সম্বন্ধে বেশ কিছু ‘সত্যি কথা’ বলেছেন, যেগুলো নিয়ে তাঁরা ক্ষুব্ধ?

অস্কার : আমি তো কখনওই সব সমর্থককে দোষ দেব না। এটা শুধু নিতুদা ও তাঁর লোকজনের চালানো একটি প্রচার। লাল-হলুদের কোটি কোটি সমর্থক আছে। সবাইকে এক লাইনে ফেলা উচিত নয়। তবে, এই প্রাণনাশের হুমকির পর ক্লাব থেকে কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। আমরা সত্যিই মনে করি, মাস্টারও এর সঙ্গে জড়িত।

আমি জানি, সমর্থকরা কেন রেগে আছেন। তাই আমার সঙ্গে একমত না হলে, আমার কোনও কিছু পছন্দ না হলে তাঁরা কথা বলতেই পারেন। এটাই ফুটবল। কিন্তু হুমকি দেওয়া ও পরিকল্পিতভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা সম্পূর্ণ আলাদা একটি বিষয়। ইস্টবেঙ্গলের প্রতি আমার কোনও ক্ষোভ নেই। আমি দলটিকে ভালবাসি। ইস্টবেঙ্গল অস্কার ব্রুজো, নিতুদা বা যেকোনও একজন কর্মকর্তার থেকেও বড়। কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে কথা বলা মানেই ক্লাবকে বলা নয়। সমর্থকদের উচিত সব তথ্য খতিয়ে দেখে সব পক্ষের কথা শোনা।

প্রশ্ন : একটা কথা শোনা যাচ্ছে, আপনি নাকি মোহনবাগানে যাচ্ছেন? যদি মোহনবাগান সত্যিই আপনাকে কোচ হওয়ার প্রস্তাব দেয়, কী করবেন?

অস্কার : মোহনবাগানের বিষয়ে যে সম্ভাব্য যোগদানের কথা বলা হচ্ছে, সেই সমস্ত জল্পনা ওই মাস্টারই তৈরি করেছে। এর উদ্দেশ্য হল সমর্থকদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে দেওয়া। কিন্তু আমি মনে করি, প্যানোস এই মরশুমে মোহনবাগানকে অনেক কিছু দেবেন। আমি তার জন্য শুভকামনা জানাই। তিনি একজন ভাল কোচ। আমি এই মুহূর্তে ইন্দোনেশিয়ার একটি ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ও আমার পুরো মনোযোগ সেখানেই।

প্রশ্ন : আপনি এক্স-এ একটি মোহনবাগানের ফ্যান পেজকে ফলো করেছেন। তাই অনেকে বলছেন যে আপনি মোহনবাগানে যোগ দিতে চান।

অস্কার : আরে, এক্স-এ কোনও অ্যাকাউন্ট ফলো করা মানেই সেই দলের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে কথা বলা নাকি? আমি ভারতে অনেক ফ্যান ক্লাবের অ্যাকাউন্ট ফলো করি। আপনি যে অ্যাকাউন্ট নিয়ে কথা বলছেন, তাকেও করি। এর অর্থ এটা না যে আমি সেই ক্লাবে কোচিং করাতে চাই। আসলে, ইন্দোনেশিয়া ও ভারত – দুই জায়গাতেই এখনও ট্রান্সফার উইন্ডো খোলা, তাই ট্রান্সফার মার্কেটের খবর জানতেই ফলো করি। আমি ইস্টবেঙ্গল বা মোহনবাগানের কোনও ফ্যান পেজ ফলো করি কী না, তার সঙ্গে আমার পেশাদার সিদ্ধান্ত জড়িয়ে নেই। আমি জানি, এসব গালগল্প ছড়ানোর আসল উদ্দেশ্য কী। দেখুন, অন্য কোথাও চাকরি পেতে গেলে আমার কোনও বিতর্কের প্রয়োজন নেই। আমি যেখানে আছি, তার প্রতি আমি চুক্তিবদ্ধ।

প্রশ্ন : আচ্ছা, শেষ প্রশ্ন। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের বিরুদ্ধে কথা বলার পর যা যা ঘটছে আপনার সঙ্গে, আপনার কি মনে হয় আপনার কলকাতার ক্লাবে কোচিং করার সিদ্ধান্ত একটি ভুল সিদ্ধান্ত?

অস্কার : না না, একদমই না। যদি আমি ভুল সিদ্ধান্ত মনে করতাম, তাহলে আমাকে চ্যাম্পিয়নশিপ জয়, ড্রেসিংরুমের সঙ্গে সম্পর্ক, সমর্থকদের ভালবাসা – সব ভুলে যেতে হবে। এটা আমি পারব না। কলকাতার ফুটবলে প্রচন্ড আবেগ আছে এটা যেমন ঠিক, তবে সেই আবেগের সঙ্গে রাজনীতি ও সমালোচনাও জড়িয়ে – এটাও ঠিক। এই পরিবেশে একজন কোচকে আসার সময় এসব বুঝতে হবে। আইএসএল জয়ের সাফল্য খেলোয়াড়, স্টাফ, সমর্থকদের। এটা চিরকাল তাদেরই থাকবে।

– ধন্যবাদ, অস্কার!

অস্কার : আপনাকেও ধন্যবাদ।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us