Sachin Tendulkar: মাত্র ৩৮ বলেই শেষ কেরিয়ার, ভাঙা আঙুল নিয়ে সচিনকে জাতীয় দলে ঢুকতে সাহায্য করা এই ক্রিকেটারকে চেনেন?

Indian Cricket: ভারতীয় ক্রিকেটের কর্ণের উদাহরণ দিলে বহু ক্রিকেটারের নাম পাওয়া যাবে, যাঁদের কেরিয়ারে বারবার বাধা দিয়েছে ভাগ্য। শাহরুখ খান বলেছিলেন, হারকে জিতনে ওয়ালোকো বাজিগর কেহতে হ্যায় কিন্তু নিজে হেরে অন্যকে জেতালে কী বলা হয়, তা শাহরুখ বলেননি। তাই কেউ সচিনকে কেরিয়ার গড়তে সাহায্য করেও নিজে থেকে যান আড়ালে।

Sachin Tendulkar: মাত্র ৩৮ বলেই শেষ কেরিয়ার, ভাঙা আঙুল নিয়ে সচিনকে জাতীয় দলে ঢুকতে সাহায্য করা এই ক্রিকেটারকে চেনেন?
সচিন তেন্ডুলকরImage Credit source: Getty Images

| Edited By: Moumita Das

Sep 09, 2026 | 2:21 PM

 – সোমনাথ ব্যানার্জী

মুম্বই : ভাল খেলেও সুযোগ না পাওয়া ক্রিকেটারের তালিকা খুঁজতে বসলে বহু নাম পাওয়া যাবে। তবে এমন একজন ক্রিকেটার এই ধরাধামে রয়েছেন, যিনি একই ম্যাচে ক্লাইভ লয়েড, ভিভ রিচার্ডস, জেফ ডুজন ও ম্যালকম মার্শালের ক্যাচ ধরেছিলেন। এখানেই চমক। ১৯৮৩ সালের নভেম্বরে তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে এই কীর্তি ঘটান পরিবর্ত ফিল্ডার হিসেবে। রজার বিনির পরিবর্ত হিসেবে তিনি মাঠে নেমেছিলেন। ম্যাচ শেষে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এক ম্যাচে ৪টি ক্যাচ নেওয়া প্রথম পরিবর্ত ফিল্ডার হিসেবে রেকর্ড গড়েছিলেন। কিন্তু এই কাহিনী স্রেফ ৪ ক্যাচের নয়। এই কাহিনী এমন এক জনের, যিনি সচিন তেন্ডুলকরের মতো মহান ক্রিকেটারের কেরিয়ারের স্থাপত্য গঠনের একজন কারিগর। তাঁর নাম গুরশরণ সিং।

কে গুরশরণ সিং?

১৯৬৩ সালের মার্চে পাঞ্জাবের অমৃতসরে জন্ম গুরশরণের। তিনি দেশের হয়ে ১টি টেস্ট ও ১টি ওডিআই খেলেছেন। মাত্র ১৮ বছর বয়সে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেকেই ১০১* রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। প্রতিপক্ষ ছিল সফরকারী দল ইংল্যান্ড, যে দলে ছিলেন বব উইলিস, ইয়ান বোথামরা। ১৯৮৩ সালের মধ্যে তিনি দেশের ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে এক উল্লেখযোগ্য নাম হয়ে যান।

দুর্ভাগ্যের ২৯৮*

ঘরোয়া ক্রিকেটে একটি ম্যাচে প্রথম ইনিংসে পাঞ্জাব তাড়া করছিল ৫৯৫ রান। একসময় দলটির স্কোর হয়ে যায় ১২২/৫। সেখান থেকে কৃষ্ণ মোহনের সঙ্গে দুর্দান্ত ৩২০ রানের পার্টনারশিপ করেন তিনি। কৃষ্ণমোহন করেন ১১২, পাঞ্জাব অল আউট হয় ৫৫১ রানে। গুরশরণ অপরাজিত থাকেন ২৯৮ রানে। রঞ্জি নক আউট ম্যাচে দুর্দান্ত খেলেও ব্যর্থ হন গুরশরণ।

সচিনের সঙ্গে সম্পর্ক-

অনেকেই বলেন, গুরশরণ নিজের অজান্তেই সচিনের কেরিয়ার বানিয়ে দেন। পাকিস্তানে সফরের আগে একটি ম্যাচে ভারতীয় দল নির্বাচনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ম্যাচে আঙ্গুল ভেঙে যাওয়ার ফলে রিটায়ার্ড হার্ট হন তিনি। অন্যদিকে ১৬ বছর বয়সী সচিন তখন প্রায় সেঞ্চুরির কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। শেষ উইকেটের সময় দলের প্রধান নির্বাচক রাজ সিংহ দুঙ্গারপুর আহত গুরশরণকে আবার ব্যাট করতে পাঠান, যাতে সচিনের সেঞ্চুরি হয়। ভাঙা আঙ্গুল নিয়ে সচিনকে সঙ্গ দেন তিনি ও সচিন ১০৩ রানে অপরাজিত থাকেন। এর ফলে ভারতের দলে নির্বাচন হয় সচিনের। বাকিটা ইতিহাস। তবে সচিন নিজে অনেক জায়গায় গুরশরণের ওই ইনিংসের বিষয়ে কথা বলেছেন।

জাতীয় দলে সুযোগ-

১৯৯০ সালে অবশেষে জাতীয় দলের সুযোগ আসে গুরশরণের সামনে। অকল্যান্ডে ভারতের টেস্ট ক্যাপ পান তিনি। ভারত প্রথম ইনিংসে ৪৮২ রান করে ও ৭ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ৩৮ বলে ১৮ রান করেন তিনি। ম্যাচটি ড্র হওয়ার ফলে দ্বিতীয় ইনিংসে আর কোনও ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাননি তিনি। এর ফলে ৩৮ বলেই শেষ হয়ে যায় তাঁর ক্রিকেট কেরিয়ার। এরপর অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধেও একটি ওয়ান ডে খেলেন। করেন মাত্র ৪ রান। আর কখনও ভারতের হয়ে নির্বাচিত হননি।

যদিও ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি বেশ বড় নাম। ১৯৯২-৯৩ মরশুমে রঞ্জিতে প্রায় ৪৭ গড়ে করেছিলেন ৫৪৮ রান। এবং অধিনায়ক হিসেবে তিনি পাঞ্জাব তাদের একমাত্র রঞ্জি ট্রফি জেতান। লুধিয়ানার ফাইনালে মহারাষ্ট্রকে ১২০ রানে হারিয়ে পাঞ্জাবকে রঞ্জি জেতান গুরশরণ। ১৯৯৪-৯৫ মরশুমে অবসর নেন তিনি। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে মোট ৫৭১৯ রান করেছেন তিনি। করেছেন ১৪টি সেঞ্চুরি ও ৩০টি হাফ সেঞ্চুরি। ভারতীয় ক্রিকেটের কর্ণের উদাহরণ দিলে বহু ক্রিকেটারের নাম পাওয়া যাবে, যাঁদের কেরিয়ারে বারবার বাধা দিয়েছে ভাগ্য। শাহরুখ খান বলেছিলেন, হারকে জিতনে ওয়ালোকো বাজিগর কেহতে হ্যায় কিন্তু নিজে হেরে অন্যকে জেতালে কী বলা হয়, তা শাহরুখ বলেননি। তাই কেউ সচিনকে কেরিয়ার গড়তে সাহায্য করেও নিজে থেকে যান আড়ালে। তবে এটাই দুর্ভাগ্যের, যে একজন সচিনের মতো ক্রিকেটারের কেরিয়ার গড়তে সাহায্য করলেন, কিন্তু নিজের কেরিয়ারকে আর গর্ত থেকে তুলতে পারলেন না। আঙুল ভাঙা, ম্যাচ ড্র – কর্ণের ভাগ্যকেও গুরশরণ পাল্লা দিয়েছেন হয়ত।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us