
আলিপুরদুয়ার: এক সপ্তাহ আগেই নেশামুক্তি কেন্দ্রে এনে রাখা হয়েছিল। নেশামুক্তি কেন্দ্রে বেঁধে রাখা হত তাঁকে। আর সেখানেই অসমের ওই ব্যক্তিকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল। আটক করা হয়েছে নেশামুক্তি কেন্দ্রের কর্ণধারকে। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল আলিপুরদুয়ারে।
মৃত ব্যক্তির নাম আশরাফুল হক (৩৯)। তিনি অসমের সরকারি কর্মচারী ছিলেন। অসমের গোলকগঞ্জ জেলাশাসকের দফতরের কর্মী ছিলেন। কিন্তু, অতিরিক্ত মদ্যপান করতেন। তাঁর মদের নেশা ছাড়াতেই পরিবারের লোকজন গত ১ মার্চ আলিপুরদুয়ার চৌপথি লাগোয়া একটি নেশামুক্তি কেন্দ্রে ভর্তি করেন।
গতকাল রাতে নেশামুক্তি কেন্দ্রে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, মারধর করে আশরাফুল হককে মেরে ফেলা হয়েছে। মৃত ব্যক্তির ভাই আনিসুর হক বলেন, “দাদা মদের নেশায় আসক্ত ছিলেন। কিন্তু সুস্থ ছিলেন। আমরা ১ মার্চ এখানে দাদাকে ভর্তি করি। দাদা, নিজে হেঁটেই নেশামুক্তি কেন্দ্রে ঢুকেছিলেন। ঘটনার দিন দুপুরেও নেশামুক্তি কেন্দ্রে ফোন করেছি। আমাদের বলা হয়, দাদা ভালো রয়েছেন। ওষুধ খাচ্ছেন। তারপর ভোরের দিকে আমাদের জানানো হয়, দাদার মৃত্যু হয়েছে। কেন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা আমাদের জানানো হল না। দাদাকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। আমি আলিপুরদুয়ার থানায় অভিযোগ জানিয়েছি। সুস্থ মানুষ এভাবে আচমকা মারা যেতে পারেন না। আমরা ঘটনার তদন্ত দাবি করছি। ওর শরীরে মারধরের বিভিন্ন দাগ রয়েছে।”
এদিকে নেশামুক্তি কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা রাজদীপ পাল বলেন, “আমরা কিছুই করিনি। এই সব রোগীদের বেঁধে রাখতে হয়। তাঁকেও বেঁধে রাখা হয়েছিল। আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাতে পাশের রোগী আমাদের জানান। আমরা হাসপাতালে নিয়ে যাই। তদন্ত হলে সব বেরিয়ে আসবে।” অভিযোগ পাওয়ার পর রাজদীপ পালকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে তারা।