
বাঁকুড়া: রাজনৈতিক ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে চাকরি দেওয়ার নাম করে নগদ অর্থ চেয়েছিলেন একই পরিবারের দুই চাকরীপ্রার্থীর কাছে। নগদ মোটা অঙ্কের টাকা দিতে না পারায় পরিবারের শেষ সম্বল সাড়ে ৬ বিঘে তিন ফসলি জমি লিখিয়ে নিয়েছিলেন তৃণমূল নেতা। কিন্তু চাকরি আর মেলেনি। রাজ্যে পালাবদলের পর এলাকার উত্তেজিত জনতা আজ হামলা চালিয়ে ব্যপক ভাঙচুর চালালো তৃণমূল নেতার বাড়িতে। ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়ার পাত্রসায়ের থানার বালসি গ্রামে।
বাঁকুড়ার পাত্রসায়ের থানার বালসী গ্রামের দাপুটে তৃণমূল নেতা হিসাবেই পরিচিত ছিলেন নবকুমার পাল। তৃণমূলের ক্ষেতমজুর সংগঠনের পাত্রসায়ের ব্লক সভাপতি এই নবকুমার পাল নিজের রাজনৈতিক ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে তৃণমূল আমলে ব্যপক তোলাবাজি থেকে শুরু করে চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা তোলার কাজে রীতিমতো হাত পাকিয়েছিলেন।
সাধারণ কৃষিজীবী পরিবার থেকে উঠে আসা নবকুমার পাল বালসি গ্রামে তৈরি করেছিলেন বিশাল প্রাসাদোপম বাড়ি। সম্প্রতি রাজ্যে পালাবদলের পর স্থানীয় এক যুবক অভিযোগ করেন তাঁর পরিবারের দুই চাকরীপ্রার্থীকে চাকরী দেওয়ার নাম করে সাড়ে ৬ বিঘে উর্বর জমি নিজের নামে করেছেন নবমুকার পাল। সেই জমির উপর নবকুমার বিশাল বাড়ি তৈরী করে বাগানবাড়ি তৈরির পরিকল্পনা করেছিলেন বলেও অভিযোগ।
ঘটনার কথা জানাজানি হতেই আজ এলাকার মানুষের রোষ আছড়ে পড়ে নবকুমার পালের বালসি গ্রামের বাড়িতে। উত্তেজিত জনতা ভেঙে ফেলে বাড়ির জানালার কাচ। নবকুমার পাল বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলে তাঁকেও হালকা মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। নবকুমার পালের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমলেও সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই তৃণমূল নেতা।