
বাগডোগরা: গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনি। বাগডোগরায় গণপিটুনিতে মৃত্যু দুইজনের। জানা গিয়েছে, গরু চোর সন্দেহে গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়, ভাঙচুর করা হয় দুটি গাড়ি। গুরুতর আহত ২। আটক করা হয়েছে এক পাচারকারীকে। তবে এখনও গণপিটুনিতে কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি বলেই জানা গিয়েছে।
শনিবার ভোররাতে গরু চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে মৃত্যু হয় দুইজনের। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আজ ভোররাতে পিকআপ গাড়ি নিয়ে গরু চুরি করতে বাগডোগরার তারাবাড়ি এলাকায় আসে ৫ জন। তাঁরা এলাকায় ঢুকতেই টের পান স্থানীয় বাসিন্দারা। দুষ্কৃতীরা গরু চুরি করে গাড়িতে ওঠাতে গেলে, তাদের আটক করা হয়।
পরে চারচাকায় আরও দুই দুষ্কৃতী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। তাঁরা আসতেই স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের ধরে নেয়। বেঁধে উদুম মারধর চলে। দুষ্কৃতীদের আনা পিকআপ গাড়িটিও আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। মারধরে মৃত্যু হয় একজন দুষ্কৃতীর। তিনজনকে পাকড়াও করে মাটিগাড়া ও বাগডোগরা থানার পুলিশ। তাঁদের উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় চিকিৎসার জন্য। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে আরও একজনের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন বাকি দুইজন।
যদিও মৃত ব্যক্তির পরিবারের দাবি, গরু পাচারকারী নয়, তিনি গরুর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিগত ১০ বছর ধরে তিনি এই ব্যবসা করছেন। তাদের ধরার পরও পুলিশকে ডাকা হয়নি। বরং আইন হাতে তুলে নিয়ে গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলা হয়। গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পরিবারের তরফে ইতিমধ্যেই পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মৃত ব্যক্তিরা উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম গাড়িটি আটকে যাওয়ায় বিপদ বুঝে আরও একটি গাড়িকে ডাকেন আক্রান্ত পাচারকারীরা। সেই গাড়িটিও ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। গোটা ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। পাচারকারী সন্দেহে একজনকে আটক করেছে পানিঘাটা ফাঁড়ির পুলিশ।
এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া দিয়ে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “অত্যন্ত সেন্সেটিভ বিষয়। উদ্বেগজনক ঘটনা। ঘটনাটি খতিয়ে দেখে তদন্ত করা উচিত।”
সিপিআইএম নেতা শতরূপ ঘোষ বলেন, “যে জিনিসগুলি ঘটবে বলে আশঙ্কা করেছিলাম আমরা, সেটাই হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে গরুচোর সন্দেহে পিটিয়ে মারা হচ্ছে। অর্ধনগ্ন মানুষদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাঙচুর, আগুন লাগনো হচ্ছে। রাতের অন্ধকারে পার্টি অফিস ভাঙচুর করা হচ্ছে। মধ্যযুগ ফিরে এসেছে।”
বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “গত ১৫ বছর ধরে যেভাবে একতরফাভাবে আইন বলে কিছু ছিল না, তার বহমানতা রয়ে গিয়েছে। মানুষকে অনুরোধ করব, আইন হাতে তুলবেন না। তদন্ত করে বিচার করা হবে। গণপিটুনির মতো ঘটনা-এই জিনিস বন্ধ করতে হবে। সরকার এই বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখবে।”