France: কেচো খুঁড়তে কেউটে নয়, ফ্রান্সে গাছ বসানোর মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে এল ২০০০ বছরের পুরনো ইতিহাস
প্যারিসের ঐতিহাসিক নোত্র দাম ক্যাথিড্রালের সংস্কার ঘিরে নতুন করে ইতিহাসের সন্ধান মিলেছে। গির্জার চারপাশে বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মাটি খোঁড়ার সময় প্রত্নতাত্ত্বিকরা খুঁজে পেয়েছেন প্রায় ২ হাজার বছরের পুরনো নিদর্শন। ফরাসি সংবাদমাধ্যমগুলির দাবি, এটি “Dig of the Century” বা শতকের সেরা প্রত্নখনন। নোত্র দাম ক্যাথিড্রাল বিশ্বের অন্যতম পরিচিত স্থাপত্য। দ্বাদশ শতকে নির্মিত এই গির্জা শুধু ধর্মীয় কেন্দ্র নয়, ফরাসি ইতিহাস ও সংস্কৃতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে উনবিংশ শতকের শুরুতে গির্জাটি দীর্ঘদিনের অবহেলায় জীর্ণ হয়ে পড়েছিল।
প্যারিসের ঐতিহাসিক নোত্র দাম ক্যাথিড্রালের সংস্কার ঘিরে নতুন করে ইতিহাসের সন্ধান মিলেছে। গির্জার চারপাশে বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মাটি খোঁড়ার সময় প্রত্নতাত্ত্বিকরা খুঁজে পেয়েছেন প্রায় ২ হাজার বছরের পুরনো নিদর্শন। ফরাসি সংবাদমাধ্যমগুলির দাবি, এটি “Dig of the Century” বা শতকের সেরা প্রত্নখনন। নোত্র দাম ক্যাথিড্রাল বিশ্বের অন্যতম পরিচিত স্থাপত্য। দ্বাদশ শতকে নির্মিত এই গির্জা শুধু ধর্মীয় কেন্দ্র নয়, ফরাসি ইতিহাস ও সংস্কৃতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে উনবিংশ শতকের শুরুতে গির্জাটি দীর্ঘদিনের অবহেলায় জীর্ণ হয়ে পড়েছিল।
১৮৩১ সালে প্রকাশিত হয় ফরাসি সাহিত্যিক ভিক্টর হুগোর বিখ্যাত উপন্যাস The Hunchback of Notre-Dame। কোয়াসিমোডো, এসমেরালদা ও ফ্রলোর বিয়োগান্তক কাহিনি পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। উপন্যাসটি প্রকাশের পর নোত্র দাম ক্যাথিড্রালের সংরক্ষণ ও সংস্কারের দাবিতে জনমত গড়ে ওঠে। সেই চাপের মুখেই গির্জার পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেয় ফরাসি সরকার। ইতিহাসবিদদের মতে, হুগোর উপন্যাস না থাকলে নোত্র দাম হয়তো আজকের দিনে টিকে থাকত না। ২০১৯ সালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নোত্র দাম ক্যাথিড্রালের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘ সংস্কারের পর ২০২৪ সালের শেষদিকে গির্জাটি আবার দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়।
এবার গির্জার চারপাশে নতুন করে সবুজায়নের কাজ শুরু হয়েছে। সেই প্রকল্পের অংশ হিসেবে খননকাজ চলাকালীন উঠে এসেছে প্রাচীন লুতেশিয়ার নিদর্শন। রোমান শাসনামলে বর্তমান প্যারিস শহরের নাম ছিল ‘লুতেশিয়া’। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, উদ্ধার হওয়া নিদর্শনগুলি সেই সময়কার বসতি ও নগরজীবনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আনতে পারে।
গির্জার নীচ থেকে প্রাপ্ত এই আবিষ্কারকে ফ্রান্সের ইতিহাস গবেষণার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের আশা, ভবিষ্যতের গবেষণায় রোমান যুগের প্যারিস তথা লুতেশিয়ার অজানা ইতিহাস আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

