Oil Crisis: এবার ‘নিলাম’ হবে তেলের? কত দামে কিনতে হবে ভারতকে?
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো আবার ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে অপরিশোধিত তেলের দাম। ইরানকে ঘিরে সংঘাত শুরুর পর মাত্র আট দিনের মধ্যে তেলের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে থামবে, তা নিয়ে এখনই কোনও স্পষ্ট পূর্বাভাস দিতে পারছে না তেল সংস্থাগুলি। এরই মধ্যে ইজরায়েলের হামলায় ইরানের একটি তেল খনি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শনিবার রাতে তেহরানের একটি তেল খনিতে হামলা চালায় ইজরায়েলি বাহিনী। ওই খনি চত্বরে প্রায় ৩০টি তেল ডিপো ছিল। হামলার পরই সেখানে ভয়াবহ আগুন লাগে এবং একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো আবার ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে অপরিশোধিত তেলের দাম। ইরানকে ঘিরে সংঘাত শুরুর পর মাত্র আট দিনের মধ্যে তেলের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে থামবে, তা নিয়ে এখনই কোনও স্পষ্ট পূর্বাভাস দিতে পারছে না তেল সংস্থাগুলি। এরই মধ্যে ইজরায়েলের হামলায় ইরানের একটি তেল খনি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শনিবার রাতে তেহরানের একটি তেল খনিতে হামলা চালায় ইজরায়েলি বাহিনী। ওই খনি চত্বরে প্রায় ৩০টি তেল ডিপো ছিল। হামলার পরই সেখানে ভয়াবহ আগুন লাগে এবং একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটে।
সংবাদসংস্থা রয়টার্সের দাবি, এই হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন থেকে তেল আভিভে কড়া বার্তা পাঠানো হয়। ইজরায়েলের পক্ষ থেকে আগে জানানো হয়েছিল, তেলের খনির একটি নির্দিষ্ট অংশে মিসাইলে জ্বালানি ভরা হচ্ছিল এবং কেবল সেই জায়গাটিকেই লক্ষ্য করে হামলা করা হবে। কিন্তু বাস্তবে দূরপাল্লার মিসাইল ব্যবহার করে গোটা খনি ও তেল শোধনাগারই ধ্বংস করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ৩০টি তেল ডিপোয় আগুন ধরে যায়। রয়টার্সের এক প্রতিনিধি জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের জেরে বহু উঁচু ট্যাঙ্ক থেকে তেল ছিটকে পড়ছিল এবং তেহরানে যেন ‘তেলের বৃষ্টি’ হচ্ছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইজরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চাপা উত্তেজনার খবরও সামনে এসেছে।
অন্যদিকে ইরানের অভ্যন্তরেও রাজনৈতিক টানাপোড়েন বাড়ছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেস্কিয়ান এবং প্রভাবশালী নেতা আলি লারিজানির মধ্যে মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। লারিজানি প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেইয়ের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ছিলেন এবং প্রশাসনিক পদমর্যাদায় তাঁর অবস্থান চতুর্থ। প্রেসিডেন্ট পেজেস্কিয়ান প্রশাসনিক কাঠামোয় দ্বিতীয় স্থানে। সূত্রের খবর, পেজেস্কিয়ান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার পক্ষে ছিলেন। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর মাধ্যমে কূটনৈতিক যোগাযোগের চেষ্টা চালাচ্ছিলেন তিনি। প্রতিবেশী দেশগুলিতে হামলার জন্য সীমিত অনুমতি চাওয়া এবং নতুন করে হামলা না করার আশ্বাস, এমন বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছিল।
তবে খামেনেই ঘনিষ্ঠ লারিজানি এখনও কোনও শান্তি আলোচনা বা সমঝোতার পক্ষে নন। শনিবার ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকে পেজেস্কিয়ানকে একাধিক প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হয়, তিনি একা কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না এবং সুপ্রিম কাউন্সিলের অনুমতি নিয়েই সব সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এদিন সুপ্রিম কাউন্সিল আনুষ্ঠানিকভাবে খামেনেইয়ের ছেলে মুজতবাকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তিনিও আপাতত শান্তি আলোচনায় আগ্রহী নন।
এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। সৌদি আরব এবং বাহরিনের বিভিন্ন এলাকায় আত্মঘাতী ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। বাহরিনের সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগারে উৎপাদন আপাতত বন্ধ। তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় এখনও ঘনঘন মিসাইল হামলার শব্দ শোনা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। রাশিয়া ভারতকে তেল বিক্রি করতে আগ্রহী হলেও তারা নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চাইছে। রুশ তেলবাহী জাহাজের উপর কোনও হামলা হবে না, এই গ্যারান্টি চাওয়া হয়েছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই নিশ্চয়তা দেওয়ার মতো নির্দিষ্ট কোনও পক্ষ সামনে নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খুব দ্রুত কোনও সমাধান না বেরোলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে এবং তার প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতিতেও।