
মালদহ: তৃণমূলের রাজ্যপাঠ চুকেছে। ভেঙেছে দল। আপাতত হারিয়েছে নাম-প্রতীকও। তবে, এখনও পঞ্চায়েত স্তরে ক্ষমতায় রয়েছে তৃণমূল। আর সেই তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতেই দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। বিজেপি করার জন্য অনেকে আবাস যোজনার (Awas Yojana) সুবিধা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। চলছে তৃণমূলের ‘দাদাগিরি’। টাকা না দিলে আবাসের সমীক্ষা করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ। মালদহের (Malda News) হরিশ্চন্দ্রপুর (Harishchandrapur) ১ নং ব্লকের রশিদাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের পেমা বাহাদুরপুর এলাকার ঘটনা।
হরিশচন্দ্রপুরের রশিদাবাদে তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতের প্রধান এবং পঞ্চায়েত কর্মীর বিরুদ্ধে আবাস যোজনার সমীক্ষায় চক্রান্ত ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত উপভোক্তা হওয়া সত্ত্বেও বেছে বেছে বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে সমীক্ষা করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ। হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নং ব্লকের বিডিওর কাছে অভিযোগ করেও কোনও সুরাহা হয়নি বলে অভিযোগ।
জানা গিয়েছে,ওই এলাকায় প্রায় ১০ জন উপভোক্তার কাঁচা মাটির বাড়ি রয়েছে। প্রত্যেকেই দিন আনা দিন খাওয়া পরিবার। তাঁদের মধ্যে অনেকে বিজেপি করেন বলে জানা গিয়েছে। আবাস যোজনার ঘরের জন্য আবেদন করেছিলেন তাঁরা। তৃণমূল আমলে ঘর পাননি। তবে, রাজ্যে পালাবদলের পর আশা করেছিলেন এবার তাঁরা ঘর পাবেন। কিন্তু অভিযোগ, রাজ্যে যখন ক্ষমতায় ছিল তৃণমূল, সেই সময়ও আবাস যোজনার সমীক্ষার জন্য টাকা চাইতেন পঞ্চায়েত কর্মী মুন্না চৌধুরী। রাজ্যে পালাবদলের পরও পরিস্থিতির বদল ঘটেনি। এখনও তিনি কাটমানি চাইছেন বলে অভিযোগ। সবটাই হচ্ছে তৃণমূল প্রধানের নির্দেশে। এমনই অভিযোগ তুলছেন ওই বিজেপি কর্মী তথা আবাস যোজনার উপভোক্তারা।
বিজেপি কর্মীদের আরও অভিযোগ, পাকা বাড়ি থাকা সত্ত্বেও এমন অনেকে রয়েছেন, যাঁদের নাম আবাসের তালিকায় রয়েছে। অভিযোগ, যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও, তাঁদের বাড়িতে কোনও সমীক্ষা হচ্ছে না। শুধুমাত্র বিজেপি করার জন্য টাকা না দেওয়ার চক্রান্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। ঘটনায় হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নং ব্লক প্রশাসনের কাছে সম্মিলিতভাবে অভিযোগ দায়ের করেছেন তাঁরা। কিন্তু তারপরেও কোনও সুরাহা হয়নি বলে অভিযোগ।
গোটা বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ‘বঞ্চিত’ উপভোক্তারা। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁদের আবেদন, আবাস যোজনার সমীক্ষা যেন সঠিকভাবে করা হয়। যারা কাটমানি নিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে যেন কড়া পদক্ষেপ করা হয়। বিজেপি উপভোক্তাদের অভিযোগ মেনে নিয়েছেন বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার জেলার সাধারণ সম্পাদকও। যদিও, তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি সমীক্ষায় অনিয়মের জন্য ব্লক প্রশাসনের গাফিলতি রয়েছে। সমীক্ষা নিয়ে কিছুই তিনি জানেন না।
উল্লেখ্য, রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, দুর্নীতি কোনওভাবে বরদাস্ত করা হবে না। কেন্দ্রীয় সরকারের সব প্রকল্পের সুবিধা পাবেন রাজ্যবাসী। রাজ্যে কাটমানি, সিন্ডিকেটরাজ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। টোল ফ্রি নম্বরও চালু করা হয়েছে।