পাকিস্তানের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পাচ্ছেন ভারতের দুই চিকিৎসক! জানেন কেন?
মুম্বইয়ের এক পরিবারের কাছে ১৩ অগাস্ট সকালে আসা একটি ফোন ঘিরে তৈরি হয়েছিল চাঞ্চল্য। ফোনের ওপারে এক মহিলা নিজেকে ভারতের পাকিস্তান দূতাবাসের ডেপুটি হাইকমিশনার হিসেবে পরিচয় দিয়ে জানান, পরিবারের সদস্যদের জন্য পাকিস্তানের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘নিশান-এ-ইমতিয়াজ’ ঘোষণা করা হয়েছে। পাক প্রেসিডেন্ট তাঁদের হাতে এই সম্মান তুলে দেবেন বলেও জানানো হয়। খুব শীঘ্রই পাকিস্তান হাইকমিশনের প্রতিনিধিরা তাঁদের বাড়িতে গিয়ে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র তুলে দেবেন বলে জানানো হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি শুনে ওই পরিবারের গৃহকর্ত্রীর সন্দেহ হয়। পাকিস্তান সরকারের কাছ থেকে এমন সম্মান পাওয়ার কোনও কারণ তাঁরা বুঝতে পারছিলেন না। তাই স্বামী ও ছেলেকে বিষয়টি জানানোর পর সরাসরি থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন তিনি।
মুম্বইয়ের এক পরিবারের কাছে ১৩ অগাস্ট সকালে আসা একটি ফোন ঘিরে তৈরি হয়েছিল চাঞ্চল্য। ফোনের ওপারে এক মহিলা নিজেকে ভারতের পাকিস্তান দূতাবাসের ডেপুটি হাইকমিশনার হিসেবে পরিচয় দিয়ে জানান, পরিবারের সদস্যদের জন্য পাকিস্তানের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘নিশান-এ-ইমতিয়াজ’ ঘোষণা করা হয়েছে। পাক প্রেসিডেন্ট তাঁদের হাতে এই সম্মান তুলে দেবেন বলেও জানানো হয়। খুব শীঘ্রই পাকিস্তান হাইকমিশনের প্রতিনিধিরা তাঁদের বাড়িতে গিয়ে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র তুলে দেবেন বলে জানানো হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি শুনে ওই পরিবারের গৃহকর্ত্রীর সন্দেহ হয়। পাকিস্তান সরকারের কাছ থেকে এমন সম্মান পাওয়ার কোনও কারণ তাঁরা বুঝতে পারছিলেন না। তাই স্বামী ও ছেলেকে বিষয়টি জানানোর পর সরাসরি থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন তিনি।
পুলিশও বিষয়টিকে হালকাভাবে নেয়নি। প্রাথমিক অভিযোগ নথিভুক্ত করে তা ডেপুটি কমিশনারের দফতরে পাঠানো হয়। এরপর মুম্বই পুলিশের বিশেষ শাখা খোঁজখবর শুরু করলে সামনে আসে আসল ঘটনা। ফোনটি সত্যিই পাকিস্তান হাইকমিশন থেকেই করা হয়েছিল। কূটনৈতিক রীতি মেনে ১৪ অগাস্ট ওই পরিবারের বাড়িতে প্রতিনিধিদের যাওয়ার কথা রাজ্য প্রশাসনকেও জানানো হয়েছিল। তবে সেই তথ্য পুলিশের কাছে পৌঁছয়নি। পরে ১৪ অগাস্ট সকালে মুম্বইয়ের পুলিশ কমিশনার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান, কিছুক্ষণের মধ্যেই পাকিস্তান হাইকমিশনের প্রতিনিধিরা তাঁদের বাড়িতে আসবেন এবং সম্মানের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র তুলে দেবেন।
আসলে এই সম্মান কোনও জীবিত পরিবারের সদস্যকে নয়, মুম্বইয়ের দুই প্রয়াত পার্সি চিকিৎসককে দেওয়া হচ্ছে। তাঁরা হলেন চিকিৎসক ডঃ জাল রতনজি প্যাটেল এবং রেডিওলজিস্ট ডঃ জাল ধায়ভো-কু। পাকিস্তান তাঁদের মরণোত্তরভাবে ‘নিশান-এ-ইমতিয়াজ’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী বছর পাকিস্তান ডে-তে ইসলামাবাদে দুই চিকিৎসকের পরিবারের হাতে এই সম্মান তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।
এই সম্মানের পিছনে রয়েছে প্রায় আট দশক আগের এক গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস। দেশভাগের আগে মহম্মদ আলি জিন্নার চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এই দুই ভারতীয় চিকিৎসক। ১৯৪৬ সালে জিন্নার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁর পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং এক্স-রে থেকে তাঁর যক্ষ্মা গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। চিকিৎসকদের আশঙ্কা ছিল, তাঁর আয়ু খুব বেশি হলে এক থেকে দুই বছর। জিন্নাকেও তাঁর শারীরিক অবস্থার গুরুতরতা জানানো হয়েছিল।
সেই সময় ভারতীয় রাজনীতিতে পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত উত্তপ্ত। মুসলিম লীগের পৃথক রাষ্ট্রের দাবি, কংগ্রেসের সঙ্গে রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং দেশভাগের সম্ভাবনা, সব মিলিয়ে জিন্নার শারীরিক অবস্থার খবর প্রকাশ্যে এলে তার রাজনৈতিক প্রভাব পড়তে পারত। তাই জিন্না তাঁর অসুস্থতার কথা গোপন রাখার অনুরোধ করেছিলেন বলে জানা যায়। দুই চিকিৎসক সেই গোপনীয়তা বজায় রাখেন। তাঁদের অবস্থান ছিল, রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য চিকিৎসকের নৈতিক দায়িত্বের কারণে গোপন রাখা জরুরি।
জিন্নার জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত দুই চিকিৎসক তাঁর অসুস্থতার কথা প্রকাশ করেননি। তাঁদের পরিবারও দীর্ঘদিন এই ঘটনার বিস্তারিত জানত না। পরে জিন্নার ব্যক্তিগত নথি ও ডায়েরি পাকিস্তানি প্রশাসনের হাতে পৌঁছনোর পর তাঁর চিকিৎসা এবং এই দুই চিকিৎসকের ভূমিকার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। এমনকী জিন্নার জীবনীকার, পাকিস্তানি ঐতিহাসিক এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের কাছেও এই দুই ভারতীয় চিকিৎসকের ভূমিকা দীর্ঘদিন অজানা ছিল।
পাকিস্তানের পরিকল্পনা ও উন্নয়নমন্ত্রী এহসান ইকবাল জানিয়েছেন, জিন্নাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি দুই চিকিৎসক শেষ পর্যন্ত অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছিলেন। সেই কারণেই তাঁদের এই সম্মান দেওয়া হচ্ছে।এই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দেশভাগের ইতিহাসের একটি বহুল আলোচিত প্রশ্নও। দেশভাগের পর জিন্নার অসুস্থতার কথা জানতে পেরেছিলেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন। কথিত আছে, আগে জানা থাকলে পরিস্থিতি হয়তো অন্যরকম হতে পারত। যদিও ইতিহাসে ‘যদি’ বা ‘হয়তো’র কোনও নিশ্চিত উত্তর নেই, তবু দুই চিকিৎসক যদি সেই সময় জিন্নার অসুস্থতার কথা প্রকাশ করতেন, তাহলে ভারতের ইতিহাস এবং দেশভাগের গতিপথ অন্যরকম হত কি না সেই প্রশ্ন আজও আলোচনার জন্ম দেয়।
প্রায় ৭৯ বছর পর পাকিস্তানের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান সেই দুই ভারতীয় চিকিৎসকের পরিবারকে ফিরিয়ে দিচ্ছে ইতিহাসের এক বিস্মৃত অধ্যায়ের স্বীকৃতি।
পাকিস্তানের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পাচ্ছেন ভারতের দুই চিকিৎসক!
নেই আধার-রেশন কার্ড! দিনে একবারই জোটে খাবার পুরুলিয়ার শবর টোলায়
খোলা আকাশের নীচেই চলে রান্না! কিলবিল করছে পোকা...কী হাল ICDS কেন্দ্রের
জল-জঙ্গল, সাপের ভয়...তার মধ্যেই চলছে স্কুল! ব্যান্ডেলে ভয়াবহ পরিস্থিতি

