
কলকাতা: কাল হল ডিম ভর্তি গুজরাটের ইলিশ বাংলাদেশে পাঠানো। সেই আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল বাংলাদেশ সরকার। পাশাপাশি পদ্মার ইলিশ এদেশে পাঠানোর ছাড়পত্রও মেলেনি। তাই পুজোর আগে কলকাতায় পদ্মার রূপালী শস্য আসার সম্ভাবনা কম।
এবছর পুজোর আগে ওপার বাংলার পদ্মার রুপোলি ইলিশ আসার সম্ভাবনা কমে গেল। ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি সৈয়দ আনোয়ার মকসুদ জানিয়েছেন যে তারা ইলিশের জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে আবেদন করলেও, এখনও পর্যন্ত কোনও অনুমতি পাওয়া যায়নি। উল্টে ভারতের গুজরাট থেকে বাংলাদেশ যে ডিম ভর্তি ইলিশ আমদানি করছিল, তাও বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে।
২০১৩ সালে তৎকালীন বাংলাদেশের শেখ হাসিনা সরকার ভারতে ইলিশ রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তখন থেকে পদ্মার ইলিশ রফতানি কার্যত বন্ধ ছিল। ওপার বাংলার সুস্বাদু ইলিশের স্বাদ থেকে বহুদিন বঞ্চিত ছিল এপার বাংলার আপামর বাঙালি। পরে ২০১৮ সালে দু’দেশের সরকারের মধ্যে কুটনৈতিক স্তরে আলোচনার মাধ্যমে সেদেশের ইলিশ রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। ওই বছর থেকে বাংলাদেশ সরকার প্রতি বছর দুর্গা পূজোর আগে কলকাতায় উপহার হিসেবে পাঠাতে শুরু করে প্রচুর পরিমাণ ইলিশ। গত সাত বছর ধরে এটাই ছিল দস্তুর। এমনকী, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়ার পরেও ওই দেশের অন্তর্বর্তী সরকার একইভাবে ইলিশ রফতানি বজায় রেখেছিল। কিন্তু এবার তারেক রহমানের সরকারের আমলে সেই সম্ভাবনা কমে গেল।
রাজনৈতিক পালাবদলের পর বাংলাদেশে নতুন সরকার এসেছে। এবারেও ইলিশ আমদানির জন্য কলকাতার ফিশ ইমপোর্টার্স এসোসিয়েশনের একটি প্রতিনিধি দল অগস্ট মাসে ঢাকা যায়। বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য দফতরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইলিশ আমদানি নিয়ে আলোচনায় বসেন। সেখানে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় এবারেও বাংলাদেশি ইলিশ পাঠানো হবে।
অগস্ট এবং সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশের মাছ ব্যবসায়ীরা গুজরাট থেকে ৫৫০ মেট্রিক টন ডিম ভর্তি ইলিশ আমদানি করে। এতেই পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বুধবার বাংলাদেশ সরকার এদেশ থেকে ইলিশ আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ বলেন, “আমরা আশা রেখেছিলাম যে বাংলাদেশের ইলিশ আসবে। বাংলাদেশ সরকার ভারত থেকে ইলিশ আমদানি করার পারমিট বাতিল করে দিয়েছে। আর হাতে সময় নেই। আগামী ৮ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশ সরকার সমুদ্রে ইলিশ মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তাই এবারে পুজোর সময় ইলিশের সুস্বাদু পদ থেকে বঞ্চিত থাকতে পারে আম বাঙালি।”