Brainoware: মানব মস্তিষ্কে কম্পিউটার চিপ যোগ করলেন বিজ্ঞানীরা, মিলল মারাত্মক ফলাফল

বায়ো-কম্পিউটিংয়ের জগতে এই পদক্ষেপ এক কথায় অসাধারণ। তার কারণ, একমাত্র এই ভাবেই কম্পিউটারকে হুবহু মানুষের মস্তিষ্কের মতো কাজ করানো যায়। এমনকি, কিছু ক্ষেত্রে কম্পিউটার এতটাই দক্ষ হতে পারে যে কার্যকারিতার নিরিখে তা ট্র্যাডিশনাল মেশিনগুলিকেও ছাপিয়ে যায়।

Brainoware: মানব মস্তিষ্কে কম্পিউটার চিপ যোগ করলেন বিজ্ঞানীরা, মিলল মারাত্মক ফলাফল
যুগান্তকারী পদক্ষেপ বিজ্ঞানীদের।

| Edited By: সায়ন্তন মুখোপাধ্যায়

Dec 14, 2023 | 8:46 PM

কৃত্রিম মেধা মানুষ তৈরি করে ফেলেছে। তারপরে তারা হাত লাগিয়েছে কৃত্রিম মন তৈরি করার দিকে। সেই উদগ্র বাসনাতেই বিজ্ঞানীরা এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন। ল্যাবে তৈরি করা মানব মস্তিষ্কের (যাকে ব্রেইন অর্গ্যানাইড বলা হয়) কোষের ক্লাস্টারগুলিকে কম্পিউটার চিপের সঙ্গে সংযুক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। এর ফলে কী হতে পারে? মৌলিক কিছু কাজ করতে পারবে ল্যাবে তৈরি করা ওই মস্তিষ্কগুলি, যার মধ্যে অন্যতম হল কোনও মানুষ কিছু বললে তা শুনতে এবং বুঝতে পারা। বায়ো-কম্পিউটিংয়ের জগতে এই পদক্ষেপ এক কথায় অসাধারণ। তার কারণ, একমাত্র এই ভাবেই কম্পিউটারকে হুবহু মানুষের মস্তিষ্কের মতো কাজ করানো যায়। এমনকি, কিছু ক্ষেত্রে কম্পিউটার এতটাই দক্ষ হতে পারে যে কার্যকারিতার নিরিখে তা ট্র্যাডিশনাল মেশিনগুলিকেও ছাপিয়ে যায়।

কীভাবে সম্ভব হল এই কাজ

বিজ্ঞানীদের দলটি স্টেম সেল থেকে ব্রেইন অর্গ্যানয়েড বা এই ল্যাবের মধ্যে মানব মস্তিষ্ক তৈরি করে। তারপর কম্পিউটার চিপের সঙ্গে ওই ব্রেইন অর্গ্যানয়েডটিকে ইন্টিগ্রেট করে। সেখান থেকে একটি AI টুলের সঙ্গেও সেটিকে সংযুক্ত করে, যার নাম ব্রেইনোওয়্যার। এই হাইব্রিড সেটআপটি যে কোনও মানুষের প্রাথমিক বক্তৃতা শনাক্ত করতে পারে। শুধু তাই নয়। সেই বক্তৃতা থেকে AI মডেলটি শিখতে পারে, নিজের মধ্যে কোনও তথ্যের প্রক্রিয়াকরণ করতে পারে এবং তা ধরেও রাখতে পারে।

ব্লুমিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ফেং গুও বলছেন, “কম্পিউটিংয়ের জন্য মস্তিষ্কের অর্গ্যানয়েড ব্যবহার করার এটাই প্রথম পরীক্ষামূলক প্রদর্শন।” আরও যোগ করে তিনি বলছেন, “ভবিষ্যতে বায়োকম্পিউটিংয়ের জন্য অর্গ্যানয়েডের সম্ভাবনাগুলি দেখার কাজটা সত্যিই উত্তেজনাপূর্ণ ছিল।” নেচার ইলেকট্রনিক্সে প্রকাশিত এই গবেষণা বায়ো-কম্পিউটিংয়ে সম্ভাব্য অগ্রগতির পথ প্রশস্ত করেছে বলে দাবি করছেন গবেষকরা, যা ট্র্যাডিশনাল কম্পিউটারের তুলনায় আরও দক্ষ সিস্টেম হয়ে উঠতে পারে।

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, এই ধরনের কম্পিউটিং হার্ডওয়্যারকে ব্রেইন ইনস্পায়ার্ড বা মস্তিষ্ক অনুপ্রাণিত বলা হচ্ছে। কারণ, এদের কাজই হল মানুষের মস্তিষ্কের মতোই হুবহু চিন্তাভাবনা করা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির বর্তমান সীমাবদ্ধতাগুলির মোকাবিলা করা। যদিও এই সিলিকন চিপগুলির একটা মানব মস্তিষ্কের কার্যকারিতার সম্পূর্ণরূপে অনুকরণ করার ক্ষমতা এখনও সীমিত।

মিস্টার গুও বলছেন, “ব্রেইনোওয়্যার হল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং অর্গ্যানয়েডের মধ্যে একটি ব্রিজ। এই অর্গ্যানয়েডগুলিকে মিনি ব্রেইন বলতে পারেন।” তাঁর কথায়, “কম্পিউটিংয়ের জন্য মস্তিষ্কের অর্গ্যানয়েডের মধ্যে বায়োলজিক্যাল নিউরাল নেটওয়ার্কের সুবিধা নিতে পারি কি না, সেই প্রশ্নটিও আমরা জিজ্ঞেস করতে চেয়েছিলাম। সেই কাজও যে আমরা অনায়াসেই করতে পারি, এই পরীক্ষাও তার হাতে নাতে প্রমাণ।”

Follow Us