USA-Iran: হরমুজকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ দাবি ট্রাম্পের, ক্যালিফোর্নিয়াকে ইরানের ‘নতুন অঞ্চল’ দেখিয়ে পাল্টা কটাক্ষ
পানামা খাল পানামার। নামেও তারই পরিচয়। তবে আমেরিকার সঙ্গে এই খালের ইতিহাস বহু পুরনো। ১৯০৩ সালের হে-বুনাও-ভ্যারিলা চুক্তির মাধ্যমে পানামা আমেরিকাকে খাল নির্মাণ, পরিচালনা ও প্রতিরক্ষার জন্য বিশেষ অধিকার দিয়েছিল। ১৯১৪ সালে পানামা খাল চালু হয়। পরে চুক্তি অনুযায়ী ১৯৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর খালের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পানামার হাতে চলে যায়।
পানামা খাল পানামার। নামেও তারই পরিচয়। তবে আমেরিকার সঙ্গে এই খালের ইতিহাস বহু পুরনো। ১৯০৩ সালের হে-বুনাও-ভ্যারিলা চুক্তির মাধ্যমে পানামা আমেরিকাকে খাল নির্মাণ, পরিচালনা ও প্রতিরক্ষার জন্য বিশেষ অধিকার দিয়েছিল। ১৯১৪ সালে পানামা খাল চালু হয়। পরে চুক্তি অনুযায়ী ১৯৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর খালের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পানামার হাতে চলে যায়।
এই ইতিহাসকে সামনে রেখেই সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ কেউ মজা করে পানামা খালকে ‘ট্রাম্প ক্যানাল’ বলছেন। তবে এর মধ্যেই আরও বড় বিতর্ক তৈরি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে চলা সংঘাতের মধ্যে তিনি হরমুজ প্রণালীকে ‘NEW U.S. Territory’ অর্থাৎ ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখিয়ে একটি ম্যাপ পোস্ট করেছেন। ১৮ অগস্ট ট্রাম্প তাঁর Truth Social অ্যাকাউন্টে ওই ম্যাপ প্রকাশ করেন। পরে হোয়াইট হাউসও সেটি শেয়ার করে।
হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে যুক্ত করে। এর উত্তরে ইরান, দক্ষিণে ওমান। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ এই জলপথ। তাই হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আমেরিকা ও ইরানের সংঘাতের প্রভাব সরাসরি বিশ্ব জ্বালানি বাজারে পড়ছে। ট্রাম্প এর আগেও হরমুজকে আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথা বলেছিলেন। ১৭ অগস্ট তিনি আবারও জানান, মার্কিন নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণের কারণে হরমুজকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার ইচ্ছা তাঁর রয়েছে।
এর পরেই সামনে আসে আরও একটি বিস্ফোরক দাবি। ট্রাম্প জানিয়েছেন, মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালী থেকে মাইন সরিয়ে দিয়েছে বা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ধ্বংস করেছে। তাঁর দাবি, জলপথ এখন ‘open and operating’। ১৮ অগস্টের পোস্টে ট্রাম্প বলেন, সব ওয়াটার মাইন সরানো বা বিস্ফোরণে ধ্বংস করা হয়েছে এবং মার্কিন নৌ অবরোধও বহাল রয়েছে। মাইন অপসারণের প্রযুক্তিগত পদ্ধতি নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে সমুদ্রের তলায় থাকা মাইন শনাক্ত করতে সেন্সর, সোনার প্রযুক্তি ও আন্ডারওয়াটার ব্যবস্থার ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। তবে নির্দিষ্টভাবে পুরো অপারেশন কীভাবে হয়েছে, কতগুলি মাইন সরানো হয়েছে বা এক রাতেই সম্পূর্ণ কাজ শেষ হয়েছে, এই দাবিগুলির সবকটির স্বাধীন যাচাই মেলেনি। তাই সেগুলিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বলা যাচ্ছে না।
বরং হরমুজের পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্পের দাবির সঙ্গে মাঠের বাস্তবতারও পার্থক্য রয়েছে। একদিকে ট্রাম্প বলছেন জলপথ খোলা ও সচল, অন্যদিকে বিভিন্ন রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এখনও ব্যাপকভাবে ব্যাহত। ১৮ অগস্ট একটি বাণিজ্যিক জাহাজ ওমানের জলসীমায় অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরও পাওয়া যায়। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইরান-ওমান আলোচনাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল ফের স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা চলছিল। সেই উদ্যোগে অসন্তুষ্ট ট্রাম্প ওমানকে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেন। ১৭ অগস্ট Fox News-কে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ওমান যদি এই প্রক্রিয়ায় বাধা দেয়, তাহলে আমেরিকা হামলা চালাতে পারে।
ট্রাম্পের হরমুজ-দাবির পাল্টা জবাবও এসেছে ইরানের তরফে। ইরানের সরকারি কূটনৈতিক অ্যাকাউন্ট ‘Iran in Hyderabad’ আমেরিকার একটি ম্যাপ পোস্ট করে ক্যালিফোর্নিয়াকে নীল রঙে চিহ্নিত করে তার ওপরে লিখেছে—‘NEW TERRITORY OF ISLAMIC REPUBLIC OF IRAN’। অর্থাৎ, ক্যালিফোর্নিয়াকেই ইরানের ‘নতুন অঞ্চল’ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
এই পাল্টা ম্যাপ আসলে একটি ব্যঙ্গাত্মক বার্তা। কারণ ক্যালিফোর্নিয়া, বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকায়, বড় ইরানি-আমেরিকান জনসংখ্যা রয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের ইরানি অধ্যুষিত এলাকাকে দীর্ঘদিন ধরেই ‘Tehrangeles’ বলা হয়। ইরানের কূটনৈতিক অ্যাকাউন্টের পোস্ট তাই ট্রাম্পের হরমুজকে আমেরিকার ভূখণ্ড বলার দাবিকে ব্যঙ্গ করার পাশাপাশি ক্যালিফোর্নিয়ার সঙ্গে ইরানি সংস্কৃতির গভীর সম্পর্ককেও তুলে ধরেছে।
ফলে হরমুজ নিয়ে শুধু সমুদ্রপথের লড়াই নয়, সোশ্যাল মিডিয়াতেও শুরু হয়েছে এক অভিনব পাল্টাপাল্টি। একদিকে ট্রাম্পের ম্যাপে হরমুজ ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’, অন্যদিকে ইরানের পাল্টা ম্যাপে ক্যালিফোর্নিয়া ‘ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরানের নতুন অঞ্চল’। আর এই ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, হরমুজের ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ করবে কে? কারণ এই জলপথের গুরুত্ব শুধু ইরান, ওমান বা আমেরিকার জন্য নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে গোটা বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য। বর্তমানে ট্রাম্পের দাবি, আমেরিকা হরমুজকে নিয়ন্ত্রণ করছে। কিন্তু ইরান সেই দাবি মেনে নেয়নি এবং জলপথ নিয়ে সংঘাতও শেষ হয়নি।

