
বাঁকুড়া: বেতনে চলে না সংসার, উল্টে বাড়ছে বাড়ছে বকেয়া। তাতেই ক্ষোভে ফুঁসছেন আশাকর্মীরা। স্বাস্থ্য আধিকারিকের দফতরে তুমুল বিক্ষোভ। উত্তেজনা বাঁকুড়ায়। ৩ থেকে ৫ মাসের বকেয়া ভাতা প্রদান, মাসিক ভাতা বৃদ্ধি করে ১৫ হাজার টাকা করা, কর্মরত অবস্থায় মৃত আশা কর্মীদের পরিবারকে এককালীন ৫ লক্ষ টাকা দেওয়া সহ মোট ৭ দফা দাবিতে এদিন বাঁকুড়া জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের দফতরে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন আশা কর্মীরা। অবিলম্বে দাবি পূরণ না হলে আগামীদিনে সমস্ত কাজ বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দিলেন আন্দোলনকারীরা। শোরগোল প্রশাসনিক মহলের অন্দরে।
এদিকে গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিসেষার ক্ষেত্রে আশা কর্মীদের গুরুত্ব বিগত কয়েক বছরে গুরুত্ব অনেকটাই বেড়েছে। সরকারি বিভিন্ন টিকা কর্মসূচি থেকে শুরু করে গর্ভবতীদের প্রসব নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমীক্ষার দায়িত্ব থাকে এই আশা কর্মীদের কাঁধে। তথ্য় বলছে শুধুমাত্র বাঁকুড়া স্বাস্থ্য জেলাতেই এই আশা কর্মীর সংখ্যা ১৬০০ কাছাকাছি। কিন্তু, আশা কর্মীদের অভিযোগ, কাঁধে গুরু দায়িত্ব থাকলেও তাঁদের সুবিধা-অসুবিধার কথা গুরুত্ব দিয়ে দেখে না প্রশাসন।
আন্দোলনকারী আশা কর্মীরা বলছেন সারা মাস কাজ করার পর ভাতা হিসাবে তাঁরা পান মাত্র ৫২৫০ টাকা। সেই ভাতাও বকেয়া পড়ে রয়েছে ৩ থেকে ৫ মাস। তাই বাজেট এগোতেই বাড়ছিল আশা। আন্দোলনকারীরা বলছেন এবার কেন্দ্র ও রাজ্যের বাজেটে কিছুটা হলেও পরিস্থিতির বদল হবে বলে তাঁরা আশা করেছিলেন। কিন্তু সে গুড়ে বালি। এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে আশা কর্মীদের ভাতা বৃদ্ধি করে মাসিক ১৫ হাজার টাকা করা, নিয়মিত ভাতা প্রদান করা ও কর্মরত অবস্থায় মৃত আশা কর্মীদের এককালীন ৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার দাবিতে আজ বাঁকুড়া স্বাস্থ্য জেলার মূখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের দফতরে বিক্ষোভ দেখান আশা কর্মীরা। এরপরেও দাবী পূরণ না হলে জেলাজুড়ে কাজ বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা। এখন দেখার শেষ পর্যন্ত জল কোনদিকে গড়ায়।