AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Pollution in Lahore: দিল্লি-লাহোরের দূষণের দায় কার? ক্রিকেট মাঠের বাইরে লড়াইয়ে ভারত-পাক

Pollution in Lahore: দিল্লি-লাহোরের দূষণের দায় কার? ক্রিকেট মাঠের বাইরে লড়াইয়ে ভারত-পাক

সঞ্জয় পাইকার

|

Updated on: Nov 16, 2024 | 12:13 AM

Share

Pollution in Lahore: চলতি মাসের চার তারিখ ঘুম থেকে উঠে লাহোরের মানুষ দেখলেন, তাঁদের শহরের আকাশ ধোঁয়া - ধুলোয় ঢাকা। বাইরে বেরলে দম বন্ধ হওয়ার জোগাড়। ঘটনাচক্রে তখন মর্নিং ওয়াকে বেরিয়েছিলেন লাহোরের মার্কিন কনসাল জেনারেল ও তাঁর স্ত্রী। ওই প্রবল দূষণের কনসাল জেনারেলের স্ত্রীর শ্বাসকষ্ট শুরু হয় ও কোনও ঝুঁকি না নিয়ে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নয়াদিল্লি: ক্রিকেট, কূটনীতি, রাষ্ট্রসংঘের বাইরেও আরও এক ব্যাপারে ভারত-পাক খটাখটি লেগেছে। দূষণ নিয়ে। লাহোর শহরটা এখন আস্ত এক গ্যাস চেম্বার। গত ৭-৮ দিনে শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৫ হাজার মানুষ। হাসপাতাল আর রোগীদের জায়গা দিতে পারছে না। বেশ কিছু স্কুল বন্ধ। সরকারি অফিসে, কর্পোরেটে চলছে ওয়ার্ক ফ্রম হোম। গতকাল লাহোরের বাতাসে দূষণের মাত্রা, AQI ছিল এক হাজার নশোরও বেশি। দুনিয়ার সবচেয়ে দূষিত শহর। লাহোরের গায়ে গায়ে ছুটছে দিল্লি। মঙ্গলবার কিছুক্ষণের জন্য হলেও লাহোরকে ছাপিয়ে গিয়েছিল ভারতের রাজধানী শহর। যদিও পরিবেশ মন্ত্রকের দাবি, দিল্লিতে ভাসমান ধূলিকণার মাত্রা কখনও চরম বিপদসীমার উপরে যায়নি। লাহোরের সঙ্গে দিল্লির তুলনা হয় না। এসবের মধ্যে দূষণের দায় নিয়ে দু-দেশের ঝগড়া লেগেছে।

এনিয়ে কয়েকদিন আগে একটা বেশ মজার ঘটনা ঘটেছে। দিন কয়েক আগে, চলতি মাসের চার তারিখ ঘুম থেকে উঠে লাহোরের মানুষ দেখলেন, তাঁদের শহরের আকাশ ধোঁয়া – ধুলোয় ঢাকা। বাইরে বেরলে দম বন্ধ হওয়ার জোগাড়। ঘটনাচক্রে তখন মর্নিং ওয়াকে বেরিয়েছিলেন লাহোরের মার্কিন কনসাল জেনারেল ও তাঁর স্ত্রী। ওই প্রবল দূষণের কনসাল জেনারেলের স্ত্রীর শ্বাসকষ্ট শুরু হয় ও কোনও ঝুঁকি না নিয়ে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেদিনই খবর আসে, লাহোর একটি রেকর্ড তৈরি করে ফেলেছে। দুনিয়ার সবচেয়ে দূষিত শহরের তকমা আদায় করে নিয়েছে। সেদিন লাহোরের বাতাসে ভাসমান ধূলিকণা বা একিউআরের সর্বোচ্চ পরিমাণ ছিল এক হাজার নশোর বেশি। গড় একিউআর এক হাজার সাতষট্টি। লাহোরের এই অবস্থা কেন? পাক-পঞ্জাব প্রদেশের মন্ত্রী মারিয়ম আরঙ্গজেব ভারতের দিকে আঙুল তুলেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, ভারতের পঞ্জাবে শস্য পোড়ানো ও দিল্লির রাস্তায় তৈরি দূষণে লাহোরের এই অবস্থা। মারিয়ম পাক বিদেশমন্ত্রকে চিঠি দিয়ে বলেন, দয়া করে এই ব্যাপারে কূটনীতিক স্তরে ভারতের সঙ্গে কথা বলে একটা বিহিত করুন। পাক বিদেশমন্ত্রক খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি। মারিয়ম হাল ছাড়েননি। তিনি, নওয়াজ শরিফের মেয়ে পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম শরিফের দ্বারস্থ হন। মরিয়ম শরিফ তদ্বির করায় ফাঁপরে পড়ে যায় পাক বিদেশমন্ত্রকের কর্তারা। দূষণ নিয়ে বিদেশমন্ত্রকের রোল কী হতে পারে, বিষয়টা সম্ভবত তাঁদের মাথায় ঢোকেনি। আবার তাঁরা মারিয়মকেও চটাতে চাননি। তাই দূষণের জন্য ভারতকে দায়ী করে একটি বিবৃতি জারি করে দেয় পাক বিদেশমন্ত্রক। সেখানে বলা হয়, দূষণ রোধে প্রয়োজনে ভারতের সঙ্গে কাজ করতে পাকিস্তান তৈরি।

ভারত কী বলছে? গত দু-চার দিন দিল্লিও কার্যত গ্যাস চেম্বার। বাতাসে ভাসমান ধূলিকণা বিপজ্জনক মাত্রার উপরে। সরকারি তথ্যই বলছে, দিল্লিতে ভাসমান ধূলিকণার পরিমাণ চারশোর উপরে। আর দিল্লির এই দূষণের জন্য পাকিস্তান বিশেষ করে লাহোরকে দায়ী করছে দিল্লি ও পঞ্জাবের পরিবেশ দফতর। এমনকি কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদও এব্যাপারে দিল্লি ও পঞ্জাব সরকারের পাশে। তিন সংস্থারই দাবি, লাহোর দূষণ-রোধে ব্যর্থ। তার জেরে দিল্লিতেও গ্যাস চেম্বারের মতো অবস্থা। তার প্রমাণ পাক পরিবেশ মন্ত্রক ও লাহোরের পুর- প্রশাসনের হাতে তুলে দিতে তারা তৈরি। তাদের যুক্তি, গত এক সপ্তাহে পঞ্জাবে শস্য পোড়ানোর পরিমাণ অনেকটাই কম। তাই দিল্লি, পঞ্জাবে দূষণের দায় পাকিস্তানের।