Donald Trump: ট্রাম্প-নাতালি হার্পকে ঘিরে ফের পরকীয়ার জল্পনা, ফাঁস চিঠিতে বাড়ছে রহস্য
ভদ্রলোক এখনও আফশোষ করেন, ওই ঘটনাটা নাকি তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল। আর মহিলার বক্তব্য, আমার সম্মতিতেই সম্পর্কটা শুরু হয়েছিল। কিন্তু উনি আমাকে ভুলপথে চালিত করেছিলেন। ব্যাপারটা যখন ধরাই পড়ে গেল, ওনার পদত্যাগ করা উচিত ছিল। সেটা উনি করেননি। উনি আগেও অন্যায় করেছিলেন। পরেও করেছেন। আড়াই দশক আগে গোটা দুনিয়া যে পরকীয়ার কথা খবরের কাগজে গোগ্রাসে গিলত, যে ঘটনা নিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস হেডলাইন করেছিল, অ্যান অ্যাফেয়ার ইন টু রিমেমবার, আজকের দিনে সেই ঘটনার কথা মনে পড়বে না, সেটা হয় নাকি! বিল ক্লিন্টন আর মনিকা লিউনেস্কির পর সাদা বাড়িটা কী আরও একটা পরকীয়া দেখছে?
আড়াই দশক আগে বিল ক্লিন্টন ও মনিকা লিউনস্কিকে ঘিরে যে কেলেঙ্কারি গোটা আমেরিকাকে নাড়িয়ে দিয়েছিল, সেই স্মৃতি ফের উসকে দিয়েছে হোয়াইট হাউসের এক নতুন বিতর্ক। এবার জল্পনার কেন্দ্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী নাতালি হার্প। তবে এখনও পর্যন্ত ট্রাম্প ও হার্পের মধ্যে প্রেম বা পরকীয়ার সম্পর্কের কোনও প্রকাশ্য প্রমাণ নেই। তাঁদের ঘনিষ্ঠতা এবং হার্পের লেখা ব্যক্তিগত চিঠি ঘিরেই মূলত তৈরি হয়েছে এই জল্পনা।
গত কয়েক দিন ধরে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে নাতালি হার্পকে নিয়ে বিস্তর আলোচনা চলছে। ৩৫ বছরের হার্প ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। তাঁর সঙ্গে ৮০ বছরের ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে আগেও নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে ট্রাম্পের জীবনীকার মাইকেল উলফের হাতে থাকা দু’টি চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর। ২০২৩ সালে স্কটল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড সফরের সময় বা তার পর হার্প ওই চিঠিগুলি ট্রাম্পকে লিখেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
চিঠির ভাষাই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি করেছে। একটি চিঠিতে হার্প ট্রাম্পকে লেখেন, তিনি তাঁকে হতাশ করতে চান না এবং ট্রাম্পই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একই চিঠিতে ট্রাম্পকে ‘Guardian and Protector’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। চিঠির শেষে ছিল, ‘With all my heart, Natalie’। অন্য একটি চিঠিতে ট্রাম্পের কাছাকাছি থাকার ইচ্ছা এবং তাঁর সঙ্গে আগের মতো ব্যক্তিগতভাবে কথা বলার আকাঙ্ক্ষার কথাও উঠে এসেছে।
আরও একটি চিঠিতে হার্প এমন একটি কাজের আকাঙ্ক্ষার কথা জানিয়েছেন, যাতে তিনি ট্রাম্পের কাছাকাছি থাকতে পারেন। ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত যোগাযোগ আগের মতো ফিরে আসুক, এমন ইচ্ছার কথাও চিঠিতে রয়েছে। এই ভাষা থেকেই অনেকের প্রশ্ন, তাঁদের সম্পর্ক কি শুধুই পেশাগত? যদিও চিঠিগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে সম্পূর্ণ যাচাই করা হয়নি এবং হোয়াইট হাউস হার্পকে ট্রাম্পের অত্যন্ত অনুগত ও পরিশ্রমী সহযোগী হিসেবেই বর্ণনা করেছে।
চিঠিগুলি প্রকাশ্যে আনার নেপথ্যে রয়েছেন মাইকেল উলফ। ট্রাম্পের ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচার নিয়ে বই লেখার সময় তিনি ওই চিঠিগুলি পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, ট্রাম্পের প্রচার শিবিরের কিছু কর্মী হার্পের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। পরে উলফ সেই চিঠির ছবি হাতে পান এবং চলতি মাসে সেগুলি প্রকাশ করেন।
বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে কারণ নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যানের রিপোর্ট অনুযায়ী, হার্পের লেখা ওই চিঠি নিয়ে সিক্রেট সার্ভিসের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। হার্পের ট্রাম্পের অত্যন্ত কাছাকাছি থাকা এবং তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনে প্রভাব নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে।
হার্পের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও মন্তব্য হয়েছে। ডেমোক্র্যাট সেনেটর জন অসফ সম্প্রতি ট্রাম্পের সঙ্গে হার্পের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন। ট্রাম্প শিবির অবশ্য হার্পের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। হোয়াইট হাউসের তরফে তাঁকে ট্রাম্পের অন্যতম বিশ্বস্ত ও পরিশ্রমী সহযোগী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
এখানেই ফিরে আসে ক্লিন্টন-লিউনস্কি অধ্যায়। ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে হোয়াইট হাউসে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টনের সঙ্গে ইন্টার্ন মনিকা লিউনস্কির সম্পর্ক মার্কিন রাজনীতিতে তীব্র ঝড় তুলেছিল। সেই কেলেঙ্কারির জেরে ক্লিন্টনের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়াও শুরু হয়। কিন্তু নাতালি হার্পের ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত তেমন কোনও প্রমাণ সামনে আসেনি, যা দিয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত বলা যায়।
বরং এখন পর্যন্ত যা সামনে এসেছে, তা হল একাধিক ব্যক্তিগত চিঠি, ট্রাম্পের প্রতি হার্পের গভীর আনুগত্য এবং অস্বাভাবিক ঘনিষ্ঠতার নানা দাবি। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এই সম্পর্কের সীমারেখা ঠিক কোথায়? নাকি গোটা ঘটনাই একজন অত্যন্ত অনুগত সহযোগীর ব্যক্তিগত আবেগের বহিঃপ্রকাশ?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, ট্রাম্প বা হার্প—কেউই প্রকাশ্যে কোনও পরকীয়া সম্পর্কের কথা স্বীকার করেননি। ফলে আপাতত ‘ট্রাম্প-নাতালি পরকীয়া’ একটি অভিযোগ বা জল্পনাই, প্রতিষ্ঠিত সত্য নয়। তবে যে চিঠিগুলি প্রকাশ্যে এসেছে, তা মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ মহল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলার জন্য যথেষ্ট।

