
জয়পুর: খেলতে যাবে, পড়তে না। বিকালে খেলার সময়ে টিউশন পড়তে যেতে চায়নি ছোট্ট ইন্দ্রজিৎ দিগর। কিন্তু, ছোট্ট ছেলেটার বায়না শোনেনি পরিবারের লোকজন। টিউশন যাওয়ার জন্য বকাঝকাও করা হয় বলে পরিবার সূত্রে খবর। কিন্তু, কে জানতো তাতেই চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে নেবে বছর নয়-দশের ছেলেটা। অভিমানে বাড়িতেই গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হল চতুর্থ শ্রেণীর ওই পড়ুয়া। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে জয়পুর থানার কারকবেড়িয়া গ্রামে। শোকের ছায়া গোটা এলাকায়।
এলাকার লোকজন বলছেন, ছোট থেকেই ইন্দ্রজিৎ দিগরের খেলাধুলার প্রতি প্রবল আগ্রহ। গতকাল বিকালে স্কুল থেকে বাড়িতে ফিরে টিউশনে না গিয়ে মাঠে খেলতে যাওয়ার বায়না ধরে। কিন্তু তা মানতে পারেননি পরিবারের লোকজন। এতেই ইন্দ্রজিৎকে বকাঝকা কর হয়। এরপরেও ইন্দ্রজিৎ টিউশন না গিয়ে মাঠে খেলতে চলে যায়। পরিবারের লোকজনও কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে পরিবারের লোকজন ছেলেকে দেখতে পেয়ে খোঁজ শুরু করে। পরে নিজেদের বাড়িতেই ইন্দ্রজিৎকে গলায় গামছার ফাঁস লাগিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের লোকজন। খবর ছড়াতেই শোরগোল পড়ে যায় পাড়ায়।
তড়িঘড়ি গলার ফাঁস খুলে ইন্দ্রজিৎকে কোতুলপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। সেখানেই তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। পুলিশ মৃতদেহটি এদিন ময়নাতদন্তের জন্য বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে। কান্না রোল গোটা পরিবারের, পাড়ার প্রিয় ছেলেটা যে এভাবে চলে যাবে তা মানতে পারছেন না প্রতিবেশীরা।